বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ভবানী শিবানী কালী করালী মুণ্ডমালী
ভবানী শিবানী কালী করালী মুণ্ডমালী।
আম্বিকে অ্যাম্বিকে আদ্যাশক্তি তারা শ্যামা,
ত্রিভুবন ঈশ্বরী গো দনুজদলনী বামা;
প্রসীদ বরদা মাগো চরণে আহুতি ঢালি॥
- ভাবসন্ধান: স্তুতিমূলক এই গানে দেবী দুর্গার নানাবিধ রূপ ও গুণের বন্দনা করেছেন। তিনি কখনো ভবানী (জগতের জননী), শিবানী (শিবের সহধর্মিণী), কালী (অশুভের বিনাশকারিণী), করালী (ভয়ংকর রূপধারিণী), আবার মুণ্ডমালী (অসুরবধের প্রতীকরূপে মুণ্ডমালা ধারণকারিণী)। তিনি আম্বিকা—সমস্ত জীবের মাতা।
আদ্যাশক্তি—সৃষ্টির মূল শক্তি। কিন্তু সম্বোধন হিসেবে কবি আদ্যাশক্তির পূর্বে
অম্বিক অ্যাম্বিকে ব্যবহার করছেন- সম্বোধন হিসেবে। অর্থের বিচারে অম্বিকে ও অ্যাম্বিকে
একই, এর মূল ভাব ওহে অম্বিকা আদ্যাশক্তি। কাব্যের ছন্দ রক্ষা এবং ভক্তির
আতিশয্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর পরেই উপস্থাপন করা হয়েছে- তারা—মুক্তিদাত্রী, শ্যামা—করুণাময়ী মাতৃরূপ।
পরের পঙ্ক্তিতে
দুর্গাকে বলা হয়েছে- ত্রিভুবনের ঈশ্বরী—তিন লোকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং দনুজদলনী—অসুরবিনাশিনী। তাঁর বামা রূপ শিবের শক্তিস্বরূপা ও সৌম্য মহিমার পরিচয় বহন করে।
ভক্ত এই সর্বশক্তিময়ী মাতার কাছে বিনীত প্রার্থনা জানিয়ে বলেন— 'হে বরদাত্রী মা, তুমি প্রসন্ন হও। আমি তোমার চরণে আমার সর্বস্ব, ভক্তি, অহংকার ও আত্মনিবেদনকে আহুতিরূপে অর্পণ করছি। তোমার কৃপাই আমার একমাত্র আশ্রয়।'
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুলাই (সোমবার
১১ শ্রাবণ ১৩৪৩) নজরুলের সাথে রেকর্ড কোম্পানির চুক্তি হয়। এই চুক্তি
তালিকায় এই গানটি ছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ২ মাস।
- রেকর্ড:
- রেকর্ড কোম্পানির সাথে চুক্তি [২৭ জুলাই ১৯৩৬ (সোমবার ১১ শ্রাবণ ১৩৪৩)]
- টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ)।
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের
রচিত স্বরণলতা উপন্যাস অপলম্বনে অমৃতলাল বসুর নাট্যরূপ 'সরলা। এই নাটকের
সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশিত হয়েছিল। এফটি ৪৫৭৮। চরিত্র: বৈরাগী। শিল্পী:
সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। দুর্গা বন্দনা