বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ভবের এই পাশা খেলায় খেল্তে এলি, হায় আনাড়ি।
ভবের এই পাশা খেলায় খেল্তে এলি, হায় আনাড়ি।
হাতে তোর দান পড়ে না হাত খোলে না তাড়াতাড়ি।
তুই আর তোর সাথী ভাই
কাঁচা খেলোয়াড় দু'জনাই'
মায়া, রিপুর সাথে তাই নিত্য হেরে ফিরিস্ বাড়ি॥
তোরি সে চালের দোষে যায় কেঁচে তোর পাকা ঘুটি,
ফিরিতে হয় অমনি যেমনি যাস্ ঘরে উঠি।
ও হাতে হর্দম চক্-তিন-নয় পড়ছে আড়ি॥
সংসার-ছক পেতে হায়,
ব'সে র'স মোহের নেশায়,
হেরে যে সব খোয়ালি যাস্নে তবু খেলা ছাড়ি॥
প্রাণ মন এই দুই ঘুঠিতে যুগ বেঁধে তুই এগিয়ে,
দেহ তোর একলা ঘুঠি রাখ্ আড়িতে মা'র বাঁচিয়ে।
আড়িতে মা'র খেলে তুই স্বর্গে যাবি জিত্বি হারি'॥
- ভাবসন্ধান: সংসার একটি অনিশ্চিত পাশা খেলার মতো। মায়া ও রিপুর বশে চললে মানুষ বারবার পরাজিত হয়; কিন্তু
পরমসত্তার আশ্রয় গ্রহণ করে আত্মসংযম ও ভক্তির সঙ্গে জীবনযাপন করলে আপাতদৃষ্টিতে হারলেও শেষ পর্যন্ত প্রকৃত বিজয় ও মুক্তি লাভ করা যায়।
এই গানে
কবি গৃহী মানুষের উদ্দেশে বলেছেন- 'তুমি এই সংসাররূপী খেলায় অংশ নিতে এসেছ, কিন্তু জীবনের নিয়ম-কৌশল না জানার কারণে তুমি একজন অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছ এবং বারবার মায়া, মোহ ও ষড়রিপুর কাছে পরাজিত হচ্ছ।
তোমার ভুল চালের জন্য জীবনের মূল্যবান সুযোগ ও অর্জন নষ্ট হয়ে যায়। অনেক দূর এগিয়ে গিয়েও আবার শুরুতে ফিরে আসতে হয়। ভাগ্যও যেন তোমার অনুকূলে আসে না; পাশার দানে বারবার প্রতিকূল সংখ্যা পড়ে, ফলে সাফল্যের পরিবর্তে ব্যর্থতাই তোমার সঙ্গী হয়।
সংসারের মোহে মুগ্ধ হয়ে তুমি জীবনের আসল উদ্দেশ্য ভুলে গেছ। ভোগ-বিলাস ও আসক্তির নেশায় ডুবে থেকে একের পর এক মূল্যবান সম্পদ-সময়, শক্তি, পুণ্য ও আত্মিক উন্নতির সুযোগ-হারিয়ে ফেলছ; তবু এই মোহময় খেলাই ছাড়তে পারছ না।
গানের শেষাংশে কবি মুক্তির পথ নির্দেশ করেছেন। তিনি প্রাণ ও মনকে একত্র করে
পরমসত্তার সাধনায় নিয়োজিত করার কথা বেলেছেন। তাঁর মতে দেহকে সংসারের আসক্তি থেকে যতদূর সম্ভব নিরাপদে রাখলে, তা মায়ার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত
হয় না। যদি পরমসত্তার আশ্রয়ে থেকে জীবনের এই খেলা অংশ নেওয়া হয়, তবে বাহ্যিকভাবে হারলেও প্রকৃত অর্থে
সেই বিজয়ী হয়। কারণ সেই আত্মসমর্পণই সাধককে স্বর্গীয় শান্তি ও পরম মুক্তির পথে পৌঁছে দেবে।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। গানটি
গীতি-শতদল সঙ্গীত
সঙ্কলনের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (এপ্রিল
১৯৩৪) মাসে। এই
সময় নজরুলের বয়স ৩৪ বৎসর ছিল ১১ মাস।
- গ্রন্থ:
-
গীতি-শতদল
- প্রথম সংস্করণ [বৈশাখ ১৩৪১। এপ্রিল ১৯৩৪। বাউল-লোফা]
- নজরুল রচনাবলী, পঞ্চম খণ্ড [বাংলা একাডেমী। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১। গীতি-শতদল। গান সংখ্যা
৮০। বাউল-লোফাপৃষ্ঠা ৩২৯-৩৩০]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২২৬৬। তাল: লোফা। পৃষ্ঠা: ৬৭৯]
- নজরুলের হারানো গানের খাতা [নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭।
গান সংখ্যা ৪৯। for Dhiren Das/
বাউল। পৃষ্ঠা: ৭৫।]
- রেকর্ড: এইচএমভি [আগষ্ট ১৯৩৫ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২)। শিল্পী: ধীরেন দাস।
রেকর্ডটি প্রকাশিত হয় নি]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ। ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। সাধনা