বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: হে উষা! অরুণিত আকাশ হতে এসো শোভন পথে।
হে উষা!
অরুণিত আকাশ হতে এসো শোভন পথে।
যজমান আলয়ে আসুক তোমারে লয়ে।
অরুণ বরণ কিরণ সুখ-কর-রথে॥
নন্দন নন্দিনী হে দেব কুমারী,
তুমি চির পবিত্রা মন্দাকিনী বারি।
তিমির কারারুদ্ধা ধরণী ঊর্ধ্বে চাহে,
মুক্তি করি তারে আনো উদার আলোতে॥
- ভাবসন্ধান: উষা বা প্রভাতের দেবীকে উদ্দেশ করে কবি নতুন দিনের আলো, পবিত্রতা, মুক্তি ও নবজাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। পৌরাণিক ও বৈদিক প্রতীকের সাহায্যে অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর কাছে আলোর আগমনকে এক মহৎ মুক্তির ঘটনা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
কবি উষাকে আহ্বান করছেন—“হে উষা!” অরুণাভ আকাশ থেকে তুমি সুন্দর ও মঙ্গলময় পথে পৃথিবীতে আবির্ভূত হও। তোমার অরুণ রঙের সুখদায়ক আলোকরথে চড়ে এসো এবং মানুষের যজ্ঞগৃহে, অর্থাৎ ‘যজমান আলয়ে’, তোমার শুভ উপস্থিতি নিয়ে এসো।
উষাকে কবি বলেছেন “নন্দন নন্দিনী”, অর্থাৎ স্বর্গীয় সৌন্দর্যের কন্যা এবং “দেব কুমারী”। তিনি চিরপবিত্র; তাঁর পবিত্রতার তুলনা করা হয়েছে স্বর্গীয় নদী মন্দাকিনীর নির্মল জলের সঙ্গে। এখানে উষা শুধু ভোরের প্রাকৃতিক আলো নন—তিনি পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও মঙ্গলের প্রতীক।
গানের শেষাংশে ভাব আরও গভীরতর দর্শনে উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে অজ্ঞানতার অন্ধকার যেন একটি
বন্ধন ও নিপীড়নের কারাগার হয়ে উঠেছে, যেখানে পৃথিবী বন্দী। সেই তিমিরে আবদ্ধ ধরণী মুক্তির আশায় ঊর্ধ্বে তাকিয়ে আছে
জ্ঞানের আলোকবর্তিকার দিকে। কবির প্রত্যাশা উষার আগমন সেই বন্দিত্বের অবসান ঘটাবে। তাঁর উদার আলোতে পৃথিবীক অন্ধকারের কারাগার থেকে মুক্ত
করবেন- ঊষার কাছে তাঁর এমনই প্রত্যাশা ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর ১৯৩৯ (বুধবার, ১
কার্ত্তিক ১৩৪৬),
মিনার্ভা থিয়েটার মঞ্চে মহেন্দ্র গুপ্তের 'দেবী দুর্গা'
মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই নাটকে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০
বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২১৪০]
- মঞ্চ:
দেবী দুর্গা (নাটক)।
[মিনার্ভা থিয়েটার, ১৮ অক্টোবর ১৯৩৯ (বুধবার,
১ কার্ত্তিক ১৩৪৬)] প্রথম অঙ্ক। প্রথম দৃশ্য। বেদ গান।
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। উষা দেবী। প্রার্থনা