বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: ভুল করেছি ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে
ভুল করেছি
ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে।
(তাই)পূজিতে তোর রাঙা চরণ এলাম মনের পশু নিয়ে॥
তুই যে বলিদান চেয়েছিস
কাম-ছাগ, ক্রোধ-রূপী মহিষ,
মা তোর পায়ে দিলাম লোভের জবা মোহ-রিপুর ধূপ জ্বালিয়ে॥
মাগো দিলাম হৃদয়-কমণ্ডলুর মদ-সলিল তোর চরণে,
মাৎসর্য্যের পূর্ণাহুতি দিলাম পায়ে পূর্ণ মনে।
ষড় রিপুর উপচারে
যে পূজা চাস্ মা বারে বারে
সেই পূজারই মন্ত্র মাগো ভক্তরে তোর দে শিখিয়ে॥
- ভাবসন্ধান: এটি আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমর্পণের ভাবনির্ভর একটি শাক্ত ভক্তিগীতি। গানে ভক্ত দেবী শ্যামার কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে প্রচলিত পশুবলির পরিবর্তে নিজের অন্তরের ষড়্রিপু -
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাত্সর্য-
বলিদান দেওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। এখানে ' পশু ' বলতে বাহ্যিক প্রাণী নয়, মানুষের অন্তরে থাকা পশুত্ব ও প্রবৃত্তিকে বোঝানো হয়েছে।
এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে, কবি উপস্থাপন করেছেন- দেবীর পূজায় বাহ্যিক পশুবলি দেওয়ার চেয়ে নিজের অন্তরের অশুভ প্রবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়াই প্রকৃত সাধনা। তাই তিনি অনুতপ্ত হয়ে মায়ের কাছে এসেছেন
'মনের পশু' নিয়ে।
ভক্তরা না বুঝে প্রাণী বলিতে উদ্ধবদ্ধ হন। এই গানে
এখানে ' ছাগ ও ' মহিষ ' বাস্তব পশু নয়, প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত। কামকে ছাগ এবং ক্রোধকে মহিষের সঙ্গে তুলনা করে ভক্ত এই দুই প্রবৃত্তিকে দেবীর চরণে বলি দিতে চান। অর্থাৎ নিজের কামনা ও ক্রোধকে সংযত ও পরিত্যাগ করাই তাঁর প্রকৃত বলিদান।
এ গানে লোভকে জবার ফুল এবং মোহকে ধূপের প্রতীকে কল্পনা করা হয়েছে। পূজার উপকরণের আড়ালে এখানে অন্তরের অশুভ প্রবৃত্তিগুলোকেই দেবীর কাছে নিবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ বাহ্যিক পূজাসামগ্রীর পরিবর্তে নিজের দুর্বলতাই হয়ে উঠেছে পূজার উপচার।
এ গানের মদ মাদকদ্রব্য নয়; এ মদ অহংকার, আত্মগরিমা বা গর্বের প্রতীক। ভক্ত তাঁর হৃদয়ের পাত্রে সঞ্চিত অহংকারের জল দেবীর চরণে ঢেলে দিয়ে নিজেকে অহংকারমুক্ত করতে চান।
ষড়্রিপুর শেষটি মাৎসর্য্য, অর্থাৎ অন্যের উন্নতি বা সুখ সহ্য করতে না পারা, ঈর্ষা। ভক্ত সেই ঈর্ষাকেও সম্পূর্ণভাবে দেবীর চরণে বিসর্জন দিতে চান।
'পূর্ণাহুতি' শব্দটি যজ্ঞের শেষ ও সম্পূর্ণ নিবেদনের ভাব প্রকাশ করছে।
অর্থাৎ দেবী যে পূজা চান, তার প্রকৃত উপচার হলো কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাত্সর্য- এই ছয় অন্তরশত্রুকে জয় করা। ভক্ত তাই মায়ের কাছে বাহ্যিক পূজার মন্ত্র নয়, আত্মশুদ্ধির সাধনামন্ত্র শেখানোর প্রার্থনা করছেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা
যায় না।
১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট
(শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২)
মাসে
এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি গানটি
প্রথম রেকর্ড করে।
এই সময়
নজরুল ইসলামের
বয়স ছিল
৩৬ বৎসর
২ মাস।
- গ্রন্থ:নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ২০৫২। পৃষ্ঠা:
৬১৮]
- রেকর্ড:
এইচএমভি।
[আগষ্ট ১৯৩৬
(শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৩)]। এন ৯৭৫৬।
শিল্পী: গোপালচন্দ্র সেন।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সালাউদ্দিন আহ্মেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, পঁচিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ভাদ্র, ১৪১২/আগস্ট
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ] ২১ সংখ্যক গান। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শ্যামা।
প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ:
টপ্পা
- তাল:
যৎ
- গ্রহস্বর: ধ্