বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: রোজ হাশরে আল্লা আমার ক'রো না বিচার
রোজ হাশরে আল্লা আমার ক'রো না বিচার (আল্লা)
বিচার চাহি না তোমার দয়া চাহে এ গুনাহ্গার॥
আমি জেনে শুনে জীবন ভ'রে,
দোষ করেছি ঘরে পরে
আশা নাই যে যাব ত'রে বিচারে তোমার॥
বিচার যদি করবে কেন রহমান নাম নিলে
ঐ নামের গুণেই ত'রে যাব কেন এ জ্ঞান দিলে;
দীন ভিখারি ব'লে আমি
ভিক্ষা যখন চাইব স্বামী
শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে পারবে না'ক আর॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে একজন পাপী কিন্তু অনুতপ্ত বান্দার আত্মসমর্পণ, নিজের অপরাধ স্বীকার এবং আল্লাহর অসীম দয়া ও ক্ষমার প্রতি অগাধ বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে। ন্যায়ের বিচারের পরিবর্তে করুণার আশ্রয় লাভের আকুল প্রার্থনাই এই গানের মূল প্রতিপাদ্য।
গানের শুরুতেই কবি আল্লাহর কাছে আকুল আবেদন জানান- কিয়ামতের দিন (রোজ হাশর) যেন তাঁর কর্মের কঠোর বিচার না করা হয়। তিনি ন্যায়বিচার নয়, বরং আল্লাহর অসীম দয়া ও ক্ষমাই প্রার্থনা করেন। কারণ তিনি জানেন, তাঁর জীবনে বহু পাপ ও ভুল হয়েছে। নিজের অপরাধ সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন এবং বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেন যে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তিনি সারাজীবন অসংখ্য দোষ করেছেন। তাই ন্যায়ের বিচারে মুক্তি লাভের কোনো আশা তাঁর নেই।
এরপর কবি আল্লাহর একটি মহান গুণের প্রতি আশ্রয় নেন। তিনি প্রশ্ন করেন—যদি আল্লাহ কেবল কঠোর বিচারই করতেন, তবে তাঁর নাম
'আর-রহমান' (পরম দয়ালু) কেন হতো? আল্লাহ যখন নিজেকে অসীম করুণাময় হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তখন সেই করুণার ওপর ভরসা করে ক্ষমা লাভের আশা করা মানুষের স্বাভাবিক অধিকার। এই বিশ্বাসই কবিকে আশাবাদী করে তোলে।
গানের শেষাংশে কবি নিজেকে এক অসহায়, দীন ভিখারির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, একজন ভিখারি যখন কোনো দয়ালু প্রভুর কাছে ভিক্ষা চায়, তখন তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া প্রভুর স্বভাব হতে পারে না। তেমনি, তিনি যখন আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও দয়ার ভিক্ষা চাইবেন, তখন পরম দয়াময় আল্লাহ তাঁকে নিরাশ করবেন না। এখানে আল্লাহর সীমাহীন দয়া ও ক্ষমাশীলতার প্রতি কবির অবিচল আস্থা প্রকাশ পেয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন
১৩৪৭) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময়
নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ,
[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৫৮৭]
- রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৪০ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৭)। এফটি ১৩৪৩৪। শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ। সুর:
নজরুল ইসলাম]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
নীলিমা দাস। [নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, একত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন,
১৩৯৭ বঙ্গাব্দ/ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ] ২৩ সংখ্যক গান।
আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর
গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- সুরকার: নজরুল ইসলাম
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য