বিষয়: নজরুলসঙ্গীত
শিরোনাম: জাগো শ্যামা জাগো শ্যামা আবার রণ-চণ্ডী সাজে
জাগো শ্যামা জাগো শ্যামা আবার রণ-চণ্ডী সাজে
তুই যদি না জাগিস মা গো ছেলেরা তোর জাগবে না যে॥
অন্নদা তোর ছেলেমেয়ে
অন্নহারা ফেরে ধেয়ে,
বাঁচার অধিক আছি মরে, দেখে কি প্রাণে না বাজে॥
শ্মশান ভালোবাসিস যে তুই, ভূ-ভারত আজ হল শ্মশান,
এই শ্মশানে আয় মা নেচে, কঙ্কালে তুই জাগা মা প্রাণ।
চাই মা আলো মুক্ত বায়ু
প্রাণ চাই, চাই পরমায়ু,
মোহ-নিদ্রা ত্যাগ কর মা শিব জাগা তুই শবের মাঝে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি মাতৃরূপে কালীর (শ্যামা) কাছে দেশ ও মানুষের দুঃখ-দুর্দশা
মোচনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। দেশ ও সমাজের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য দেবী
শ্যামার কাছে শক্তি, জাগরণ ও নবজীবনের প্রার্থনা করেছেনে। কবি মনে করেন দেবীর
জাগরণ মানেই মানুষের জাগরণ এবং মৃতপ্রায় সমাজে নতুন প্রাণের সঞ্চার।
কবি মাতৃরূপিণী শ্যামাকে আহ্বান করে বলছেন, যেন তিনি আবার রণচণ্ডীর রূপে জেগে
ওঠেন। কারণ তিনি যদি জাগ্রত না হন, তবে তাঁর সন্তানরাও জাগতে পারবে না। কবি মনে
করেন তাঁর দৈবশক্তি ও প্রেরণা না থাকলে মানুষের মধ্যে জাগরণ ও সাহস আসবে না।
অন্নদারূপিণী এই মায়ের সন্তনারা অন্নহীন হয়ে ছুটে বেড়ায়। যাঁরা বেঁচে আছে যেন
জীবন্মৃতের মতো। তাই দেবীর কাছে কবি প্রশ্ন রেখেছেন- তাঁর এই সন্তানদের ভয়াবহ দুঃখ-দুর্দশা কি
দেবী অন্নদার হৃদয়ে আঘাত করে না?
তিনি শ্মশানকালী, শ্মশানপ্রিয়া। শ্মশানেই তাঁর নৃত্যানন্দ। সমগ্র ভারতভূমিই যেন এক শ্মশানে পরিণত হয়েছে, যেখানে দুঃখ, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর ছায়া বিরাজ করছে। তাই কবি দেবীকে আহ্বান করছেন-
যেন তাঁর শ্মশানের
কভি এই শ্মশানসম পৃথিবীতে নেমে আসার আহ্বান করেছেন এই জন্যই, যেন নৃত্যের শন্দে মৃতপ্রায় মানুষের কঙ্কালের মাঝেও নতুন প্রাণের
স্পন্দন জাগরিত হয়।
মানুষ এই দেবীর কাছে আলো, মুক্ত বাতাস, জীবনশক্তি এবং দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করে
চলছেন। তাঁরা চান, যেন দেবী মোহ ও অজ্ঞতার নিদ্রা ত্যাগ করে শিবের মতো মৃতদেহের
মাঝেও প্রাণসঞ্চার করেন। যেন মৃতপ্রায় জাতির মধ্যে নতুন চেতনা ও শক্তি জেগে ওঠা।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে
প্রকাশিত 'সুর-সাকী' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩
বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ:
- সুর-সাকী
- প্রথম সংস্করণ [আষাঢ় ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ। জুলাই ১৯৩২)]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী,
ঢাকা। [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১।
সুর-সাকী। ৭১ সংখ্যক গান। সিন্ধু কাফি-যৎ। পৃষ্ঠা ২৬৭]
-
নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ,[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংখ্যা ১৯০০।
রাগ: সিন্ধু কাফি, তাল: যৎ। পৃষ্ঠা: ৫৭৩]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধরম্। শাক্ত। দুর্গা। প্রার্থনা