বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তোর কালো রূপ লুকাতে মা বৃথাই আয়োজন
তোর কালো রূপ
লুকাতে মা বৃথাই আয়োজন।
ঢাকতে নারে ও রূপ, কোটি চন্দ্র তপন॥
মাখিয়ে আলো আমার চোখে
লুকিয়ে রাখিস তোর কালোকে,
তোর অতল কালো রূপে মাগো বিশ্ব নিমগন॥
আঁধার নিশীথ সে যেন তোর কালো রূপের ধ্যান
তোর গহন কালোয় গাহন ক'রে জুড়ায় ধার প্রাণ।
হেরি তোর কালো রূপ স্নিগ্ধ-করা
শ্যামা হ’ল বসুন্ধরা,
নিবল কোটি সূয, তোরে খুঁজে অনুক্ষণ॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানটিতে ভক্তের হৃদয়ে দেবী কালীর কালো রূপকে মহাশূন্যের মতো অসীম, রহস্যময় ও সর্বব্যাপী পরম চেতনার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভক্ত উপলব্ধি করেন
যে জগতের সকল আলো, সৌন্দর্য ও প্রাণশক্তির উৎস সেই অনন্ত কালো রূপের মধ্যেই
নিহিত। তাই তিনি বাহ্যিক আলোকে অতিক্রম করে মায়ের সেই পরম, গহন ও চিরন্তন রূপের
দর্শন কামনা করেছেন।
ভক্ত মনে করেন,মাতৃরূপিণী কালী তাঁর কালো রূপকে নানা আলোর আবরণে আড়াল করে
রাখলেও. সেই অসীম মহিমা কখনো গোপন থাকে না। কোটি কোটি সূর্য ও চন্দ্রের
আলোও তাঁর সেই পরম রূপকে ঢেকে রাখতে সক্ষম নয়।
মায়ের কালো রূপকে ধ্যানরূপে কল্পনা করেছেন। মাতৃরূপিণী
কালী যেন তাঁর আলোকময় কালো রূপ দিয়ে ভক্ত কবির চোখে আলো মেখে দেন। সেই আলোর
অন্তরালে লুকিয়ে থাকা মায়ের গভীর, অতল ও রহস্যময় কালো রূপকে দেখতে পান না। কবি
মনে করেন সমগ্র বিশ্বজগৎ সেই অনন্ত কালোর মধ্যেই নিমগ্ন। প্রকৃতপক্ষে
এখানে ‘কালো’ বলতে অন্ধকার নয়, বরং অসীম, অনন্ত এবং সর্বব্যাপী পরম শক্তিকে
বোঝানো হয়েছে।
কবি কালীর কালো রূপকে এক অলৌকিক জ্যোতির আধার হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন। নিশীথের
নিস্তব্ধতা ও গভীরতা যেন মানুষের মনকে সেই পরম রহস্যের দিকে আকর্ষণ করে। ভক্ত
যখন মায়ের সেই গহন কালো রূপে আত্মনিবেদন করেন, তখন তাঁর
ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত প্রাণ শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করে।
গানের পরবর্তী অংশে কবি বলেন, মায়ের স্নিগ্ধ কালো রূপের স্পর্শে সমগ্র পৃথিবী
শ্যামল ও সজীব হয়ে ওঠে। প্রকৃতির সবুজ-শ্যামল রূপও যেন তাঁরই কালো রূপের প্রকাশ।
কোটি কোটি সূর্য তাঁর প্রকৃত সত্তার সন্ধানে সদা ব্যস্ত, কিন্তু তাঁর অসীম
মহিমার সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারে না। তাই সূর্যের সমস্ত জ্যোতিও তাঁর অনন্ত
সত্তার সামনে ম্লান হয়ে যায়।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের
জুলাই (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮।
ফেব্রুয়ারি ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ। ১৯৩২ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা:
৫৮২।
- নজরুলের হারানো গানের খাতা [নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭।
গান সংখ্যা ১২৫।
for K.L. Bruman (Twin)।
শ্যামাসঙ্গীত।
পৃষ্ঠা:
১৫২।]
- রেকর্ড:
টুইন [আগষ্ট ১৯৩৫
(শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২)]। এফটি ৪০৩৪। শিল্পী:
কালী বর্মন। রাগ জৈনপুর
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি সাতচল্লিশতম খণ্ড। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। ফাল্গুন ১৪২৫/ফেব্রুয়ারি
২০১৯] পৃষ্ঠা: ৫৭-৫৯ [নমুনা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম, শাক্ত। কালী। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: রাগাশ্রয়ী
- রাগ:
জৌনপুরী
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: স