বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: জয়-জগৎ-জননী, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বন্দিতা
জয়-জগৎ-জননী, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বন্দিতা,
জয় মা-ত্রিলোক তারিণী।
জয় আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী নন্দন-লোক-নন্দিতা
জয় দুর্গতিহারিণী॥
তোমাতে সবর্জীবের বসতি, সবার্শ্রয় তুমি মা,
জয় হয় সব বন্ধন পাপ-তাপ তব পদ চুমি' মা।
তুমি শাশ্বতী, সৃষ্টি-স্থিতি, তুমি মা প্রলয়কারিণী॥
তুমি মা শ্রদ্ধা, প্রেম, ভক্তি তুমি কল্যাণ সিদ্ধি
ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ তুমি তিন-জন ঋদ্ধি,
জয় বরাভয়া ত্রিগুণময় দশ প্রহরণ-ধারিণী॥
- ভাবসন্ধান: গানটি মূলত একটি শাক্ত-ভক্তিমূলক স্তোত্রধর্মী সংগীত। এতে
'ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বন্দিতা' আদ্যাশক্তি দেবী দুর্গার বন্দনা ও তাঁর সর্বশক্তিময় রূপের মহিমা
এবং মুক্তিদাত্রী রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেবীকে বিশ্বজননী, সর্বশক্তির আধার ও
তিনি সম্বোধিতা হয়েছেন বিশ্বজননী হিসেবে।
তিনি আদ্যাশক্তি, তাই তিনি সকল শক্তির উৎস। তিনি পরমেশ্বরী এবং সকল দুঃখ ও দুর্দশা দূরকারিণী। সমস্ত প্রাণী
তাঁর সত্তার মধ্যেই বিরাজ করে। তাই তিনি সকলের আশ্রয় ও পালনকর্ত্রী। তাঁর চরণে শরণ নিলে
সকল পাপ, দুঃখ ও সংসারের বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়। সৃষ্টি, পালন ও সংহার- সব
তাঁরই শক্তির প্রকাশ। মানবজীবনের চার পুরুষার্থ- ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ। এ সবই
তাঁর কৃপায় সিদ্ধ হয়। আবার শ্রদ্ধা, প্রেম ও ভক্তির উৎসও তিনি। তিনিও বরদাত্রী ও অভয়দাত্রী।
তিনই সত্ত্ব, রজ, তম এই তিন গুণের আধার, একই সাথে দশ অস্ত্রধারিণী রূপে শক্তির প্রতীক
হিসেবে বিরাজিতা।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় না।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ) গ্রামোফোন
রেকর্ডের জন্য রচনা করেছিলেন 'বিদ্যাপতি' নামক পালা-নাটিকা। এই নাটকের
পাণ্ডুলিপিতে গানটি থাকলেও শেষ পর্যন্ত রেকর্ডে স্থান পায় নি।
এই সময় নজরুলে বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৪০৬। নাটক: 'বিদ্যাপতি' (স্তব)। পৃষ্ঠা: ৪২৫]
- বিদ্যাপতি।
পালানাটিকা। প্রথম খণ্ড। বিদ্যাপতির দুর্গাস্তব। [নজরুল রচনাবলী ষষ্ঠ খণ্ড। বাংলা একাডেমী। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২। পৃষ্ঠা: ৩০৯]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। বন্দনা। দুর্গা