দিলীপ কুমার রায়১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতে পারদর্শিতা লাভের জন্য সারা ভারত ভ্রমণ করেন। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে সঙ্গীত সন্বন্ধে বক্তৃতা করতে ইউরোপ যান।
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে অরবিন্দ ঘোষের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অরবিন্দের পণ্ডিচেরী আশ্রমে বসবাস করেন। এই সময়, সঙ্গীতের ন্যায় যোগসাধনাও তাঁর জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুলপ্রসাদ, নজরুল, হিমাংশু দত্ত, নিশিকান্ত প্রমুখ গীতিকারের গান স্বকণ্ঠে গেয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরের অনড় রীতি ভেঙে তাতে একটা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে অনুমতি মেলে নি বলে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া ছেড়ে দেন।
১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে হিন্দুস্থান রেকর্ড থেকে তাঁর
গানের দুটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়। গান দুটি হলো-
H 302
তাঁর গানের রেকর্ড সংখ্যা প্রায় একশ। ভারত সরকার কর্তৃক প্রেরিত সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইউরোপের বহু দেশসহ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও মিশরে সঙ্গীতের উপর বক্তৃতা দান করেন। দেশে ফিরে বন্ধু জি, ভি, মেহতার আমন্ত্রণে পুণায় গিয়ে তাঁর গৃহে বাস করতে থাকেন। ক্রমে সে বাসগৃহটি তাঁর চেষ্টায় শ্রীহরিকৃষ্ণ মন্দিরে পরিণত হয়। সেখানে তিনি সন্ন্যাসীর ন্যায় জীবন যাপন করতেন।
কথা: কমলাকান্ত, সুর দিলীপকুমার রায়
কথা ও সুর: দিলীপকুমার রায়
সহশিল্পী: সাহানা দেবী
রেকর্ড:
আধুনিক সঙ্গীতের সমালোচনার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো– অঘটনের শোভাযাত্রা, অনামী, নন্দ ও জলাতঙ্ক, বার ভ্রাম্যমাণ, আমার বন্ধু সুভাষ, আশ্চর্য, উদাসী দ্বিজেন্দ্রলাল, গীতমঞ্জরী, গীতসাগর, ছায়ার আলো, তরঙ্গ রোধিবে কে, তীর্থঙ্কর, দুধারা, দোলা, দ্বিচারিণী, দ্বিজেন্দ্রগীতি, পত্রাবলী, বহুবল্লভ, ভাগবতী কথা, ভিখারিণী, ভূস্বর্গ চঞ্চল, ভ্রাম্যমাণের দিনপঞ্জিকা, মধুমুরলী, মনের পরশ, রঙের পরশ, রাজকন্যা, সাদা কালো, সাঙ্গীতিকী, সুরবাহার, হাসির গানের স্বরলিপি ইত্যাদি।
তিনি সঙ্গীত রত্নাকর উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সঙ্গীত নাটক একাডেমীর সদস্য পদ লাভ করেন।
১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে ৭ই জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থ