বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ওরে মথুরা-বাসিনী, মোরে বল্
ওরে মথুরা-বাসিনী, মোরে বল্।
কোথায় রাধার প্রাণ-
ব্রজের শ্যামল॥
আজও রাজ-সভা মাঝে
(সে) আসে কি রাখাল-সাজে?
আজিও তার বাঁশি শুনে যমুনার জল হয় কি উতল॥
পায়ে নূপুর কি পরে শিরে ময়ূর-পাখা,
আছে শ্রীমুখে কি অলকা তিলক আঁকা।
রাধা রাধা ব'লে কি গো
কাঁদে সেই মায়া-মৃগ?
নারায়ণ হয়েছে সে তোদের মথুরা এসে মোদের চপল॥
- ভাবসন্ধান: কংস বধের জন্য কৃষ্ণ ব্রজধাম ছেড়ে মধুরায় এসেছিলেন যোদ্ধা হয়ে।
ব্রজধামে কৃষ্ণ তাঁর শৈশবের লীলায় আমোদিত করে রেখেছিলেন। বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরায় এসে
তিনি কেমন আছেন- এমন কৌতুহল এই গানে প্রকাশ পেয়েছে।
কোন এক মথুরাবাসিনীর কাছে কবি
এই কৌতুহল নিয়ে- খোঁজ নিয়েছেন- কোথায় সেই রাধা অন্ত প্রাণ ব্রজের শ্যামল কিশোর?
মধুরায় এসে কি এখনো তিনি রাজ-সভাতে আসেন রাখাল-রাজার সাজে। আজো কি তাঁর বাঁশি শুনে যমুনার জল উতলা হয়,
তাঁর পায়ে কি বাজে নূপুর, মাথায় কি থাকে ময়ূয়ের পাখা দিয়ে তৈরি মুকুট, এখনো কি তাঁর
শ্রীমুখে অলকা তিলক আঁকা থাকে, রাধা রাধা বলে তিনি মায়ামৃগ হয়ে কাঁদেন?
ব্রজধামের কৈশোর লীলা শেষে, চপল কৃষ্ণ মথুরায় এসে নারায়ণ রূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন
জগতের পাললনকর্তা-রূপী
বিষ্ণুর অবতার হিসেবে। এখানে কৃষ্ণ কানাই নয়, তিনি ভগবান, তিনি জগৎসৃষ্টির আদি সত্তা
নারায়ণ। এই পরিচয়ে কবির সন্দেহ, হয়তো বজ্রধামের
শ্রীকৃষ্ণের সে লীলার কোনো অবশেষ নেই নারয়ণ সত্তারূপী কৃষ্ণের ভিতরে। কারণ মথুরাতে এসে তিনি হয়েছেন
যথার্থ সৃষ্টির পালনকর্তা।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৩৯ খ্রিষ্টাব্দের জুন (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৬) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি এই গানের প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ১ মাস।
-
গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২]। গান সংখ্যা ১৩১৮। পৃষ্ঠা:
৩৯৯
- রেকর্ড: টুইন [জুন ১৯৩৯ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৬)]। এফটি ১২৮৪২। শিল্পী:
গীতা বসু। সুর: নজরুল ইসলাম
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, চল্লিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা।
জ্যৈষ্ঠ
১৪২৩ বঙ্গাব্দ/ জুন, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ] গান সংখ্যা ৭। পৃষ্ঠা: ৪৪-৪৬।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বিরহ
- সুরাঙ্গ: ভজন