বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ওগো মা — ফাতেমা ছুটে আয়,
ওগো মা —
ফাতেমা ছুটে আয়, তোর দুলালের বুকে হানে ছুরি।
দিনের শেষে বাতি নিভিয়া যায় মাগো, বুঝি আঁধার হ’ল মদিনা-পুরী॥
কোথায় শেরে
খোদা, জুলফিকার কোথা,
কবর ফেঁড়ে এসো
কারবালা যথা —
তোমার আওলাদ বিরান হ’ল আজি, নিখিল শোকে মরে ঝুরি’॥
কোথায় আখেরী নবী, চুমা খেতে তুমি, যে গলে
হোসেনের
সহিছ কেমনে? সে গলে দুশমন হানিছে শমসের।
রোজ্হাশরে
নাকি কওসরের পানি
পিয়াবে তোমরা
গো গোনাহাগারে আনি,
দেখ না কি চেয়ে, দুধের ছেলেমেয়ে পানি বিহনে মরে পুড়ি॥
-
ভাবসন্ধান: কারবালার যুদ্ধে যাঁদের সাথে হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছিল, তাঁদের
প্রত্যেকের সাথে ছিল ফাতেমা (রাঃ), হজরত আলী (রাঃ) ও হজরত মুহম্মদ (সাঃ)- রক্তের
সম্পর্ক। কবি কারবালার যুদ্ধে ভয়াবহতা বর্ণনা প্রসঙ্গের এই মানুষগুলোকে স্মরণ
করেছেন। বিষয় বিচারে এই গানটিকে বলা যায়- মর্সিয়া (বিলাপ সঙ্গীত)।
কারবালার যুদ্ধের অধিনায়ক হোসেন (রাঃ) ছিলেন ফাতিমা (রাঃ)-এর আদরের সন্তান। সেই
সন্তানকে যখন তরবারি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, তাঁর বেদনাকে কবি মাতৃস্নেহের বেদনা
হিসেবে অনুভব করেছেন। ফাতেমা (রাঃ) সন্তানের
জীবনাবসন দিনের শেষে বাতি নিভে যাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন কবি। দিন শেষের অন্ধকারের
মতো- তাঁর মৃত্যুতে মদিনা পুরী যেন ডুবে
গিয়েছিল হতাশার অন্ধকারে। ইসলামের সোনালী দিনের অবসান ঘটেছিল এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।
তিনি শরণ করেছেন হোসেন (রাঃ) -এর পিতা হজরত আলী (রাঃ)-কে। যিনি তাঁর বীরত্বের জন্য
শের-এ খোদা নামে অভিহিত হতেন। তাঁর গৌরবোজ্জ্বল তরবারির নাম ছিল জুলফিকার। তাঁর
অবর্তমানে তাঁরই পুত্রের এই দশার প্রতিকারের জন্য কবর ভেদ করে কারবালায় আসার অনুরোধ
করেছেন কবি। তাঁর সন্তান বিরান (এখানে মরণ বা বিনাশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে) হয়েছে,
তাই যেন নিখিল বিশ্ব শোকে কাঁদছে।
তিনি শরণ করেছেন হোসেন (রাঃ) -এর মাতমহ হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-কে। যিনি বহুবার
তাঁর নাতির গলায় স্নেহ চুম্বন করেছেন। সেই গলায় তরবারি দিয়ে শত্রু আঘাত করেছে।
কারবালার যুদ্ধে ইয়াজিদ ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দিয়েছিল। এই কারণে অনেক দুধের
শিশুও মৃত্যুবরণ করেছিল পিপাসায়। রোজহাসরে এই পিপাসিতদের কওসর নামক বেহশ্তের পানি
করাবেন এঁরা তিনজন।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল (চৈত্র ১৩৪২-বৈশাখ ১৩৪৪) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে
গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৬ বৎসর ১০ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ৬৬২ সংখ্যক গান। তাল: কাহারবা। পৃষ্ঠা: ২০১]
- রেকর্ড: টুইন [এপ্রিল ১৯৩৬ (চৈত্র ১৩৪২-বৈশাখ ১৩৪৪)]। এফটি ৪৩২৮। শিল্পী:
আব্বাস উদ্দিন
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামী গান। মর্সিয়া
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান
- তাল: বৈতালিক
- গ্রহস্বর: পা