ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়।
আয় রে সাগর আকাশ বাতাস দেখ্বি যদি আয়॥
ধূলির ধরা বেহেশ্তে আজ, জয় করিল দিল রে লাজ।
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়॥
দেখ্ আমিনা মায়ের কোলে, দোলে শিশু ইসলাম দোলে।
কচি মুখে শাহাদাতের বাণী সে শোনায়॥
আজকে যত পাপী ও তাপী, সব গুনাহের পেল মাফী।
দুনিয়া হতে বে-ইনসাফী জুলুম নিল বিদায়॥
নিখিল দরুদ পড়ে লয়ে নাম, সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম।
জীন পরী ফেরেশ্তা সালাম জানায় নবীর পায়॥
কবি অপার মমতায় বর্ণনা করেছেন যে, জননী আমিনা বিনতে ওহাব-এর কোলে শিশু মুহাম্মদ দোল খাচ্ছেন। তাঁর জন্মের মধ্য দিয়েই ইসলামের আদর্শ ও সত্যের বীজ রোপিত হয়েছে। কবির কল্পনায় সেই নিষ্পাপ শিশুর মুখ থেকেই যেন ঈমান ও তাওহিদের বাণী উচ্চারিত হচ্ছে।
মহানবীর আবির্ভাবের ফলে পাপী ও দুঃখক্লিষ্ট মানুষের জন্য ক্ষমা, মুক্তি ও কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ পৃথিবী থেকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও বৈষম্য দূর করার পথ দেখিয়েছে। তাই তাঁর জন্ম মানবসমাজে ন্যায়, সাম্য, মানবতা ও শান্তির এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক।
গানের শেষাংশে কবি দেখিয়েছেন যে, মহানবীর
আগমনে সমগ্র সৃষ্টি আনন্দে মেতে উঠেছে। মানুষ, জিন, পরী ও ফেরেশতারা তাঁর প্রতি
দরুদ ও সালাম নিবেদন করছে। এর মাধ্যমে কবি মহানবীর সর্বজনীন মর্যাদা, মহিমা এবং
বিশ্বজগতের জন্য তাঁর রহমতস্বরূপ আবির্ভাবের ভাবকে গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে
প্রকাশ করেছেন।