বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আরো নূতন নূতনতার শোনাও
আরো নূতন নূতনতর শোনাও গীতি গানেওয়ালা।
আরো তাজা শারাব ঢালো, কর কর হৃদয় আলা॥
অকুণ্ঠিত চিতে ব’স নিরালা ভোর হাওয়ার সাথে,
পুরাও আশা পিয়ে সুধা নিতুই নূতন অধর-ঢালা॥
কর ত্বরা, এ আব-খোরা ভরাও নূতন শারাব দিয়ে,
নাহি গো মোর সাকির হাতে চাঁদির গেলাস, চাঁদের থালা॥
কি স্বাদ পেলে জীবন-মধুর শারাব যদি না হয় সাথি,
স্মরণে তার আরো তাজা আনো শারাব ভর-পিয়ালা॥
আরো নূতন রঙে রেখায় গন্ধে রূপে, দিল-পিয়ার
আমার প্রিয়া! আমার তরে কর এ নিখিল উজালা॥
প্রিয়ার ছায়া-বীথির পথে যাবে যখন, ভোরের হাওয়া,
নূতন করে শুনায়ো তায় হাফিজের এ গান নিরালা॥
- ভাবসন্ধান: হাফিজের রচিত "মোতরেবে
খোশ্নওয়া বগো তাজা ব-তাজা নৌ-বনৌ" শীর্ষক গজলের
নজরুল-কৃত অনুবাদ। এটি নজরুলের অনুবাদকৃত 'দীওয়ান-ই হাফিজ গীতি'-এর
নবম গান। এই গানে কবির কাছে পরমস্রষ্টা প্রিয়া, তাঁর প্রতি আনুগত্য
এবং প্রেমের প্রতীক হলো শরাব এবং যে গুরুর মাধ্যমে কবি পরম স্রষ্টার বাণী লাভ
করেন, তিনি হলেন সাকি। আর পরম ধর্মজ্ঞান হলো- আলো। রাত্রি হলো সনাতন ধর্মের
অন্ধভাবনার প্রতীক। রাত্রি শেষে যখন ভোর আসে। এই ভোর হলো নতুন প্রেমের উষালগ্ন।
আর ভোরের হাওয়া হলো- নব প্রেমবাণীর প্রবাহ।
গানের শুরুতে কবি- পরমধর্মের সনাতনী গানের বদলে নতুন গান শোনানোর জন্য
সাধক-শিল্পীদের প্রতি অনুরোধ করেছেন। যেন এ সকল গানের মধ্য দিয়ে পরমস্রষ্টার
প্রতি নবতর প্রেমের আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃদয় নবতর জ্ঞানে আলোকিত হয়।
খোদার প্রেমের সনাতনী শরাব পান করে কবি তৃপ্ত নন। তাই তিনি ধর্মগুরুর কাছে নতুন নতুন
ধর্মের বাণী এবং গজলশিল্পীর কাছে হৃদয় আলো করা নতুন গজল পরিবেশনের জন্য
সকাতর অনুরোধ করেছেন। রাত্রি শেষে, স্রষ্টার প্রেমের অমৃত মধুর প্রেম ও গান
উপভোগের জন্য, তিনি অকুণ্ঠিত চিত্তে গুরুরূপী বন্ধুকে নির্জনে তাঁর পাশে বসার অনুরোধ
করেছেন। কবি তাঁর গুরুকে দ্রুত তাঁর আব-খোরা (পান-পাত্র) থেকে নতুন প্রেমের
শরাব দিয়ে তাঁর পাত্র পূর্ণ করে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। কারণ রাত শেষে সাকির হাতের রূপার
গেলাসে প্রেমের সুধার আর বাকি থাকবে না। কবির আত্মজিজ্ঞাসা, কী মূল্য আছে- যদি সাথে
না থাকে স্রষ্টার দেওয়া নতুন জীবনকে মধুময় করার মতো শরাব।
কবি মনের মানুষ (দিল পিয়ারা) তথা পরম প্রেমিকাকে চান-
আরো নূতন রঙে রেখায় গন্ধে রূপে। এই দিল পিয়ারা হলেন
পরম স্রষ্টা। কবি মনে করেন, এই প্রিয় তাঁরই জন্য বিশ্বজগতকে
জ্ঞানের আলোতে আলোকিত করবেন। কবির বাসনা, তাঁরই মতো, তাঁর
প্রিয়ার ছায়া-বীথির পথে যখন কেউ চলবে, তখন
যেন নির্জনে ভোরের হাওয়ায় নূতন করে
তাঁকে হাফিজের গজল শুনায়। এখানে হাফিজের এই
গজল শধু গীতিকাব্য নয়, তার চেয়ে বড় তাঁর ধর্ম দর্শন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। জয়তী পত্রিকার 'শ্রাবণ ১৩৩৭ (জুলাই-আগষ্ট ১৯৩০)' সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩১ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ
-
নজরুল-গীতিকা।
- প্রথম সংস্করণ [ভাদ্র ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ ১৩৩১ বঙ্গাব্দ। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩০।
দীওয়ান-ই হাফিজ গীতি। ১। মান্দ্ -কার্ফা। পৃষ্ঠা ৯]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। তৃতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা
ফাল্গুন ১৪১৩/মার্চ ২০০৭] নজরুল
গীতিকা। দীওয়ান-ই হাফিজ গীতি। ৯। মান্দ্ -কার্ফা।
পৃষ্ঠা: ১৭৫] 'নজরুল গীতিকা'য়
অন্তর্ভুক্ত গানটির পাদটিকা উল্লেখ আছে- "মোতরেবে খোশ্নওয়া বগো তাজা
ব-তাজা নৌ-বনৌ" শীর্ষক বিখ্যাত গজলের অনুবাদ।
- পত্রিকা:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। সুফিদর্শন। প্রার্থনা।