বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল
নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল।
যে নাম নিয়ে চাঁদ-সেতারা আস্মানে খায় দোল॥
পাতায় ফুলে যে নাম আঁকা
ত্রিভুবনে যে নাম মাখা,
যে নাম নিতে হাসিন ঊষার রাঙে রে কপোল॥
যে নাম গেয়ে ধায় রে নদী,
যে নাম সদা গায় জলধি,
যে নাম বহে নিরবধি পবন হিল্লোল॥
যে নাম রাজে মরু-সাহারায়,
যে নাম বাজে শ্রাবণ-ধারায়,
যে নাম চাহে কাবার মসজিদ
— মা আমিনার কোল॥
- ভাবসন্ধান: এই ইসলামী ভক্তিগীতিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর পবিত্র নামের মাহাত্ম্য, বিশ্বজনীনতা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অত্যন্ত কাব্যিক ভাষায়
উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, এই পবিত্র নাম সমগ্র বিশ্বপ্রকৃতির প্রাণস্পন্দনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে
বিরাজ করে।
গানের শুরুতেই কবি তাঁর মনকে বারবার নবীর "মোহাম্মদ" ও "আহমদ" নাম উচ্চারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কবি মনে করেন এই নামের মহিমায় চাঁদ ও নক্ষত্র মহাকাশের কোলে আপন গতিতে দোল খায়া বিচরণ করে, সেই নামই মানুষের হৃদয়কে আলোকিত করে।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি প্রকৃতির নানা উপাদানের মাধ্যমে নবীর নামের সর্বব্যাপী উপস্থিতি তুলে ধরেছেন। পাতা ও ফুলের সৌন্দর্যে, ভোরের লালিমায়, নদীর কলধ্বনিতে, সমুদ্রের গর্জনে এবং বাতাসের অবিরাম প্রবাহে যেন সেই নামেরই অনুরণন শোনা যায়। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর সৃষ্ট এবং তাঁর প্রিয় নবীর আদর্শে পরিপূর্ণ। প্রকৃতির প্রতিটি সৌন্দর্য মানুষকে সেই মহামানবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
শেষ স্তবকে কবি এই নামের বিশ্বজনীনতা আরও বিস্তৃতভাবে প্রকাশ করেছেন। এই নাম মরুভূমির সাহারায়
ধ্বনিত হয়, এই নাম শ্রাবণের ধ্বনিত হয় বর্ষাধারায়। আবার পবিত্র কাবাঘর যেমন তাঁর স্মৃতিতে ধন্য, তাঁর জন্মদাত্রী মা আমিনা-র কোলও এই নামের প্রথম আশ্রয়স্থল। এখানে কবি নবীর জন্ম, জীবন ও স্মৃতিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেক্র্ড করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮।
ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৫৬০ গান।
-
রেকর্ড:
- টুইন [ডিসেম্বর ১৯৩৬ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩)। এফটি ৪৭১৫। শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ]
- ১৯৩৭
খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি [সোমবার, ১২ মাঘ ১৩৪৩] টুইন কোম্পানির সাথে নজরুলের একটি চুক্তি হয়।
এই চুক্তিপত্রে গানটির উল্লেখ ছিল।