বসুবন্ধু
বৌদ্ধ যোগাচার দর্শনের দ্বিতীয় আচার্য।

আনুমানিক ৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন গান্ধারের রাজধানী পুরুষপুরের (বর্তমানে পাকিস্তানের পেশোয়ার) এক ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বড় ভাই
অসঙ্গ (যোগাচারের প্রথম আচার্য)-এর সূত্র ধরে যোগাচার দর্শন প্রচার করেন।

বসুবন্ধু প্রথম দিকে অসঙ্গের বক্তব্যকেই সম্প্রসারিত করে ব্যাখ্যা করেছেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মৌলিক ভাবনা যোগাচারকে উন্নতমার্গে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি অসঙ্গের রচিত 'অভিধর্মকোষ'-এর উপর বিস্তৃত ভাষ্য রচনা করেছিলেন। এছাড়া অসঙ্গের রচিত
‘যোগাচারভূমিবস্তুসংগ্রহণী’ নামক গ্রন্থে যে বিজ্ঞানবাদের প্রস্তাব করেছিলেন, বসুবন্ধুর তাঁর উপর ভিত্তি করে রচনা করেছিলেন ‘বিজ্ঞপ্তিমাত্রতাসিদ্ধি’ মৌলিক গ্রন্থ। এই গ্রন্থটিকে বলা হয় বিজ্ঞানবাদের মৌলিক গ্রন্থ।
 

বসুবন্ধুর মতে পারমার্থিক সত্য এবং বিজ্ঞানের পরিণতি তিন প্রকার।

১. আলয় বিজ্ঞান: ধর্ম থেকে জগতের উৎপত্তি এবং তার বীজস্থান হলো আলয় বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞানের পরিণতি হলো স্পর্শ, মনস্কার বা চিত্তের বিষয়মুখী ক্রিয়া, বেদনা, সংজ্ঞা, চেতনা। এরই কারণে জগতের কার্যকারণ-প্রবাহ অবিরত বয়ে চলছে।

২. আলম্বন: আলয় বিজ্ঞানকে অবলম্বন করে মনন্বাত্মক আবলম্বনের উদ্ভব হয়। আবলম্বনের পরিণতিগুলো হলো- আত্মদৃষ্টি, আত্মমোহ, আত্মমান, আত্মস্নেহ। এগুলোকে বলা হয় ক্লেশ।

৩. বিষয়বিজ্ঞপ্তি: ইন্দ্রিয়ভিত্তিক পাঁটি জ্ঞাপিত হওয়া এবং এর সাথে যুক্ত মন। মোট ছয়টি বিষয়বিজ্ঞপ্তির অন্তর্গত প্রতিভাত বিষয়গুলো হলো- রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ  ও ধর্মাত্মক।

 


সূত্র: