ইসহাক (আ.)
আরবি:
يَعْقُوب  হিব্রু: יַעֲקֹב
আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-১৮০০ অব্দের ভিতরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

পিতা ইব্রাহিম আঃ -এর প্রথম স্ত্রী সারাহ-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর যখন জন্ম হয়, তখন ইব্রাহিম (আ.)-এর বয়স ছিল ১০০ বছর এবং বিবি সারাহর বয়স ছিল ৯০ বছর। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ফেরেশতারা যখন এই সুসংবাদ নিয়ে আসেন, তখন বিবি সারাহ বিস্ময়ে হেসে ফেলেছিলেন।


ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তোরাহ এবং খ্রিষ্টানদের পুরাতন বাইবেল -এর বর্ণনা অনুযায়ী, ইব্রাহিম আঃ কুরবানী নামক পরীক্ষায়  হযরত ইসহাক (আ.) ছিলেন। বাইবেলের জেনেসিস ২২.২ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, "তোমার পুত্রকে, তোমার একমাত্র পুত্রকে যাকে তুমি ভালোবাসো, সেই ইসহাককে নিয়ে যাও..."। বাইবেল অনুযায়ী এই ঘটনাটি মোরিয়া পাহাড়ে ঘটেছিল, যা বর্তমানে জেরুজালেমে অবস্থিত। ইহুদি ঐতিহ্যে ইসহাক (আ.)-কে 'একমাত্র' বলা হয়েছে কারণ তিনি ছিলেন ইব্রাহিম (আ.)-এর স্বাধীন স্ত্রী সারাহর গর্ভজাত প্রথম পুত্র।  

অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত এবং ঐতিহাসিকের মতে, কুরবানীর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে পুত্রের কথা বলা হয়েছিল, তিনি ছিলেন হযরত ইসমাইল (আ.)।  ইসমাইল (আ.) ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রথম এবং বড় পুত্র। পবিত্র কুরআনের সূরা আস-সাফফাত-এ (আয়াত ১০০-১০৭) এই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। যদিও সেখানে সরাসরি নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ঘটনার পর ইসহাক (আ.)-এর জন্মের সুসংবাদ দেওয়ার ধরণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, কুরবানীর ঘটনাটি বড় পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সাথেই ঘটেছিল।

ইব্রাহিম আঃ ইসহাককের সাথে রিবকাকে বিবাহ দেন। এঁরা দীর্ঘদিন সন্তানহীন থাকার পর, রিবকা যমজ পুত্র প্রসব করেন। এঁদের নাম রাখা হয়েছিল এসাউ ও জ্যাকব। মুসলমানরা জ্যাকবকে ইয়াকুব নামে অভিহিত করে থাকেন।

ইব্রাহিম আঃ -এর মৃত্যুর পর ইসহাক পিতার সম্পত্তি ও চুক্তির উত্তরাধিকারী হন। একবার দুর্ভিক্ষ হলে ইসহাক মিশরে যাওয়ার চিন্তা করেন, কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে আদেশ দেন: "মিশরে যেয়ো না, আমি যে দেশ বলব সেখানে বাস করো।"  এরপর থকে তিনি কেনানেই কাটিয়েছেন।

তোরাহ-এর বর্ণনা অনুসারে তিনি খুবই শান্ত ছিলেন। পিতৃপুরুষীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি আব্রাহামের মতো বড় যাত্রা বা যুদ্ধ করেননি, বা ইয়াকুবের মতো অনেক ঘটনা-বহুল জীবন কাটান নি। তাঁর জীবন মূলত কৃষি, পশুপালন, কূপ খনন, চুক্তি স্থাপন এবং পরিবারের উত্তরাধিকার রক্ষার উপর কেন্দ্রীভূত।  

ইসহাক কৃষির উন্নতি করেন। তাঁর সম্পদ (পশু, দাস, ধন) খুব বেড়ে যায়, যা ফিলিস্তিনীয়দের ঈর্ষা জাগায়। ফিলিস্তিনীরা আব্রাহামের খোঁড়া কূপগুলো মাটি দিয়ে ভরে দেয়।  ইসহাক নতুন কূপ খোঁড়েন, কিন্তু বিরোধের কারণে এই কূপটি বন্ধ করে দেন। এরপর দ্বিতীয় কূপ খনন করেন। অত্রুতার কারণে এ কূপ্‌ও বন্ধ করতে হয়। এর পর তিনি তৃতীয় কূপ খনন করেছিলেন।

তিনি একটি ঈশ্বরের জন্য বেদী নির্মাণ করেছিলেন। এখানে দাসরা একটি কূপ খনন করেন। তোতাহ মতে- ফিলিস্তিনীয় রাজা অবিমেলক তাঁর কাছে আসেন চুক্তি করতে। কারণ ঈশ্বর তাঁর সাথে ছিলেন। তারা শপথ করে চুক্তি করেছিলেন। তাই এই  স্থানের নাম হয়
Beersheba ("শপথের কূপ" বা "সপ্তম কূপ")।

শেষ বয়সে তিনি অন্ধ হয়ে যান। তিনি জ্যেষ্ঠ পুত্র এসাউকে আশীর্বাদ দিতে চান, কিন্তু রিবকা ও জ্যাকবের ছলনায় জ্যাকব আশীর্বাদ পান। পরে এসাউকে অন্য আশীর্বাদ দেন। এটিই তাঁর জীবনের শেষ কর্ম।

তিনি মোট বয়স ১৮০ বছর জীবিত ছিলেন।