ইসমাইল হোসেন সিরাজী, সৈয়দ
(১৮৮০-১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দ)
কবি ও সাংবাদিক

১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই জুলাই,  ব্রিটিশ ভারতের পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের নামানুষারে তাঁর নামের শেষে 'সিরাজী' পদবী যুক্ত করেছিলেন

শৈশবে তিনি স্থানীয় পাঠশালা ও জ্ঞানদায়িনী মাইনর ইংরেজি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে, সিরাজগঞ্জ বনোয়ারীলাল হাই স্কুলে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এই সময় তিনি পাঠশালায় ফার্সি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়া বাড়িতে স্থানীয় পণ্ডিত মশাইয়ের সহায়তায় সংস্কৃত ভাষা শিখেছিলেন। এই সূত্রে বাংলা এবং সংস্কৃত ব্যকরণ আয়ত্ত করেন। এই সময় বেদ, মনুসংহিতা ও উপনিষদ প্রভৃতি অধ্যয়ন করেছিলেন।

ধর্মবক্তা মুনশী মেহের উল্লাহ একটি সভায় ইসমাইল হোসেন একটি কবিতা পাঠ করেন। এই কবিতা শুনে মেহের উল্লাহ মুগ্ধ হন এবং ইসমাইল হোসেনের রচিত কবিতার গ্রন্থ প্রকাশে আগ্রহ দেখান। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে মেহের উল্লাহর অর্থায়নে ইসমাইল হোসেনের রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয়। ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে কাব্যগ্রন্থটি বর্ধিতাকারে দ্বিতীয় সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি প্রকাশের পর পরই তৎকালীন বাংলা সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে এবং সেই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এই সময় ইসমাইল হোসেন তৎকালীন ফরাসি বাণিজ্যকেন্দ্র চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাকে দু'বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সংগোপনে  ব্রিটিশ বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকেন। এর ভিতরে তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬), উচ্ছ্বাস (১৯০৭), উদ্বোধন (১৯০৭), নব উদ্দীপনা (১৯০৭) নামক কাব্যগ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়।

১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে বলকান যুদ্ধের সময়, তুর্কি বাহিনীর সাহায্যার্থে ভারতে ডাঃ মোখতার আহমদ আনসারীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান রেড ক্রিসেন্ট গঠিত হয়। এই সংগঠন একদল চিকিৎসকসহ 'অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল মিশন' প্রেরণ করে। ইসমাইল হোসেন সিরাজী মিশনের বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্কে যান। পরে তুরস্ক ভ্রমণ সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।

১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে ইসমাইল হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল মাসিক নূর নামে একটি পত্রিকা। এই পত্রিকায় তার নিজের রচিত মহাশিক্ষা মহাকাব্য প্রকাশিত হয়েছিল। এই ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে এই পত্রিকার 'মাঘ ১৩২৬' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল- নজরুল ইসলামের রচিত  মেহের নিগার একটি গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল। এই সূত্রে পরে নজরুলের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে নজরুল ইসলাম তাঁক অগ্রজ কবি হিসেবে অত্যন্ত সম্মান করতেন।

১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ইসমাইল হোসেন ও মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল সাপ্তাহিক 'ছোলতান' ইসমাইল হোসেনের অধিকাংশ প্রবন্ধই এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইসমাইল হোসেনের রচিত গ্রন্থাবলি
 
উপন্যাস সঙ্গীত গ্রন্থ প্রবন্ধ ভ্রমণ কাহিনী

তুরস্ক ভ্রমণ


সূত্র: