জেভ জাবোতিনস্কি
১৮৮০- ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ
Ze'ev Jabotinsky।
প্রকৃত নাম ভ্লাদিমির য়েভগেনিয়েভিচ ঝাবোতিনস্কি
(Vladimir Yevgenyevich Zhabotinsky)
ছিলেন।
একজন রুশ-ইহুদি বুদ্ধিজীবী, বাগ্মী, লেখক এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।তিনি
রিভিশনিস্ট জায়োনিজম-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ অক্টোবর রাশিয়ান সাম্রাজ্য ওডেসাতে (বর্তমান ইউক্রেন) ইহুদি পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন।
১৮ বছর বয়সে ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে আইন পড়তে যান। সেখানে রুশ সংবাদপত্রের জন্য বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। তার লেখা প্রবন্ধগুলো খুব জনপ্রিয় হয়, এবং তিনি "আলতালেনা" ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে কিশিনেভ পোগ্রাম তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এরপর তিনি
ইহুদীবাদী হিসবে সক্রিয় হন। এবং ইহুদিদের স্ব-প্রতিরক্ষা আন্দোলন শুরু করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি জোসেফ ট্রাম্পেলডর-এর সাথে মিলে জুইশ লিজিয়ন
নামে একটি সংগঠন গড়ে করেন। এটি ছিল মূল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ইহুদি সৈন্যদের একটি ইউনিট ছিল।
এঁরা যারা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনে লড়াই করেন।
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ মূল জায়োনিস্ট সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
তিনি চাইম ওয়াইজম্যান-এর নীতির বিরোধিতা করে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট লক্ষ্যের পক্ষে ছিলেন।
তাঁর লক্ষ্য ছিল জর্ডান নদীর দুই পাশে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই অঞ্চলে অবিলম্বে ইহুদি অভিবাসন বাড়ানো এবং ইহুদিদের সশস্ত্র প্রতিরক্ষা
ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
এই বছরে ৪ নভেম্বর তার বিখ্যাত প্রবন্ধ
'The Iron Wall'-
রাশিয়ার বার্লিন-ভিত্তিক রুশ ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা 'রাসভিয়েত'
(Rassvyet / Dawn)-এ প্রকাশিত হয়।
এরপর ১১ নভেম্বর তিনি ওই একই পত্রিকায় একটি পরিপূরক প্রবন্ধ The
Ethics of the Iron Wall। প্রকাশিত হয়। এই লেখাটিই পরবর্তীতে রিভিশনিস্ট জিয়ানিজম আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
উভয় রচনার মূল বিষয় ছিল- ফিলিস্তিনের আরবরা স্বেচ্ছায় ইহুদি রাষ্ট্র মেনে নেবে না। তাই ইহুদিদের একটি "লৌহ প্রাচীর" (একটি শক্তিশালী সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) গড়ে তুলতে হবে। যখন আরবরা বুঝতে পারবে যে তারা ইহুদিদের পরাজিত করতে অক্ষম, কেবল তখনই তারা প্রকৃত শান্তি আলোচনায় বসবে।
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি 'বেতার' নামে একটি যুব সংগঠন গড়ে তোলেন। এর লক্ষ্য ছিল ইহুদি যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং শৃঙ্খলা শেখানো।
যদিও তিনি সরাসরি ইর্গুন পরিচালনা করেন নি, তবে ইর্গুন ছিল তার আদর্শিক উত্তরসূরি। ইর্গুন সদস্যরা তাকে তাদের সর্বোচ্চ নেতা মনে করত।
১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি 'হাতজোহার' রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে 'জুয়িশ লিজিয়ন' গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের পর যখন ব্রিটিশরা ইহুদিদের স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে দেরি করছিল এবং অভিবাসনে বাধা দিচ্ছিল, তখন তিনি ব্রিটিশ শাসনের ঘোর বিরোধী হয়ে ওঠেন। ব্রিটিশরা তাঁকে ফিলিস্তিন থেকে বহিষ্কার করেন।
ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের আগেই ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ আগষ্ট নিউইয়র্কের ক্যাটসকিল পর্বতমালায় অবস্থিত 'বেতার' যুব শিবিরের পরিদর্শনে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুবরণ
করেন। তার দেহাবশেষ ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ ইসরায়েলে আনা হয় এবং মাউন্ট হার্জেলে সমাহিত করা হয়।
তবে তার আদর্শই পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের বর্তমান ক্ষমতাসীন 'লিকুদ পার্টি'
(Likud Party)-এর মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ইর্গুন নেতা
মেনাখেম বেগিন, যিনি পরে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, নিজেকে জাবোতিনস্কির সুযোগ্য শিষ্য মনে করতেন।
সাহিত্যকর্ম:
রুশ, হিব্রু ও অন্যান্য ভাষায় উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন। তার লেখায় জায়োনিজম, ইহুদি পরিচয় ও রাজনীতি মিশে থাকত।
অসাধারণ বক্তা: তার বক্তৃতা হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করত।
তিনি ইহুদিদের "আয়রন ওয়াল" (Iron Wall) নীতির প্রবক্তা ছিলেন। তিনি মনে করতেন আরবদের সাথে শান্তি আলোচনার আগে ইহুদিদের শক্তিশালী সামরিক অবস্থান দরকার।