নূরজাহান, নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে, ইরানি গুলিস্তান॥
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিঁরি ফরহাদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি'
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান॥
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম, সে যে রাজাধিরাজ ─
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক-লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে,
দেবে চিরদিন নন্দন-লোক-চারী
তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান॥
নূরজাহানের অনিন্দ্য সৌন্দর্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর (সেলিম) তাঁর প্রেমে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি লোকলজ্জা, সামাজিক সমালোচনা কিংবা রাজমর্যাদার বাধা উপেক্ষা করে নূরজাহানকে আপন করে নিয়েছিলেন। সমাজ যাকে কলঙ্ক বলে মনে করেছিল, কবির দৃষ্টিতে সেই কলঙ্ক ছিল প্রকৃত প্রেমের গৌরবময় চিহ্ন। যেমন চাঁদের কলঙ্ক তার সৌন্দর্যকে ম্লান না করে বরং আরও স্মরণীয় করে তোলে, তেমনি সত্যিকার প্রেমের ইতিহাসেও এমন কলঙ্ক অপমান নয়, বরং প্রেমের মহিমা ও আত্মত্যাগের সম্মানচিহ্ন হয়ে চিরদিন অম্লান থাকে।
সমগ্র গানটিতে নূরজাহানের সৌন্দর্য, শিল্পরুচি, প্রেমের মহত্ত্ব এবং তাঁর
ঐতিহাসিক গুরুত্বকে রোমান্টিক ও কাব্যিক দৃষ্টিতে মহিমান্বিত করা হয়েছে। এখানে
প্রেমকে সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে এক চিরন্তন ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক মূল্যবোধ
হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
[সূত্র: