বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: খোদা এই গরীবের শোন শোন মোনাজাত
খোদা এই গরীবের শোন শোন মোনাজাত।
দিও তৃষ্ণা পেলে ঠাণ্ডা পানি ক্ষুধা পেলে লবণ-ভাত॥
মাঠে
সোনার ফসল দিও,
দিও গৃহ
ভরা বন্ধু প্রিয়, দিও
হৃদয় ভরা শান্তি দিও
(খোদা) সেই তো আমার আবহায়াত॥
আমায় দিয়ে কারুর ক্ষতি হয় না যেন দুনিয়ায়,
আমি কারুর ভয় না করি, মোরেও কেহ ভয় না পায়, খোদা।
(যবে) মস্জিদে যাই তোমারি টানে
(যেন) মন নাহি ধায় দুনিয়া পানে
আমি ঈদের চাঁদ দেখি যেন আস্লে দুখের আঁধার রাত॥
-
ভাবসন্ধান: ইসলাম ধর্মমতে একমাত্র উপাস্য পরম করুণায় আল্লাহ। তাঁর কাছে
একজন মুসলামনের সাধারণ প্রার্থিব শান্তি, কল্যাণ কামনা এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে।
এই গানের 'গরীব' মুসলমান হতে পারে আর্থিক ভাবে দরিদ্র, হতে পারে আল্লাহের কাছে
অভাগা অর্থে। এই গরীব শব্দের ভিতরে রয়েছে আল্লাহর কাছে করুণা ভিক্ষাকারীর বিনয়,
রয়েছে তাঁর কাছে আত্ম-সমর্পণের গৌরব। তাঁর কাছে বেঁচে থাকার নূন্যতম উপকরণই
যথেষ্ট। লোভ লালসাহীন এই গৃহী আল্লাহর কাছে চেয়েছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ঠান্ডা
পানি আর, ক্ষুধা নিবৃত্তের জন্য সামান্য লবণ-ভাত।
এই গৃহী আল্লাহর কাছে চেয়েছেন- মাঠ ভরা ফসল, গৃহ ভরা প্রিয় বন্ধু, হৃদয় ভরা
শান্ত। এই সবই এই পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে সমর্পণকারী গৃহীর জন্য আবহায়াত (জীবনবারি)
তুল্য হয়ে উঠবে।
আল্লাহর কাছে শান্তিপ্রিয় এই গৃহী মুসলমানের একান্ত প্রার্থনা, যেন কারো ক্ষতি
করার ইচ্ছা থেকে তিনি তাঁকে বিরত রাখেন। তিনি যেনো সকল ভয় থেকে তাঁকে মুক্ত
রাখেন, অন্য কেউ যেন তাঁকে ভয় না পান।
পার্থিব লোভ যেন তাঁকে ইমান থেকে বিচ্যূত না করে, এই দৃঢ়তা নিয়ে তিনি যেন
আল্লাহর প্রেমাকর্ষণে মসজিদে যেতে পারেন। সবাই ঈদের চাঁদ দেখে আনন্দ পেতে চান
না। কিন্তু যদি সংসার জীবনে নানা লোভ-লালসায় জীবনকে তিনি কলুষিত করেন, তাহলে
ঈদের চাঁদ তাঁর জন্য আনন্দময় হয়ে উঠবে না। বরং তা হয়ে উঠবে পাপীজনের জন্য দুখের
রাত। গানটির শেষ পঙ্ক্তিটির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর ভয়ে ভীত একজন ইমানদার
মুসলমানের জন্য পথনির্দেশ। তাই এই গানের বাণী শুধু এই গানের মুসলমানের হয়ে উঠে
নি, বরং হয়ে উঠেছে সকল শ্রেণির পথভ্রষ্ট মুসলমানের জন্য নির্দেশিকা স্বরূপ।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৬) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২। বনগীতি দ্বিতীয় খণ্ড।
১১। পৃষ্ঠা ১১৯]
-
রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
(ভাদ্র-আশ্বিন
১৩৪৬)। এফটি ১২৯৭১। শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
নীলিমা দাস।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, ঊনত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। শ্রাবণ ১৪১৩/আগষ্ট
২০০৬] দশম গান।
আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর রেকর্ডে গাওয়া গান অনুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামী গান। হামদ
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য