বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ওরে ও-চাঁদ! উদয় হ'লি কোন্ জোছনা দিতে
ওরে ও-চাঁদ! উদয় হ'লি কোন্ জোছনা দিতে!
দেয় অনেক বেশি আলো আমার নবীর পেশানিতে॥
ওরে রবি! আলোক দিস্ যতি তুই দগ্ধ করিস্ তত
আমার নবী স্নিগ্ধ শীতল কোটি চাঁদের মত,
সে নাশ করেছে মনের আঁধার ঈষৎ হাসিতে॥
ওরে আসমান! তুই সুনীল হলি জানি কেমন ক'রে
আমার নবীর কালো চোখের একটুকু নীল হ'রে।
ওরে তারা! তোরা জ্যোতি পেলি নবীজীর চাউনিতে॥
ওরে বসরা গোলাব!অনেক বেশি খোশবু তোদের চেয়ে
সেই ধূলিতে মোর নবীজী যেতেন যে পথ বেয়ে,
সেই বারতা ফুলকে শোনায় বুল্বুলি সঙ্গীতে॥
- ভাবসন্ধান: গানটিতে হজরত মুহম্মদ সাঃ-এর মহিমা উপস্থাপন করা হয়েছে- নানা
রূপকতায়। কবি মনে করেন প্রকৃতির যা কিছু সুন্দর, তার সবই মহিমান্বিত হয়েছে নবির দেহ ও মনের
সৌন্দর্যের ছোঁয়ায়।
রাত্রির অন্ধকার দূর করতে আকাশে উঠে জ্যোৎস্না ছড়ানো চাঁদ। মানব মনের অন্ধকার দূরীকরণে
সে চাঁদের
জ্যোৎস্নার চেয়ে নবির কপালের জ্যোতি আর বেশি উজ্জ্বল। আকাশের সূর্য যত না
আলো দেয়, তার চেয়ে বেশি দেয় দগ্ধ দাবদাহ। নবির জ্যোতি কোটি চাঁদের মত,
কিন্তু তা তাপহীন স্নিগ্ধ ও শীতল।
কবি মনে করেন- নবির নীলচোখের একটু খানি নীল রঙ নিয়ে আকাশ হয়েছে সুনীল। আর
তারকারা জ্যোতি পেয়েছে, নবির জ্যোতির্ময় দৃষ্টি থেকে। বসরা'রা সুগন্ধিত গোলাপের
চেয়ে নবির দেহ-সৌর্ভ আরও মধুরতর। যে ধূলির পথে নবি প্রতিদিন আসা যাওয়া করতেন,
তাঁর সকল কথাই যেন বুলবুল তাঁর সঙ্গীতের সুরে ফুলকে শোনায়।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর
(আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৬)
মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি এই গানের একটি রেকর্ড প্রকাশ
করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ:
-
জুলফিকার
- দ্বিতীয় সংস্করণ [ডিসেম্বর, ১৯৫২ (পৌষ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)]
২৫ সংখ্যক গান।
- নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক
১৪১৯, নভেম্বর ২০১২।
জুলফিকার দ্বিতীয় খণ্ড। ১ম গান।
পৃষ্ঠা ৯১]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ১৩২৮ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৪০৩।]
- রেকর্ড:
- টুইন [অক্টোবর ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৬)। এফটি. ১৩০০৬। শিল্পী: সিরাজুর রহমান।]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম ধর্ম। নাত-এ-রসুল