বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আমার আছে এই ক'খানি গান
আমার আছে এই ক'খানি গান
তা' দিয়ে কি ভর'বে তোমার প্রাণ॥
অনেক বেশি তোমার দাবি
শূণ্য হাতে তাইতো ভাবি,
কি দান দিয়ে ভাঙবো তোমার গভীর অভিমান॥
তুমি চাহ গভীর ব্যাকুলতা
আমার কাছে বলার দুটি কথা।
যে বাঁশরি গায় অবিরাম
প্রিয়তম তোমারি নাম
যাবার বেলায় তোমায় দিলাম সেই বাঁশরি খান॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে কবি নিজেকে এমন এক নিবেদিত প্রেমিক বা ভক্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যার কাছে পরমসত্তাকে দেওয়ার মতো বাহ্যিক কোনো মূল্যবান সম্পদ নেই। তাঁর একমাত্র সম্বল
তাঁরই রচিত কয়েকটি গান। কিন্তু তিনি উপলব্ধি করেন- প্রিয়তম পরমসত্তার প্রত্যাশা অনেক গভীর; শুধু গান দিয়ে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়েই তাঁর মনে সংশয়।
তাই তাঁর ভাবনা, কী দান দিয়ে প্রিয়তমের গভীর অভিমান ভাঙাবেন।
এখানে 'অভিমান' শুধু প্রিয়জনের মান-অভিমান নয়; এর মধ্যে প্রিয়তমের কাছে কবির অসম্পূর্ণ আত্মনিবেদনের বেদনাও প্রকাশ পেয়েছে। প্রিয়তম বস্তুগত কোনো দান চান
না- তিনি চান 'গভীর ব্যাকুলতা' এবং কবির অন্তরের অকৃত্রিম অনুভূতির প্রকাশ। তিনি চান কবির মুখ থেকে উচ্চারিত হোক সেই
'দুটি কথা', যা বাহ্যিকভাবে অল্প হলেও গভীর প্রেম ও আত্মনিবেদনের বহিঃপ্রকাশ।
গানের শেষে কবি তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান সম্বলটির কথা জানান । যে বাঁশরি অবিরাম প্রিয়তমের নাম গেয়ে চলে, সেটিই তাঁর কাছে প্রেম ও ভক্তির প্রতীক। বাঁশরিটি যেন কবির হৃদয়েরই কণ্ঠস্বর- যা নিজের কোনো কথা বলে না, কেবল প্রিয়তমের নাম উচ্চারণ করে। তাই জীবনের
'যাবার বেলায়', অর্থাৎ বিদায়ের মুহূর্তে, কবি সেই বাঁশরিটিই প্রিয়তমের হাতে তুলে দেন।
অর্থাৎ, কবির চূড়ান্ত দান কোনো বস্তুগত সম্পদ নয়; তিনি দান করেন তাঁর হৃদয়ের ব্যাকুলতা, প্রেমের কথা এবং প্রিয়তমের নামগান করা বাঁশরি। তাঁর কাছে এটিই সর্বস্ব। নিজের সৃষ্ট গান দিয়ে প্রিয়তমের প্রাণ ভরাতে না পারলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর অন্তরের সবচেয়ে নিবিড় প্রেমের প্রতীকটিই প্রিয়তমের চরণে সমর্পণ করেন।
গানটির মূল ভাব:
বাহ্যিক দানের সামর্থ্য না থাকলেও গভীর প্রেম, ব্যাকুলতা, নামস্মরণ ও আত্মনিবেদনই প্রিয়তমের কাছে মানুষের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়
১৩৪৫) টুইন রেকর্ড কোম্পানি
থেকে গানটির রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ১ মাস।
-
গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট।
তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০০৩। গান সংখ্যা ৩৫৪]
-
রেকর্ড: টুইন
[জুন ১৯৩৮ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৫)] এফটি ১২৪৩৫। শিল্পী: গীতা বসু। সুর: নজরুল ইসলাম
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: রশিদুন্ নবী ।
নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি (দশম খণ্ড)। প্রথম প্রকাশ, ৩
ফাল্গুন,
১৩৯৯ বঙ্গাব্দ/ ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ। দ্বিতীয় গান]
[নমুনা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। আত্মনিবেদন
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
কাহারবা