বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: নারায়ণ! নারয়ণ
যে নাম জপেন ইন্দ্র-চন্দ্র-ব্রহ্মা-মহেশ্বর
নারায়ণ! নারয়ণ!
যে নাম জপেন ইন্দ্র-চন্দ্র-ব্রহ্মা-মহেশ্বর
যে নাম করেন ধ্যান যোগী সুরাসুর নর।
সীমা যাঁহার পায় না খুঁজি অসীম চরাচর।
যাঁর করে শঙ্খ-গদা-পদ্মা-চক্র সুদর্শন,
নারায়ণ! নারায়ণ!
যাঁর অনন্ত লীলা যাঁর অনন্ত প্রকাশ
মধুকৈটভাসুর কংসে যুগে যুগে করেন নাশ
কভু করাল ভীষণ কভু মদনমোহন,
নারায়ণ! নারায়ণ!
যার মুখে গীতা হাতে বাঁশি নূপুর রাঙা পায়
কভু শ্রীকৃষ্ণ গোকুলে কভু গোরা নদীয়ায়
মোর মন-গোপিনী উন্মাদিনী ডাকে অনুক্ষণ,
নারায়ণ! নারায়ণ!
-
ভাবসন্ধান: এই গানে ভগবান
নারায়ণ তথা বিষ্ণু-এর সর্বব্যাপী, অনন্ত ও সর্বশক্তিমান রূপের বন্দনা
করা হয়েছে। কবি দেখিয়েছেন, একই পরমেশ্বর যুগে যুগে বিভিন্ন অবতার ধারণ করে
ধর্ম প্রতিষ্ঠা, অধর্মের বিনাশ এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করেন। তাঁর প্রতি
ভক্তের আকুল আহ্বান ও প্রেমই এই গানের মূল সুর।
গানের শুরুতে কবি নারায়ণ! নারায়ণ!"
নামধ্বনির মাধ্যমে ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, দেবরাজ ইন্দ্র, চন্দ্র,
ব্রহ্মা ও মহেশ্বর পর্যন্ত যাঁর নাম জপ করেন এবং যোগী, দেবতা, অসুর ও মানুষ
যাঁর ধ্যান করেন, তিনিই সর্বোচ্চ পরমেশ্বর। তাঁর মহিমা এতই অসীম যে সমগ্র চরাচর
তাঁর সীমা বা শেষ খুঁজে পায় না। শঙ্খ, গদা, পদ্ম ও সুদর্শন চক্রধারী বিষ্ণুরূপে
তিনি বিশ্বপালন ও ধর্মরক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী অংশে কবি নারায়ণের অনন্ত লীলার
কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি যুগে যুগে বিভিন্ন অবতারে আবির্ভূত হয়ে মধু-কৈটভ, কংস
প্রভৃতি অসুরের বিনাশ করেছেন। কখনও তিনি ভয়ংকর রুদ্ররূপে অধর্মকে দমন করেন,
আবার কখনও মদনমোহন রূপে প্রেম, সৌন্দর্য ও ভক্তির মাধুর্য বিলিয়ে দেন। অর্থাৎ,
ভগবানের ভয়ংকর ও মধুর—উভয় রূপই বিশ্বকল্যাণের জন্য।
গানের শেষাংশে কবি ভগবানের বিভিন্ন অবতারকে
এক সূত্রে গেঁথেছেন। তিনি কখনও কুরুক্ষেত্রে গীতার উপদেশদাতা শ্রীকৃষ্ণ, কখনও
বৃন্দাবনের বাঁশিবাদক গোপাল, আবার কখনও নদীয়ার গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রূপে আবির্ভূত
হন। অর্থাৎ, যুগ, স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী একই পরমেশ্বর ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ
করে মানবজাতিকে সত্য, প্রেম ও মুক্তির পথ দেখান। কবির মন, গোপিনীর মতো
প্রেমোন্মত্ত হয়ে সেই চিরন্তন নারায়ণকেই নিরন্তর আহ্বান জানায়।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের
সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪১)
মাসে,
টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স
ছিল
৩৫
বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৯৭৭। পৃষ্ঠা:
৫৯৪]
-
নজরুলের হারানো গানের খাতা [নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭।
গান সংখ্যা ২৪। for Satyabaqla (Twin)
।
ভজন। পৃষ্ঠা
৫০।]
- রেকর্ড:
টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪২)। এফটি ৪০৭৬। শিল্পী: মিস সত্যবালা।
এর জুড়ি গান: হে চির সুন্দর বিশ্ব চরাচর [তথ্য]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ধম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বন্দনা