অগ্নি-বীণা
কাজীনজরুল ইসলাম
খেয়া-পারের তরণী যাত্রীরা রাত্তিরে হ’তে এল খেয়া পার, বজ্রেরি তুর্য্যে এ গর্জ্জেছে কে আবার? প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে ঝঞ্ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে! নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ! মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ! নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে! তমসাবৃতা ঘোরা 'কিয়ামত' রাত্রি, খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী, শিঙ্গার হুঙ্কারে থর থর যামিনী! লঙ্ঘি এ সিন্ধুরে প্রলয়ের নৃত্যে ওগো কার তরী ধায় নির্ভিক চিত্তে— অবহেলি ‘ জলধির ভৈরব গর্জ্জন প্রলয়ের ডঙ্কার ওঙ্কার তর্জ্জন! পুণ্য পথের এ যে যাত্রীরা নিষ্পাপ, ধর্ম্মেরি বর্ম্মে সু-রক্ষিত দিল্-সাফ! নহে এরা শঙ্কিত বজ্র নিপাতে ও কাণ্ডারী আহমদ তরী ভরা পাথেয়! আবুবকর উসমান উমর আলী হায়দর দাঁড়ী যে তরুণীর, নাই ওরে নাই ডর! কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা, দাঁড়ী মুখে সারি গান — লা শরীক আল্লাহ্! 'শাফায়ত্'-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল, 'জান্নত' হ’তে ফেলে হুরী রাশ্ রাশ্ ফুল! শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল-দাত্রী, গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী! বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার, ঐ হ’লো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার | |
রচনা ও প্রকাশকাল:
মোসলেম ভারত পত্রিকায় শ্রাব্ণ ১৩২৭ বঙ্গাব্দ (জুলাই-আগষ্ট ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ)
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটি প্রথম '
অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত
হয়েছিল।