বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:তোমার নূরের রওশনী মাখা নিখিল ভুবন
তোমার নূরের রওশনী মাখা নিখিল ভুবন,
অসীম গগন।
তোমার অন্তর জ্যোতির ইশারা গ্রহ-তারা-চন্দ্র-তপন॥
তোমার রূপের ইঙ্গিত খোদা
ফুটিছে বনের কুসুমে সদা,
তোমার নূরের ঝলক হেরি’ মেঘে বিজলি চমকে যখন॥
প্রাণের খুশি শিশুর হাসি
মধুরতোমার রূপ দেয় প্রকাশি’,
তোমার জ্যোতির সমুদ্রে খোদ আলোর ঝিনুক মোর এ দু’টি
নয়ন॥
ধানের খেতে নদী-তরঙ্গে
দুলে তোমার রূপ মধুর ভঙ্গে,
নিতি দেখা দাও হাজার রঙ্গে অরূপ নিরাকার তুমি
নিরঞ্জন॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে বিশ্বপ্রকৃতির সৌন্দর্য, আলো ও প্রাণের মধ্যে
পরমসত্তার নূর ও মহিমার প্রকাশ অনুভব করার মাধ্যমে আল্লাহর সর্বব্যাপী, নিরাকার
ও চিরসুন্দর সত্তার আধ্যাত্মিক উপলব্ধিই গভীর ভক্তিভরে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর
উপলব্ধিতে সমগ্র বিশ্বজগৎ—তথা আকাশ, প্রকৃতি, আলো, প্রাণ ও সৌন্দর্য—সবই
আল্লাহর নূরের প্রকাশ।
গানের শুরুতেই কবি এক অমোঘ উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন যে- সমগ্র বিশ্বভুবন ও অসীম আকাশ
আল্লাহর নূরের রওশনিতে আলোকিত। গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্যের আলোও এ সবই
তাঁর অন্তর্জ্যোতিরই প্রকাশ। মূলত কবি বিশ্বপ্রকৃতির প্রতিটি অস্তিত্বের মধ্যেই
কবি আল্লাহর মহিমাকে জ্যোতির্ময়রূপে অনুভব করেন।
কবি অনুভব করেন, বনের ফুলের সৌন্দর্য, মেঘের মাঝে বিদ্যুতের ঝলক—এসবই আল্লাহর
রূপের ক্ষণিক আভাস। এখানে প্রকৃতির রূপ ও সৌন্দর্যকে তিনি আল্লাহর নূরের প্রতীক
হিসেবে দেখেছেন। অর্থাৎ দৃশ্যমান জগতের সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েই অদৃশ্য স্রষ্টার
পরিচয় প্রকাশিত হয়।
শিশুর নিষ্পাপ হাসি ও
প্রাণের আনন্দের মধ্যেও তাঁর মধুর রূপকে অনুভব করেন কবি। তাঁর নিজের দুটি নয়ন
যেন আলোর সমুদ্রের মধ্যে দুটি ঝিনুকের মতো, যা সেই নূরের আভা ধারণ করার চেষ্টা
করে চলেছে মাত্র। এখানে কবির চোখকে আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন
করা হয়েছে।
কবি দেখতে পান ধানের ক্ষেতের দোলা, নদীর তরঙ্গ ও প্রকৃতির বিচিত্র রূপের
মধ্যে আল্লাহর সৌন্দর্যের প্রকাশ। তিনি উপলব্ধি করেন, নিরাকার ও অরূপ আল্লাহর
অসীম অসংখ্য রূপে প্রকাশ। তাই কবির কাছে মনে হয়- বিশ্বপ্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্যই
পরমসত্তার নূরের বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ
১৩৪৪) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ:
-
জুলফিকার
- দ্বিতীয় সংস্করণ [ডিসেম্বর, ১৯৫২ (পৌষ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)]
- নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২।
জুলফিকার দ্বিতীয় খণ্ড। ১৭ [১৬]। পৃষ্ঠা ৯৯-১০০]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)।
১৪৮৩ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৪৪৬।
- রেকর্ড: এইচএমভি [জুলাই ১৯৩৭ ( আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৪)। এফটি ৯৯২৬। শিল্পী:
রৌশন আরা বেগম। সুর: কমল দাশগুপ্ত]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ। বন্দনা