বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আরো কত দূর
নাটক: রুক্মিণী মিলন
আরো কত দূর?
কখন শুনিব তব বাঁশরির সুর?
দেবে কখন ধরা হব স্বয়ম্বরা
কাঁদাতে জান শুধু তুমি নিঠুর॥
- পাঠভেদ:
- দেবে কখন ধরা হব স্বয়ম্ভরা [নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ]
দেবে কখন ধরা হব স্বয়ম্বরা [রেকর্ড]
- ভাবানুসন্ধান: নাটকের প্রয়োজনে ব্যবহৃত রুক্মিণীর গান। উল্লেখ্য
রুক্মিণী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী। বৈষ্ণবরা মনে করেন- তিনি ছিলেন কৃষ্ণের
অন্যান্য স্ত্রীদের মধ্যে প্রধান। লক্ষ্মীর অবতার এবং সৌভাগ্যের দেবী হিসাবেও
তাঁকে
মান্য করে থাকেন।
রুক্মিণী ছিলেন বিদর্ভের মহারাজা ভীষ্মকের কন্যা। কৃষ্ণের বীরত্বের কথা শুনে
তিনি তাঁর প্রেমে পড়েন। ভীষ্মক রুক্মিণীর বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি
গ্রহণ করেল, তিনি কৃষ্ণকে তাঁর প্রেমের কথা লিখে জানান। এই বার্তা পেয়ে
রুক্মিণীকে বিয়ে করা জন্য আসছেন এমন প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন কৃষ্ণ। কিন্তু
বিবাহের লগ্ন আসন্ন হলেও- কৃষ্ণের আগমনের বিলম্ব দেখে তিনি অস্থির হয়ে পড়েন। নাট্যকার এই প্রেক্ষাপটে
রুক্মিণীর কণ্ঠে নজরুলের রচিত এই গানটি ব্যবহার করেছিলেন।
কৃষ্ণের প্রতীক্ষায় অস্থির হয়ে রুক্মিণী গানের সুরে বলেন- আর কতদূর আছে কৃষ্ণ,
কখন তিনি তাঁর আগমনের বার্তা পাবেন বাশির সুরে। কখন তিনি আসবেন বিদর্ভে, আর
রুক্মিণী স্বয়ম্বরা সভায় তাঁকে স্বামী হিসেবে বরণ করে নেবেন। অতি
বিলম্বের কারণে, ক্রন্দসী রুক্মিণী অভিমানে বলেন- তিনি নিষ্ঠুরের মতো শুধু
কাঁদাতেই জানেন।
প্রসঙ্গত
উল্লেখ্য, পরে রুক্মিণী অম্বিকার কাছে প্রার্থনা করতে মন্দিরে যাওয়ার সময় কৃষ্ণকে দেখতে
পান। এরপর কৃষ্ণ দ্রুত রুক্মিণীকে অপহরণ করে, তাঁর রথে করে দ্বারকায় ফিরে আসেন
এবং তাঁকে বিয়ে করেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ
১৩৪৫) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি
মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের রচিত নাটক
'রুক্সিনী মিলন'-এর রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স
ছিল ৩৯ বৎসর ৭ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ। রশিদুন নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট।
জুন ২০১৮। গান সংখ্যা
১১৩৯]
- রেকর্ড:
এইচএমভি [জানুয়ারি ১৯৩৯ (পৌষ-মাঘ ১৩৪৫)। মহেন্দ্রগুপ্তের রচিত নাটক
'রুক্সিনী মিলন'। এন ১৭২৩৯। চরিত্র: রুক্মিণী। শিল্পী: সরযুবালা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। বৈষ্ণবসঙ্গীত। রুক্মিণীর
গান।