বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: কাজরি গাহিয়া চল গোপ-ললনা
কাজরি গাহিয়া চল গোপ-ললনা।
শ্রাবণ-গগনে দোলে মেঘ-দোলনা॥
পর সবুজ-ঘাগরি চোলি নীল ওড়না,
মাখো অধরে মধুর হাসি, চোখে ছলনা॥
কদম-চন্দ্রহার প'রে এসো চন্দ্রাবলী
তমাল-শাখা-বরণা এসো বিশাখা-শ্যামলী,
বাজায় করতাল দূরে তাল-বনা॥
লাবনি-বিগলিতা এসো সকরুণ ললিতা
যমুনা-কূলে এসো ব্রজবধূ কুল-ভীতা,
অলকে মাখিয়া নব জল-কণা॥
-
ভাবনসন্ধান: এই গানে কবি সকল গোপ-ললনাদের সুসজ্জিতা হয়ে, কাজরি গান গেয়ে বৃন্দাবনের
বর্ষাকালীন ঝূলনোৎসবে যোগদানের জন্য আহ্বান করেছেন। আহ্বান করেছেন রাধার সখি
রঙ্গপ্রিয় বিশাখা, ললিতাকে কুলকলঙ্কিনী হওয়ার ভয়ে ভীতা ব্রজবধূদের। এমন কি
রাধার প্রেম-প্রতিদ্বন্দ্বী চন্দ্রবলীকেও।
এই উৎসবে আমন্ত্রিতদের সাজসজ্জা এবং প্রকৃতির বর্ণনায় ব্যবহার করেছেন অপূর্ব
রূপকল্প চিত্র।
কবির কাছে মনে হয়েছে শ্রাবণের আকাশের দোলায়িত মেঘ-দোলান যেন ঝুলনের দোলনা
এই ঝুলনোৎসবের ছন্দ-সৌন্দর্যকে সঙ্গ দিতে।
এই উৎসবের জন্য শ্যামবর্ণের প্রকৃতির রঙের সাথে মিলিয়ে গোপ ললনাতে পরতে বলা
হয়েছে সবুজ ঘাগরি। আর নীলবর্ণের ঘন মেঘের সাথে মিলয়ে তাঁর যেন পরবেন নীল ওড়না।
তাঁদের অধরের মধুর হাসিতে আর চোখে ছলনায় ঝুলন হয়ে উঠবে শৃঙ্গার রসের সিক্ত
প্রেমমধুর।
কবি কৃষ্ণারাগিণী চন্দ্রাবলীকে কদম-চন্দ্রাহারে সুশোভিতা হয়ে এই উৎসবে আসার
আহ্বান করেছেন। একই সাথে তমাল শাখার মতো শ্যাম-বর্ণা রাধার সখি বিশাখা-শ্যামলীকে
আহ্বান করা হয়েছে। যেন তাঁদের নৃত্যগীতে উদ্বেলিত হয়ে তালবনে উঠবে করতালের ধ্বনি।
এরপর আহ্বান করা হয়েছে। লাবনি-বিগলিতা (সৌন্দর্যে অভিভূতা করে এমন) রাধার সখি-
প্রেমকরুণা-সিক্ত ললিতাকে। আহ্বান করা হয়েছে- অলকগুচ্ছে নব জল-কণায় সিক্ত করা
কুলের কলঙ্কের ভয়ে ভীতা ব্রজবধূদের। কবি ভাবেন এসবের মধ্যে দিয়ে ঝুলনোৎসব হয়ে
উঠবে সর্বাঙ্গসুন্দর, তাই তাঁর গোপ-ললনাদের এই আহ্বান।
-
রচনাকাল ও স্থান:
গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ৭ আগষ্ট
(মঙ্গলবার, ২২ শ্রাবণ ১৩৪১) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে
এই গানের একটি রেকর্ড প্রকাশের চুক্তি হয়েছিল। সেই মোতাবেক
ইন্দুবালার কণ্ঠে গানটি
রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে এই রেকর্ডটি বাতিল হয়ে যায়।
এই
সময় নজরুলের বয়স ৩৫ বৎসর ছিল
২
মাস।
- গ্রন্থ:
- গানের মালা
- প্রথম সংস্করণ আশ্বিন ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)।
৯৪। কাজরী- লাউনী।
- নজরুল রচনাবলী ষষ্ঠ খণ্ড [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২। গানের মালা।
৯৪। কাজরী- লাউনী। পৃষ্ঠা ২৪৯-২৫০]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৩৩৩।
তাল লাউনী। পৃষ্ঠা: ৪০৪]
-
সুরলিপি। [১৬ আগষ্ট
১৯৩৪ (বুধবার, ৩১ শ্রাবণ ১৩৪২)]।
জগৎঘটক-কৃত স্বরলিপি। প্রকাশক:
নজরুল ইসলাম।
কাজরী- লাউনী।
[নমুনা]
- রেকর্ড: এইচএমভি কোম্পানির সাথে চুক্তি [৭ আগষ্ট ১৯৩৪ (মঙ্গলবার, ২২ শ্রাবণ ১৩৪১)।
শিল্পী ইন্দুবালা। রেকর্ডটি প্রকাশিত হয় নি।]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকা
- জগৎ
ঘটক। সুর-লিপি নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, আগষ্ট ২০০৩। [নমুনা]
-
সুরকার:
কাজী নজরুল ইসলাম
-
পর্যায়:
-
বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। ঝুলনোৎসব
-
সুরাঙ্গ: কাজরী