রাউটার
Router
শব্দটি ইংরেজি
'Route'
শব্দ থেকে এসেছে।
এই শব্দের অর্থ হলো- পথ। রাউটার হলো- পথ প্রদর্শক।
সাধারণ অর্থে ট্র্যাফিক সঙ্কেতজ্ঞাপক যে কোন মাধ্যম রাউটার হতে পারে। এর মধ্যে
ট্রাফিক পুলিশও হতে পারে। হতে পারে পথ চেনানোর জন্য কোনো ব্যক্তি বিশেষ। কিন্তু
বাস্তবে এদেরকে রাউটার বলা হয় না।
মূলত এই শব্দটি পথপ্রদর্শক হিসেবে ইংরেজি ভাষা ১৭০০-১৮০০ খ্রিষ্টব্দের ভিতরে
প্রচলিত ছিল। ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে দিকে ইংরেজি অভিধানে
'Router' শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, যার
দ্বারা কাঠ খোদাই করার একটি বিশেষ যন্ত্রকে বোঝানো হতো। ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে
'Router' শব্দের অর্থ ছিল "এমন একজন ব্যক্তি যিনি রেলওয়ে বা ডাক বিভাগের মালামাল নির্দিষ্ট পথে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।" অর্থাৎ, আজকের ডিজিটাল রাউটার ঠিক এই কাজটিই ইন্টারনেটের ডেটার জন্য করছে।
১৯৬০-১৯৭০ খ্রিষ্টব্দের ভিতরে কম্পিউটার ভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তিতে, বিশেষ করে
ইন্টারনেটের আদি যুগে রাউটার শব্দ নতুন পারিভাষিক শব্দে রূপ নেয়। শুরুর দিকে আমরা যাকে রাউটার বলি, তাকে বলা হতো
গেটওয়ে
(Gateway)
হতো। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই নামটাই বেশি জনপ্রিয় ছিল। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে (বিশেষ করে
ARPANET প্রজেক্টের সময়) নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা কোন পথে যাবে তা নির্ধারণ করার প্রক্রিয়াকে
রাউটিং
(Routing)
বলা শুরু হয়। সেখান থেকেই এই কাজটি যে যন্ত্র করে তাকে
(Router) বলার প্রচলন শুরু হয়। অর্থাৎ
তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পারিভাষিক শব্দ 'রাউটিং' শব্দটির অর্থ দাঁড়ায়-
যান্ত্রিকভাবে তথ্যে পথপ্রদর্শক যন্ত্র।
তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে, রাউটার হলো সেই যন্ত্র যা ইন্টারনেটের
তথ্যকে তার গন্তব্যে যাওয়ার সঠিক পথ বাতলে দেয়।
এক্ষেত্রে রাউটার। তবে ১৯৭৪-১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে এই সময়ে প্রথম
'IP Router' তৈরি করা হয়। ১৯৭৬
খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে তিনটি
PDP-11 ভিত্তিক রাউটার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। তখন থেকেই প্রযুক্তিবিদদের মাঝে শব্দটি পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নেয়।
-
প্রথম
'IP Router' বিশ্বের প্রথম রাউটারটি
IMP (Interface Message Processor)
নামে পরিচিত ছিল। এটি ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে
ARPANET (যা বর্তমান ইন্টারনেটের পূর্বসূরি) প্রজেক্টের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম রাউটারের মূল ধারণাটি দিয়েছিলেন ওয়েসলি ক্লার্ক
(Wesley Clark)। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হয়ে
BBN Technologies (Bolt, Beranek and Newman) নামক একটি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করে। লরেন্স রবার্টস এবং লিওনার্ড ক্লেইনরক এই প্রজেক্টের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৬৯
খ্রিষ্টাব্দের ৩০ আগস্ট এই রাউটার প্রথম আইএমপি
(IMP) ইউসিএলএ
(UCLA) বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।
প্রথম রাউটারটি দেখতে আজকের মতো ছোট কোনো প্লাস্টিকের বাক্স ছিল না, বরং এটি ছিল এক বিশাল দানবীয় যন্ত্র।
এটি ছিল একটি রেফ্রিজারেটর বা বড় আলমারির সমান।
এটি মূলত একটি
Honeywell DDP-516 মিনি-কম্পিউটারকে পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছিল। তবে এর
সাথে স্ক্রিন বা মনিটর ছিল না, ছিল কেবল কিছু সুইচ এবং লাইট যা দিয়ে এর কার্যক্রম বোঝা যেত।
এটি ছিল অত্যন্ত ভারী এবং শক্তপোক্ত, কারণ এটিকে সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। এতে আজকের মতো কোনো এন্টেনা ছিল না, বরং মোটা ক্যাবল দিয়ে একে বড় বড় হোস্ট কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করা হতো।
১৯৮০-এর দশকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী উইলিয়াম ইয়েগার
(William Yeager) প্রথম 'মাল্টি-প্রটোকল রাউটার' তৈরি করেন। তার এই উদ্ভাবনটিই ছিল বর্তমানের জনপ্রিয় কোম্পানি
Cisco Systems-এর প্রথম পণ্যের ভিত্তি। মজার ব্যাপার হলো, সেই সময় স্ট্যানফোর্ড ক্যাম্পাসে এই রাউটারটি একটি 'ব্লু বক্স'
(Blue Box) হিসেবে পরিচিত ছিল।
রাউটারের মূল উপকরণ
- CPU (প্রসেসর): ডেটা প্রসেস করার জন্য।
- RAM: রাউটিং টেবিল এবং ডেটা সাময়িকভাবে জমা রাখার জন্য।
- OS (অপারেটিং সিস্টেম): যেমন সিসকোর
(Cisco) ক্ষেত্রে
IOS।
রাউটারের কাজ: রাউটার মূলত দুটি প্রধান কাজ করে:
১. লোকাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা: রাউটার ঘরের সব ডিভাইসকে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসে, যাতে ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
২. ডেটা প্যাকেট ফরওয়ার্ডিং: ইন্টারনেট থেকে আসা তথ্যগুলো ছোট ছোট 'প্যাকেট' আকারে আসে। রাউটার এই প্যাকেটগুলোর গন্তব্য ঠিকানা দেখে সেগুলোকে সঠিক ডিভাইসে পাঠিয়ে দেয়।
রাউটারের
আইপি অ্যাড্রেস নির্ধরাণ প্রক্রিয়া
রাউটার মূলত দুটি স্তর
রাউটার মূলত দুটি আইপি অ্যাড্রেস নিয়ে কাজ করে। কাজ দুটু হলো-
- পাবলিক আইপি (Public IP):
এটি আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার
(ISP) থেকে পাওয়া যায়। এটি ইন্টারনেটের কাছে
গ্রাহকের বাড়ির মূল ঠিকানা।
- প্রাইভেট আইপি
(Private IP): এটি রাউটার নিজে তৈরি করে। বাসা
বা কর্মক্ষেত্রে ল্যাপটপ, ফোন বা টিভির জন্য।
রাউটার কিভাবে আইপি বণ্টন প্রক্রিয়া:
একে বলা হয় (DHCP প্রক্রিয়া। রাউটারের ভেতরে একটি বিশেষ সার্ভিস থাকে যার নাম
DHCP (Dynamic Host Configuration Protocol)। এটিই মূলত ডিভাইসের জন্য ইউনিক আইপি অ্যাড্রেস নিশ্চিত করে
কয়েকটি পদ্ধতিতে। যেমন-
- ১. যখনই আপনি ফোনে ওয়াইফাই কানেক্ট করা
হয়। তখন ফোন রাউটারকে একটি সিগন্যাল পাঠায়- "আমার একটি আইপি লাগবে।"
- ২. রাউটার তার কাছে থাকা আইপি-র তালিকা থেকে একটি ফাঁকা আইপি খুঁজে বের করে।
- ৩. রাউটার সেই নির্দিষ্ট আইপিটি ফোনকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধার দেয়।
এক আইপি-তে অনেক ডিভাইস
ইন্টারনেটের জগতে আইপি অ্যাড্রেস (IPv4) সীমিত। তাই রাউটার
NAT (Network Address Translation) প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
কোনো বাসায় ১০টি ডিভাইসের আলাদা আলাদা প্রাইভেট আইপি থাকে (যেমন:
192.168.0.101, 192.168.0.102)। কিন্তু যখন তারা ইন্টারনেটে কিছু
কোনো অনুসন্ধান চালায়, তখন রাউটার সবার তথ্যকে নিজের একটি মাত্র পাবলিক আইপি-র আড়ালে লুকিয়ে ফেলে।
তথ্য ফিরে আসার সময় রাউটার মনে রাখে কোন ডিভাইসের জন্য কোন তথ্যটি এসেছে এবং সেই অনুযায়ী সঠিক ডিভাইসে পৌঁছে দেয়।
রাউটারের নিজস্ব আইপি
(Default Gateway)
রাউটার নিজের জন্য সাধারণত নেটওয়ার্কের প্রথম আইপিটি বরাদ্দ রাখে (যেমন:
192.168.0.1 বা 192.168.1.1)। একে বলা হয়
Default Gateway। বাসার সব ডিভাইস এই গেটওয়ে বা দরজার মাধ্যমেই বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ করে।
রাউটার ব্যবহারের সুবিধা ১.এই ডিভাইসটি একাধিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্যে তারযুক্ত বা বেতার যোগাযোগের
সুবিধা প্রদান করে। বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাউটারকে ওয়াইফাই রাউটার
(WiFi router)
বলা হয়। সাধারণত ইন্টারনেট ভিত্তিক
যোগাযোগের জন্য রাউটার ব্যবহার করা হয়।
২. রাউটার ডেটা প্যাকেটগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম দূরত্বের
পথ ব্যবহার করে। রাউটার ইন্টারনেটে “ট্রাফিক ডিরেক্টিং” এর কাজ সম্পন্ন করে।
সাধারণভাবে একাধিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃনেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে একটি
ডাটা প্যাকেটকে প্রেরণ করে। যখন একটি ডাটা প্যাকেট রাউটারের কাছে
পৌঁছায়, তখন রাউটার এর চূড়ান্ত গন্তব্য জানার জন্য প্যাকেটের তথ্য পড়ে।
এরপর এর রাউটিং টেবিল বা রাউটিং পলিসিতে থাকা তথ্যের সাহায্যে প্যাকেটটিকে তার গন্তব্যের পরবর্তী নেটওয়ার্কে পাঠিয়ে দেয়।
রাউটারের প্রকরণ
রাউটারকে তার ব্যবহারের ক্ষেত্র, সংযোগের ধরণ এবং কাজের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১.ওয়্যারড রাউটার
(Wired Router): এই রাউটারে কোনো ওয়াইফাই সুবিধা থাকে না, এটি শুধুমাত্র তারের
(Ethernet Cable) মাধ্যমে কাজ করে।
এতে কেবল কানেকশন দেওয়ার জন্য একাধিক পোর্ট থাকে।
যেখানে ইন্টারনেটের গতি এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (যেমন: ব্যাংকিং বা গেমিং পিসি), সেখানে এটি ব্যবহার করা হয়।
এরই একটি প্রকরণ হলো-
ব্রডব্যান্ড রাউটার।
- ব্রডব্যান্ড রাউটার
Broadband Routers (wired routers)
: দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের সাথে সংযোগ প্রদানের জন্য
এবং ইন্টারনেটের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য এই রাউটার ব্যবহার করা হয়। এই রাউটার দিয়ে উচ্চগতির
ইন্টারনেট সংযোগ সাধন করা যায়। এক্ষেত্রে তার দ্বারা
মডেমের
(modem)
সাথে সংযুক্ত করে ইন্টারনেট পরিসেবা চালু করা যায়।
সাধারণত ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে একটি
মডেম থেকে একটি কম্পিউটারে সংযোগ নেওয়া যায়। কিন্তু ওই
মডেম থেকে একাধিক
কম্পিউটারে সংযোগ পাওয়ার জন্য মডেম থেকে প্রথম রাউটারে সংযোগ দেওয়া হয়। পরে রাউটার থেকে অন্যান্য কম্পিউটারে সংযোগ দেওয়া হয়।
ব্রডব্যান্ড রাউটার সাধারণত এডিএসএল (ADSL) বা ফাইবার অপটিক মডেমের সাথে যুক্ত থাকে। এটি মডেম থেকে আসা পাবলিক আইপি অ্যাড্রেসকে গ্রহণ করে এবং লোকাল নেটওয়ার্কে থাকা ডিভাইসগুলোকে প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস প্রদান করে। ডিভাইসগুলো সরাসরি ল্যান (LAN) পোর্টের মাধ্যমে রাউটারের সাথে যুক্ত থাকে।
ব্রডব্যান্ড ওয়্যারড রাউটারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
- ইথারনেট পোর্ট
(Ethernet Ports):
এই রাউটারে সাধারণত একটি WAN পোর্ট (মডেমের জন্য) এবং একাধিক LAN পোর্ট (ডিভাইসের জন্য) থাকে।
- গতি ও স্থায়িত্ব: যেহেতু এটি তারের মাধ্যমে কাজ করে, তাই এতে সিগন্যাল লস হওয়ার ভয় থাকে না। ওয়াইফাই-এর তুলনায় এর ল্যাটেন্সি (Latency) অনেক কম থাকে।
- নিরাপত্তা: ওয়াইফাই সিগন্যাল বাতাস থেকে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু ওয়্যারড রাউটারে সরাসরি তার ছাড়া কেউ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে এটি অনেক বেশি নিরাপদ।
- SPI Firewall: বেশিরভাগ ব্রডব্যান্ড রাউটারে বিল্ট-ইন ফায়ারওয়াল থাকে যা ক্ষতিকারক ডেটা প্যাকেট ব্লক করে।
- ২. বেতার রাউটার
(Wireless router): এই রাউটারগুলোর মাধ্যমে তার ছাড়াই রেডিও ওয়েভ বা
Wi-Fi এর মাধ্যমে
ইন্টারনেট পরিসেবা গ্রহণ করা যায়। এই ধরণের রাউটারগুলো, একটি সুনির্দিষ্ট স্থানের ভিতরে বেতারসঙ্কেত গ্রহণ এবং প্রদান
করতে পারে। এর মাধ্যমে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। তবে সংযোগ সুরক্ষার জন্য
এতে প্রবেশসঙ্কেত (password)
ব্যবহার করা হয়।
Wi-Fi:
অনেক সময় এর অর্থ হিসেবে "Wireless Fidelity"
ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে,
Wi-Fi
এর কোনো পূর্ণরূপ বা ফুল ফর্ম নেই। এটি কোনো কিছুর সংক্ষিপ্ত রূপ নয়। এটি একটি ব্র্যান্ড নাম
(Brand Name)
মাত্র। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ইন্টারব্র্যান্ড
(Interbrand)
নামক একটি মার্কেটিং কোম্পানি এই নামটি তৈরি করেছিল। তখন
'Wi-Fi Alliance'
তাদের টেকনিক্যাল নাম IEEE 802.11b Direct Sequence-এর বদলে একটি শ্রুতিমধুর এবং সহজে মনে রাখা যায় এমন নাম খুঁজছিল। তারা
"Wireless Fidelity" শব্দগুচ্ছটি শুরুতে প্রচারণায় ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে তা বাদ দেয়।
নির্ভুলতা বা যথার্থতা অর্থে তার এই শব্দটি ব্যবহার করতো। বর্তমানে এটি কেবল একটি ট্রেডমার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ওয়াইফাই মূলত একটি দ্বিমুখী রাস্তার মতো কাজ করে। যেমন-
- ট্রান্সমিশন: রাউটার ইন্টারনেট থেকে আসা ডেটাকে রেডিও সিগন্যালে রূপান্তর করে এবং এন্টেনার মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়।
- রিসিভিং: ফোনের ওয়াইফাই চিপ সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং পুনরায় ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করে যাতে ভিডিও বা ওয়েবসাইট দেখা
যায়।
- ফ্রিকোয়েন্সি: এটি সাধারণত
2.4 GHz এবং
5 GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
৩. মূল রাউটার
(Core router)
: ইন্টারনেটের জগতের "সুপার হাইওয়ে"। এটি সাধারণ বাসার রাউটারের মতো নয়, বরং এটি বিশাল এক ক্ষমতার অধিকারী যন্ত্র যা পুরো ইন্টারনেটের কাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
একাধিক রাউটারের মাধ্যমে যখন কোনো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়,
তখন সকল রাউটারের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় রাউটার ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এই রাউটারকে বলা হয়
ভিত্তি বা মূল রাউটার। সাধারাণত ল্যান নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য এই রাউটার ব্যবহার করা হয়।
কোর রাউটারের মূল কাজ হলো বিশাল পরিমাণ ডেটাকে অতি দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো। এর কাজগুলোকে এভাবে ভাগ করা যায়:
- ডেটা ফরওয়ার্ডিং: এটি এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে ডেটা প্যাকেট দ্রুততম পথে পাঠিয়ে দেয়।
- ইন্টারনেট ব্যাকবোন: এটি মূলত আইএসপি (ISP) এবং ডেটা সেন্টারগুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে।
-
ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট: ইন্টারনেটের ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে এটি সবচেয়ে
সংক্ষিপ্ত পথ খুঁজে বের করে।
একটি আধুনিক কোর রাউটার প্রতি সেকেন্ডে এত বেশি ডেটা প্রসেস করতে পারে যে, তা
দিয়ে কয়েক হাজার এইচডি
(HD) মুভি এক পলকেই ডাউনলোড করা সম্ভব!
৪. এজ রাউটার (Edge router): ব্যক্তিগত বা অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক এবং বাইরের জগতের (ইন্টারনেট) মধ্যবর্তী সীমানা প্রাচীর বা প্রবেশদ্বার। একে অনেক সময় 'অ্যাক্সেস রাউটার' বা 'বাউন্ডারি রাউটার'ও বলা হয়। একটি নেটওয়ার্কের একদম শেষ প্রান্তে বা কিনারায় যে রাউটার অবস্থান করে, তাকেই এজ রাউটার বলে। এর এক হাত থাকে আপনার ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের দিকে (যেমন: অফিসের সব কম্পিউটার), আর অন্য হাত থাকে ইন্টারনেটের দিকে (যেমন: আইএসপি বা কোর রাউটারের সাথে)।
এজ রাউটার মূলত একটি ফিল্টারের মতো কাজ করে। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
-
সংযোগ রক্ষা (Connectivity): এটি লোকাল নেটওয়ার্ককে বাইরের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে।
-
নিরাপত্তা (Security): এটি প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে। বাইরে থেকে কোনো হ্যাকার বা ক্ষতিকারক ভাইরাস যেন আপনার নেটওয়ার্কে ঢুকতে না পারে, তা এই রাউটার নিশ্চিত করে। এতে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল থাকে।
-
ব্যান্ডউইথ ম্যানেজমেন্ট: কোন ডিভাইস কতটুকু ইন্টারনেট পাবে বা কোন কাজকে (যেমন: জুম মিটিং) বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা এখানে নির্ধারণ করা যায়।
-
বিজেপি (BGP) প্রোটোকল:
বড় বড় এজ রাউটারগুলো Border Gateway Protocol (BGP) ব্যবহার করে অন্য নেটওয়ার্কের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করে।
- ইন্টার প্রোভাডার বর্ডার রাউটার
(Inter provider border routers)
: সংক্ষেপে
ASBR (Autonomous System Boundary Router)
ইন্টারনেটের জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চস্তরের একটি রাউটার। এটি মূলত দুটি ভিন্ন ভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার
(ISP) বা স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
এই রাউটারের প্রধান কাজ হলো বিশাল বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যে "ট্রাফিক আদান-প্রদান" নিশ্চিত করা। এর প্রধান কাজগুলো হলো-
- নেটওয়ার্ক ব্রিজিং: এটি একটি আইএসপি-র নেটওয়ার্ককে অন্য একটি আইএসপি-র নেটওয়ার্কের সাথে কথা বলতে সাহায্য করে।
- BGP প্রোটোকল ব্যবহার: এই রাউটারগুলো মূলত BGP (Border Gateway Protocol) ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ডেটা যাওয়ার সবচেয়ে সঠিক এবং সংক্ষিপ্ত পথটি খুঁজে বের করা হয়।
- ডেটা এক্সচেঞ্জ: যখন বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার কোনো ওয়েবসাইটে
প্রবেশ করা হয়, তখন ডেটা প্যাকেটে অনেকগুলো ইন্টার প্রোভাইডার বর্ডার রাউটার পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।
-
পকেট রাউটার (Pocket router)
:
এটি এক ধরনের বহনযোগ্য রাউটার। ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় এই রাউটার
ব্যবহার করা হয় ওয়াইফাই সুবিধা পাওয়ার জন্য। এই কারণে একে অনেক সময় পোর্টেবল পকেট ওয়াইফাই রাউটার
(portable WiFi router) বলা হয়।
এক্ষেত্রে এই রাউটারের সাথে সিম-কার্ড ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে একটি বহনযোগ্য ছোট ডিভাইস যা সেলুলার নেটওয়ার্ক
(3G, 4G বা
5G) ব্যবহার করে একটি ব্যক্তিগত ওয়াইফাই জোন তৈরি করে।