রাউটার
Router
শব্দটি ইংরেজি 'Route' শব্দ থেকে এসেছে। এই শব্দের অর্থ হলো- পথ। রাউটার হলো-  পথ প্রদর্শক। সাধারণ অর্থে ট্র্যাফিক সঙ্কেতজ্ঞাপক যে কোন মাধ্যম রাউটার হতে পারে। এর মধ্যে ট্রাফিক পুলিশও হতে পারে। হতে পারে পথ চেনানোর জন্য কোনো ব্যক্তি বিশেষ। কিন্তু বাস্তবে এদেরকে রাউটার বলা হয় না।

মূলত এই শব্দটি পথপ্রদর্শক হিসেবে ইংরেজি ভাষা ১৭০০-১৮০০ খ্রিষ্টব্দের ভিতরে প্রচলিত ছিল। ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে দিকে ইংরেজি অভিধানে
'Router' শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, যার দ্বারা কাঠ খোদাই করার একটি বিশেষ যন্ত্রকে বোঝানো হতো। ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে 'Router' শব্দের অর্থ ছিল "এমন একজন ব্যক্তি যিনি রেলওয়ে বা ডাক বিভাগের মালামাল নির্দিষ্ট পথে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।" অর্থাৎ, আজকের ডিজিটাল রাউটার ঠিক এই কাজটিই ইন্টারনেটের ডেটার জন্য করছে।

১৯৬০-১৯৭০ খ্রিষ্টব্দের ভিতরে কম্পিউটার ভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তিতে, বিশেষ করে ইন্টারনেটের আদি যুগে রাউটার শব্দ নতুন পারিভাষিক শব্দে রূপ নেয়। শুরুর দিকে আমরা যাকে রাউটার বলি, তাকে বলা হতো  গেটওয়ে
(Gateway) হতো। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই নামটাই বেশি জনপ্রিয় ছিল। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে (বিশেষ করে ARPANET প্রজেক্টের সময়) নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা কোন পথে যাবে তা নির্ধারণ করার প্রক্রিয়াকে রাউটিং (Routing) বলা শুরু হয়। সেখান থেকেই এই কাজটি যে যন্ত্র করে তাকে (Router) বলার প্রচলন শুরু হয়। অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পারিভাষিক শব্দ 'রাউটিং' শব্দটির অর্থ দাঁড়ায়- যান্ত্রিকভাবে তথ্যে পথপ্রদর্শক যন্ত্র।

তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে, রাউটার হলো সেই যন্ত্র যা ইন্টারনেটের তথ্যকে তার গন্তব্যে যাওয়ার সঠিক পথ বাতলে দেয়। এক্ষেত্রে রাউটার। তবে ১৯৭৪-১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে এই সময়ে প্রথম
'IP Router' তৈরি করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে তিনটি PDP-11 ভিত্তিক রাউটার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। তখন থেকেই প্রযুক্তিবিদদের মাঝে শব্দটি পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নেয়।

রাউটারের কাজ: রাউটার মূলত দুটি প্রধান কাজ করে: 

১. লোকাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা: রাউটার ঘরের সব ডিভাইসকে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসে, যাতে ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
২. ডেটা প্যাকেট ফরওয়ার্ডিং: ইন্টারনেট থেকে আসা তথ্যগুলো ছোট ছোট 'প্যাকেট' আকারে আসে। রাউটার এই প্যাকেটগুলোর গন্তব্য ঠিকানা দেখে সেগুলোকে সঠিক ডিভাইসে পাঠিয়ে দেয়।

রাউটারের আইপি অ্যাড্রেস নির্ধরাণ প্রক্রিয়া
রাউটার মূলত দুটি স্তর রাউটার মূলত দুটি আইপি অ্যাড্রেস নিয়ে কাজ করে। কাজ দুটু হলো-

রাউটার কিভাবে আইপি বণ্টন প্রক্রিয়া: একে বলা হয় (DHCP প্রক্রিয়া। রাউটারের ভেতরে একটি বিশেষ সার্ভিস থাকে যার নাম DHCP (Dynamic Host Configuration Protocol)। এটিই মূলত ডিভাইসের জন্য ইউনিক আইপি অ্যাড্রেস নিশ্চিত করে কয়েকটি পদ্ধতিতে। যেমন-

রাউটার ব্যবহারের সুবিধা
১.এই ডিভাইসটি একাধিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্যে তারযুক্ত বা বেতার যোগাযোগের সুবিধা প্রদান করে। বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাউটারকে ওয়াইফাই রাউটার (WiFi router) বলা হয়।  সাধারণত ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগের জন্য রাউটার ব্যবহার করা হয়।

২. রাউটার ডেটা প্যাকেটগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম দূরত্বের পথ ব্যবহার করে। রাউটার ইন্টারনেটে “ট্রাফিক ডিরেক্টিং” এর কাজ সম্পন্ন করে। সাধারণভাবে একাধিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃনেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে একটি ডাটা প্যাকেটকে প্রেরণ করে। যখন একটি ডাটা প্যাকেট রাউটারের কাছে পৌঁছায়, তখন রাউটার এর চূড়ান্ত গন্তব্য জানার জন্য প্যাকেটের তথ্য পড়ে। এরপর এর রাউটিং টেবিল বা রাউটিং পলিসিতে থাকা তথ্যের সাহায্যে প্যাকেটটিকে তার গন্তব্যের পরবর্তী নেটওয়ার্কে পাঠিয়ে দেয়।

রাউটারের প্রকরণ
রাউটারকে তার ব্যবহারের ক্ষেত্র, সংযোগের ধরণ এবং কাজের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।  যেমন-

১.ওয়্যারড রাউটার (Wired Router): এই রাউটারে কোনো ওয়াইফাই সুবিধা থাকে না, এটি শুধুমাত্র তারের (Ethernet Cable) মাধ্যমে কাজ করে। এতে কেবল কানেকশন দেওয়ার জন্য একাধিক পোর্ট থাকে। যেখানে ইন্টারনেটের গতি এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (যেমন: ব্যাংকিং বা গেমিং পিসি), সেখানে এটি ব্যবহার করা হয়। এরই একটি প্রকরণ হলো- ব্রডব্যান্ড রাউটার।

৩. মূল রাউটার (Core router) : ইন্টারনেটের জগতের "সুপার হাইওয়ে"। এটি সাধারণ বাসার রাউটারের মতো নয়, বরং এটি বিশাল এক ক্ষমতার অধিকারী যন্ত্র যা পুরো ইন্টারনেটের কাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

একাধিক রাউটারের মাধ্যমে যখন কোনো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তখন সকল রাউটারের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় রাউটার ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এই রাউটারকে বলা হয় ভিত্তি বা মূল রাউটার। সাধারাণত ল্যান নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য এই রাউটার ব্যবহার করা হয়।

কোর রাউটারের মূল কাজ হলো বিশাল পরিমাণ ডেটাকে অতি দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো। এর কাজগুলোকে এভাবে ভাগ করা যায়:

একটি আধুনিক কোর রাউটার প্রতি সেকেন্ডে এত বেশি ডেটা প্রসেস করতে পারে যে, তা দিয়ে কয়েক হাজার এইচডি (HD) মুভি এক পলকেই ডাউনলোড করা সম্ভব!

৪. এজ রাউটার
(Edge router): ব্যক্তিগত বা অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক এবং বাইরের জগতের (ইন্টারনেট) মধ্যবর্তী সীমানা প্রাচীর বা প্রবেশদ্বার। একে অনেক সময় 'অ্যাক্সেস রাউটার' বা 'বাউন্ডারি রাউটার'ও বলা হয়। একটি নেটওয়ার্কের একদম শেষ প্রান্তে বা কিনারায় যে রাউটার অবস্থান করে, তাকেই এজ রাউটার বলে। এর এক হাত থাকে আপনার ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের দিকে (যেমন: অফিসের সব কম্পিউটার), আর অন্য হাত থাকে ইন্টারনেটের দিকে (যেমন: আইএসপি বা কোর রাউটারের সাথে)।

এজ রাউটার মূলত একটি ফিল্টারের মতো কাজ করে। এর প্রধান কাজগুলো হলো: