বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: মা ফিরিয়ে দে (ও মা) ফিরিয়ে দে
ফিরিয়ে দে
মা ফিরিয়ে দে (ও মা) ফিরিয়ে দে মোর হারানিধি।
(তুই) দিয়ে নিধি নিলি কেড়ে মা তোর এর কোন নিঠুর বিধি॥
বল্ মা তারা কেমন করে
নয়ন-তারা নিলি হরে,
(দিলি) মা হয়ে তুই শিশুর বুকে নিঠুর মরণ-সায়ক বিঁধি॥
তরু যেন শিকড় দিয়ে তাহার মাটির মা’কে
জড়িয়ে ধরে থাকে স্নেহের সহস্র যে পাকে।
(মাগো) তেমনি করে তাহার মায়া
আঁকড়ে ছিল আমার কায়া,
(তারে) নিলি কেন মহামায়া শূন্য করে আমার হৃদি॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে মৃত সন্তানের জন্য পিতামাতার হৃদয়বিদারক আর্তনাদ
উপস্থাপিত হয়ে পেয়েছে। প্রিয়জন বিশেষত সন্তানের অকালমৃত্যুর ফলে যে অসহনীয় শূন্যতা ও বেদনা মানুষের জীবনে নেমে আসে, কবি সেই অনুভূতিকেই মাতৃরূপিণী দেবী শক্তির উদ্দেশে নিবেদন করেছেন। এখানে
'মা' বলতে দেবী তারা বা মহামায়াকে বোঝানো হয়েছে, যিনি একদিকে সৃষ্টির জননী, অন্যদিকে সৃষ্টি ও লয়ের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি।
গানের শুরুতেই কবি আকুল কণ্ঠে মায়ের কাছে তাঁর 'হারানিধি'কে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান
হয়েছে। 'হারানিধি' বলতে এখানে অত্যন্ত প্রিয় সন্তান বা প্রাণাধিক আপনজনকে বোঝানো হয়েছে। কবির অভিযোগ- যে মা নিজেই এই অমূল্য ধন দান করেছিলেন, তিনিই আবার তা কেড়ে নিয়েছেন। তাই তিনি প্রশ্ন করেন, এ কেমন বিধান, যেখানে দান করে আবার তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়? এই প্রশ্ন আসলে শোকাহত মানুষের চিরন্তন প্রশ্ন- জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে কেন মৃত্যুর মাধ্যমে হারাতে হয়?
গানের পরবর্তী অংশে কবি দেবী তারাকে উদ্দেশ করে গভীর অভিমান প্রকাশ করেছেন। সন্তানের চোখকে তিনি
'নয়নতারা' বলে অভিহিত করেছেন, কারণ সন্তানই পিতা-মাতার জীবনের সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো। সেই আলো নিভিয়ে দিয়ে মা কীভাবে সন্তানের বুকে মৃত্যুর নির্মম আঘাত হানতে পারলেন- এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে কবির অসহায়তা, বেদনা ও মাতৃহৃদয়ের প্রতি অভিমান একাকার হয়ে গেছে।
এরপর কবি একটি অপূর্ব উপমার আশ্রয় নিয়েছেন। যেমন একটি বৃক্ষ তার শিকড়ের মাধ্যমে জন্মদাত্রী মাটিকে অসংখ্য বন্ধনে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে, তেমনি তাঁর সমগ্র অস্তিত্ব সন্তানের স্নেহ, মায়া ও ভালোবাসার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল। সন্তান তাঁর জীবনের ভিত্তি, আশ্রয় ও প্রাণশক্তি ছিল। সেই বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁর জীবন আজ শিকড়হীন বৃক্ষের মতো নিঃস্ব ও নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়
না। ১৯৩৬
খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৩) টুইন
রেকর্ড কোম্পানি গানটি প্রথম রেকর্ড করে।
এই সময়
নজরুল ইসলামের
বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ২০০৭। পৃষ্ঠা:
৬০৩]
-
নজরুলের হারানো গানের খাতা
[নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭। গান সংখ্যা ১৩৮।
for
N Bose (Twin)। ভজন। পৃষ্ঠা ১৬৫]
রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ (ভাদ্র-আশ্বিন
১৩৪৩)]। এফটি ৪৫৬৮। শিল্পী: নারায়ণ দাস বসু
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। দুর্গা (মহামায়া)। প্রার্থনা