গোপাল নায়ক
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম সঙ্গীতজ্ঞ, সঙ্গীত রচয়িতা,
শিল্পী। তাঁর মূল নাম গোপাল। সঙ্গীতে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি গোপাল নায়ক বা
নায়ক গোপাল নামে অভিহিত হয়েছেন।
মধ্যযুগীয় সঙ্গীতবিষয়ক তিনটি গ্রন্থে গোপাল নায়কের নামের উল্লেখ
পাওয়া যায়। উল্লেখ সঙ্গীতরত্নাকরের টীকাকার কল্পিনাথের
লেখায়, বেঙ্কটমখীর রচিত চতুর্দণ্ডীপ্রকাশিকায়
এবং ফকিরুল্লাহর রচয়িতা 'রাগদর্পণ' গ্রন্থে।
গোপাল নায়কের জন্ম ও মৃত্যকাল সম্পর্কে জানা যায় না। এছাড়া পিতামাতা, সঙ্গীতগুরু
পরিবার সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। ধারণা করা হয় তিনি দাক্ষিণ্যত্যের শিল্পী ছিলেন।
দেবগিরির রাজা রামচন্দ্র পূর্ব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে, সুলতান
আলাউদ্দীন খিলজিকে কর
দিতে অস্বীকার করায়, এবং গুজরাটের বিদ্রোহী রাজা কর্ণদেবকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে,
১৩১২ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানের আদেশে তাঁর সেনাপতি কাফুর দেবগিরি আক্রমণ করেন।
কাফুর এই যুদ্ধে রামচন্দ্রকে পরাজিত করেন। এই সময় অন্যান্য বন্দীদের সাথে ওই
দরবারের সভাগায়ক গোপাল নায়ককে দিল্লিতে আনা হয়। সুলতান আলাউদ্দীন গোপালের সভাগায়কের
পরিচয় জানতে পেরে তাঁকে দরবারে সঙ্গীত পরিবেশনের আদেশ করেন। এই সভায় তিনি
সালগ-সূড়ের অন্তর্গত ধ্রবগীত পরিবেশন করেন। ফকিরুল্লা তাঁর 'রাগদর্পণ' গ্রন্থে
লিখেছেন- গোপাল সুলতানের দরবারে শুনিয়েছিলেন- স্বরবর্তনী, মন ও হরগীত। এর ভিতরে
স্বরবর্তনী ছিল সেকালের মার্গীয় সঙ্গীত বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। মন্ গীত ছিল দেশি বা
লৌকিক গান। এছাড়া ৩২টি তালযুক্ত 'ভ্রমণ' নামক (রাগকদম্ব) একপ্রকার মার্গসঙ্গীত পরিবেশন
করেছিলেন।
গোপাল নায়ক যখন বন্দী অবস্থায় দিল্লির দরবারে আসেন তখন,
সুলতানের দরবারের সভা গায়ক ছিলেন- আমির খসরু।
ফকিরুল্লাহর 'রাগদর্পণ' থেকে একটি গল্প জানা যায়। গল্পটি হলো-
গোপাল সুলতান আলাউদ্দিনের দরবারে যখন গান পরিবেশন করছিলেন, সে সময়
আমির খসরু,
সুলতানের সিংহাসনের নিচে লুকিয়ে গোপালের গান শুনেছিলেন। পরে সেই গান
আমির খসরু হুবহু শুনিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
গোপাল নায়ক বেশ কিছু ধ্রুপদ রচনা করেছিলেন।
সূত্র :