রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
[আনুমানিক ১৯০৫-১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ]
বিষ্ণুপুর ঘরানার একজন প্রথিতযশা সংগীতজ্ঞ এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যক্ষ
 
আনুমানিক ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তৎকালীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন- বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি সংগীতের প্রাথমিক ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন তাঁর পিতা গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।  

তিনি প্রধানত ধ্রুপদ এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তবে তাঁর সংগীতচর্চা শুধু ধ্রুপদী ধারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি অতুলপ্রসাদের গান এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতিও অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। অতুলপ্রসাদ সেনের অনেক গানের স্বরলিপিও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তৈরি করেছিলেন। এর বাইরে তিনি বহু ব্রহ্মসঙ্গীতের সুর করেছিলেন।

জীবনের শেষ ভাগে তিনি কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে বহু ছাত্রছাত্রী সংগীতের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

সংগীত শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন সুলেখক এবং গবেষক ছিলেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাঁর সংগীত ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।  রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ এবং সংকলনের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে হিন্দু-মুসলমান: এটি তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণা গ্রন্থ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য এবং সেখানে হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির মিলন ও প্রভাব নিয়ে তিনি এই বইটিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বর্তমানে এটি নতুন আঙ্গিকে 'খড়ি প্রকাশনী' থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
২. বিষ্ণুপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি: তিনি তাঁর জন্মস্থান এবং সংগীতের পীঠস্থান বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ইতিহাস, স্থাপত্য এবং সেখানকার সাংস্কৃতিক বিবর্তন নিয়ে একটি আকর গ্রন্থ রচনা করেন।
৩. অতুলপ্রসাদের গানের স্বরলিপি: অতুলপ্রসাদ সেনের গানের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি অতুলপ্রসাদী গানের শুদ্ধ সুর ও স্বরলিপি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর গানের স্বরলিপি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
৪. বিষ্ণুপুর ঘরানা ও সংগীত বিষয়ক প্রবন্ধ: তাঁর অসংখ্য সংগীত বিষয়ক তাত্ত্বিক প্রবন্ধ বিভিন্ন সমসাময়িক পত্র-পত্রিকায় (যেমন: দেশ, ভারতবর্ষ) প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের বিশেষ করে ধ্রুপদ ও খেয়ালের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় তাঁর লেখাগুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
 ৫. সচিত্র প্রকৃতিবাদ অভিধান (সম্পাদনা): রামকমল বিদ্যালঙ্কার রচিত এই অভিধানটি তিনি ১৮৮৮ সালের দিকে সম্পাদনা করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।