বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম :
আল্লা ব’লে কাঁদ বারেক্ রসুল ব’লে কাঁদ্
আল্লা ব’লে কাঁদ বারেক্ রসুল ব’লে কাঁদ্।
সাফ্ হবে তোর মনের আকাশ উঠবে ঈদের চাঁদ॥
ভোগে কেবল দুর্ভোগ সার, বাড়ে দুখের বোঝা
ত্যাগ শিখ্ তুই সংযম শিখ, সেই তো আসল রোজা,
এই রোজার শেষে ঈদ আস্বে, রইবে না বিষাদ॥
আস্বে খোদার দরগা থেকে শিরনি তোর তরে
কমলিওয়ালা নবীর দেখা পাবি রে অন্তরে,
খোদার প্রেমের স্রোত বইবে ভেঙ্গে মনের বাঁধ॥
তোর হৃদয়ের কারবালাতে বইবে ফোরাত নদী
শহীদের দর্জা তোরে দেবেন আল্লা হাদী,
দুনিয়াদারি ক’রেই পাবি বেহেশ্তেরি স্বাদ॥
- ভাবানুসন্ধান: ইসলাম ধর্ম মতে- সকল পাপ থেকে রক্ষাকারী আল্লাহ। আর
তাঁর প্রিয় নবি হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর হলেন- সে ধর্ম শিক্ষার মুর্শিদ। তাঁর
করুণায় বান্দা পায় পাপমুক্তির নিশানা। তাঁর সুপারিশেই আল্লাহ মাপ করে দিতে
পারেন পাপ। তাই মনের পাপের কালিমা দুর করার জন্য- আল্লাহ এবং পাপের ক্ষমা
চাওয়ার মুর্শিদ হিসেবে নবির কাছে করুণা ভিক্ষা করার কথা বলা হয়েছে, এই গানে।
কবির মতে- ভোগ শুধু মাত্র দুর্ভোগ ডেকে আনে না এবং দুঃখের বোঝাও বাড়ায়। তাই ভোগে
থেকে নিজেকে বিরত থাকর সংযমই হলো প্রকৃত রোজা। এই সংযম শেষে আসে বিষাদবিহীন
মহামিলনের ঈদ। এই সংযমেই খোদার দরগা থেকে ভোগ হিসেবে শিরনি (পায়েস বিশেষ) হয়ে
আসে এবং সংযমী ব্যক্তি কমলিওয়ালা (সুফি, পূর্ণতা প্রাপ্ত ব্যক্তি) নবির দেখা
পান অন্তরে। এই সংযমী সাধকের মনের মনের বাঁধ ভেঙে অন্তরে বইবে খোদার প্রেমের
স্রোত। মনের তৃষ্ণার্ত কারবালায় বইবে ফোরতের অমিয় জলধারা। শহিদের দরজা হবে
আল্লাহর পথের হাদী (পথপ্রদর্শক)। সব মিলিয়ে আল্লাহ ও নবির করুণায় পৃথিবীই হয়ে
উঠবে বেহেস্ত।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৭),
টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৪১ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড: টুইন।
জুলাই ১৯৪০ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৭) । এফটি ১৩৩৬৫। মাস্টার মোহন (হরিহর শুক্লা)। সুরকার:
কে মল্লিক।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ-নাত মিশ্র
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: গা।