স্নায়ুসন্ধি
synaps

স্নায়ুতন্ত্রের ভিত্তি হলো এর স্নায়ুকোষ (Neurone)। এই কোষগুলো পর পর যুক্ত হয়ে তথ্য-সরবরাহ পথ তৈরি করে। এই যোগাযোগ পথে একটি স্নায়ুকোষের এ্যাক্সিনের সাথে অপর স্নায়ুকোষের ডেন্ড্রাইটের সংযোগের মাধ্যমে। এরূপ দুটি কোষের ভিতরের এই সংযোগস্থানে কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকে। এই ফাঁকা জায়গাকে বলা হয় স্নায়ুসন্ধি বা সিন্যাপ্স (synaps )।

স্নায়ুতন্ত্রের সকল স্নায়ুকোষের স্নায়ুসন্ধি একই রকমের হয় না। সন্ধি-প্রভেদের বিচারে স্নায়ুসন্ধি তিন ধরণের হতে পারে। এই ধরণ তিনটি হলো-

১. অ্যাক্সো ডেনড্রাইটিক সাইন্যাপস (axo-dendritic Synapse): একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত পরবর্তী অপর একটি নিউরোনের ডেনড্রাইটের সঙ্গে মিলিত হয়ে সন্ধি তৈরি হয়।

২. অ্যাক্সো সোমাটিক সাইন্যাপস
(axo-somatic Synapse): একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত পরবর্তী নিউরোনের কোষদেহের সঙ্গে মিলিত হয়ে যে সন্ধি তৈরি করে।

৩. অ্যাক্সো অ্যাক্সেনিক সাইন্যাপস
(axo-axonic Synapse): একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত অপর একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে যে সন্ধি তৈরি করে।
এছাড়া কখনও কখনও একটি নিউরোনের অ্যাক্সন অনেকগুলো নিউরোনের ডেন্ড্রাইটের সঙ্গে বা একটি নিউরোনের ডেন্ড্রাইটের সঙ্গে অনেকগুলি নিউরোনের এ্যাক্সোন মিলিত হয়।

সিন্যাপ্সের ভূমিকা
আগেই বলা হয়েছে- দুটি স্নায়ুকোষের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান সিন্যাপ্সের মধ্য দিয়ে। যদিও একে ফাঁকা জায়গা বলা হচ্ছে, কিন্তু এই জায়গাটা বস্তুশূন্য বা বায়ুশূন্য নয়। এই ফাঁকা জায়গার পরিমাণ ২০ ন্যানো মিটার। সিন্যাপ্সের ভিতরে থাকে তথ্য পরিবাহী কিছু রাসায়নিক তরল পদার্থ। একে বলা হয় নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter)। তথ্য সঞ্চালনে নিউরোট্রান্সমিটার-এর অন্তর্গত বিভিন্ন উপাদান স্নায়ুকোষের মধ্যে ফেরির কাজ করে। এ্যাক্সন এর কোনো একটি উপাদান থেকে তথ্য গ্রহণ করে এবং সে তথ্য বহন করে অন্য কোষের ডেন্ড্রাইড অংশে পৌঁছে দেয়।

সাধারণ স্নায়ুকোষের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সৃষ্টি হয় সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড এবং ক্যালসিয়াম আয়ন। এদের থাকে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের আধান (charge) প্রকৃতি। এই আধানের মানের (ভোল্টেজ) উপর নির্ভর করে সৃষ্টি হয় বিদ্যুৎ-রাসায়নিক স্পন্দন। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক সময় স্নায়ুস্পন্দন বলা হয়। মস্তিস্কে এদের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমের ফলে যে বিদ্যুৎ-তরঙ্গের উদ্ভব হয়, তাকে মস্তিস্কের তরঙ্গ বা স্পন্দন বলা হয়। এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো- নিউরোট্র্যান্সমিটার অধ্যায়ে।