বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে
মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে।
তাই কিরে তোর কণ্ঠেরি গান, (ওরে) এমন মধুর লাগে॥
ওরে গোলাপ
নিরিবিলি
নবীর কদম
ছুঁয়েছিলি —
তাঁর কদমের খোশ্বু আজো তোর আতরে জাগে॥
মোর নবীরে লুকিয়ে দেখে
তাঁর পেশানির জ্যোতি মেখে,
ওরে ও চাঁদ রাঙলি কি তুই গভীর অনুরাগে॥
ওরে ভ্রমর তুই কি প্রথম
চুমেছিলি তাঁহার কদম,
গুন্গুনিয়ে সেই খুশি কি জানাস্ রে গুল্বাগে॥
-
ভাবসন্ধান: গানটির মূলভাব হলো—মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অপরিসীম প্রেম ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা। কবি কল্পনা করেছেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য, মাধুর্য ও সুগন্ধের উৎস যেন নবীর পবিত্র সান্নিধ্য। বুলবুলির গান, গোলাপের সুবাস, চাঁদের জ্যোতি ও ভ্রমরের গুঞ্জন—সবই তাঁর মহিমা ও প্রেমের কাব্যিক প্রতীক।
এই গানে কবি প্রকৃতির নানা উপাদান- বুলবুলি, গোলাপ, চাঁদ ও ভ্রমরকে কল্পনার মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি নিজের গভীর প্রেম ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। এখানে প্রকৃতির প্রতিটি সৌন্দর্য যেন নবীর সান্নিধ্য লাভ করে পবিত্রতা, মাধুর্য ও সৌরভ অর্জন করেছে। এটি মূলত ভক্তিমূলক কাব্যের এক মনোরম রূপ।
গানের শুরুতেই কবি বুলবুলিকে উদ্দেশ করে বলেন, তুমি কি মহানবীর নাম আমারও আগে জপ করেছিলে? তাই কি তোমার কণ্ঠের গান এত মধুর? এখানে বুলবুলির সুমধুর কণ্ঠকে নবীপ্রেমের ফল হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যে হৃদয় নবীর প্রেমে পূর্ণ হয়, তার জীবনও মাধুর্যে ভরে ওঠে।
এরপর কবি গোলাপকে বলেন, তুমি নিশ্চয়ই নির্জনে মহানবীর পদচিহ্ন স্পর্শ করেছিলে। তাই আজও তোমার সুগন্ধে সেই পবিত্র স্পর্শের স্মৃতি বিরাজ করছে। এখানে গোলাপের সৌরভ নবীর পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও বরকতের প্রতীক। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মহানবীর সংস্পর্শ যে কোনো বস্তুকেই মহিমান্বিত ও পবিত্র করে তোলে।
গানের পরবর্তী অংশে কবি চাঁদকে সম্বোধন করে বলেন, তুমি কি গোপনে মহানবীকে দেখে তাঁর কপালের জ্যোতি ধারণ করেছ? তাই কি তোমার এত অপূর্ব আভা? এটি একটি কাব্যিক অতিশয়োক্তি। বাস্তবে চাঁদের আলো নবীর কাছ থেকে আসেনি; বরং কবি নবীর নূরানী ব্যক্তিত্বকে চাঁদের জ্যোতির চেয়েও উজ্জ্বল বলে কল্পনা করেছেন।
গানের শেষাংশে কবি ভ্রমরকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, তুমি কি সর্বপ্রথম মহানবীর পদচিহ্নে চুম্বন করেছিলে? তোমার গুঞ্জনধ্বনি কি সেই আনন্দেরই প্রকাশ? এখানে ভ্রমরের গুনগুন ধ্বনি নবীপ্রেমের আনন্দগান হিসেবে রূপায়িত হয়েছে। কবি কল্পনা করেন, প্রকৃতির প্রতিটি সত্তাই যেন নবীর ভালোবাসায় উদ্বেল এবং সেই প্রেমের কথা ফুলের বাগানে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৫) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৯ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ:
- বনগীতিকা
- দ্বিতীয় সংস্করণ [১৩৫৯ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে, ১৯৫২)]
- নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২। বনগীতি দ্বিতীয় খণ্ড।
৮। পৃষ্ঠা ১১৭]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ৫৫২ সংখ্যক গান। তাল: কাহারবা। পৃষ্ঠা: ১৬৮]
- রেকর্ড: টুইন [ডিসেম্বর ১৯৩৮ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৫)]। এফটি ১২৬৩৩। শিল্পী
আব্বাস উদ্দিন
- পত্রিকা: মোহাম্মদী। চৈত্র ১৩৪৫ (মার্চ-এপ্রিল ১৯৩৯)।
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর