বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে
আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে
শিশু নবী আহ্মদ্ রূপের লহর তুলে॥
রাঙা মেঘের কাছে ঈদের চাঁদ নাচে
যেন নাচে ভোরের আলো গোলাব গাছে।
চরণে ভ্রমরা গুঞ্জরে গুল ভুলে॥
সে খুশির ঢেউ লাগে আরশ্ কুর্সি পাশে
হাততালি দিয়ে হুরী সব বেহেশ্তে হাসে
সুখে ওঠে কেঁপে হিয়া চরণ মূলে॥
চাঁদনি রাঙা অতুল মোহন মোমের পুতুল
আদুল গায়ে নাচে খোদার প্রেমে বেভুল
আল্লার দয়ার তোহ্ফা এলো ধরার কূলে॥
- ভাবনসন্ধান: এই গানে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর
মা 'আমিনা'র সাথে- মা ও শিশুর মধুর রঙ্গখেলার রূপচিত্র অঙ্কন করেছেন কবি
তাঁর রূপকল্পের মহিমায়। শিশু আহ্মদ যেন মায়ের কোলে আনন্দ-নৃত্যদের ছন্দে
দোলে তাঁর রপসৌন্দর্যের তরঙ্গ তুলে। কবির কাছে মনে হয়েছে- যেন রাঙা মেঘের কাছে
ঈদের চাঁদ নাচছে, যেনো ভোরের আলো নাচছে গোলাপ গাছে। আর ভ্রমর গোলাপ মনে করে,
তাঁর পদপুষ্পকে ঘিরে গুঞ্জন করছে।
কবি অনুভব করেন- মা ও শিশুর এই লীলা আনন্দ-তরঙ্গ স্পর্শ করে আরশকে (সপ্ত
আসমানের আল্লার আসন)। আর হুরপরিরা বেহেশ্তে অনাবিল আনন্দে হাসে। যেন সকল সুখের
হিল্লোলে হৃদয় নিবেদিত হয়, শিশু আহমদের চরণমুলে।
শিশুর নবীর অঙ্গকে জ্যোৎস্নার রাঙা আলোর সাথে তুলনা করেছেন। যেন সে রঙের আভায়
নবির অঙ্গ মোহিতকরা মোমের পুতুলের মতো হয়ে উঠেছে। কবি শিশু নবির নগ্ন দেহের
দোলাকে 'খোদার প্রেমে বেভুল' হিসেবে অনুভব করেছেন। কবি মনে করেন আল্লাহর দয়ায়-
পৃথিবীর বুকে নবি এসেছেন তোহফা (জ্ঞান সূর্যের আলো) হয়ে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৫)
মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল
ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান সংখ্যা
৩৯৮]
-
রেকর্ড: টুইন [আগষ্ট ১৯৩৮ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৫)। এফটি ১২৪৯৫। শিল্পী:
এম. সিরাজুর রহমান]
[শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, পঞ্চদশ খণ্ড
। ভাদ্র ১৪০৩। আগষ্ট ১৯৯৬। চতুর্থ গান। রেকর্ডে-কৃত এম. সিরাজুর রহমান-এর গাওয়া
গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। নাত-এ রসুল
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: তালফেরতা
(কাহারবা/দাদরা)
- গ্রহস্বর: সা