বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ব্রজপুর-চন্দ্র পরমসুন্দর, কিশোর লীলা-বিলাসী
ব্রজপুর-চন্দ্র পরমসুন্দর, কিশোর লীলা-বিলাসী
সখি গো, আমি তা’রই চিরদাসী।
অমৃত-রস-ঘন শ্যামল শোভন, প্রেম-বৃন্দাবন-বাসী॥
চাঁচর চিকুরে
শিখী-পাখা যার,
গলে দোলে
বন-কুসুম হার
ললাটে তিলক, কপোলে অলক অধরে মৃদু মৃদু হাসি॥
মকর কুণ্ডল
দোলে শ্রবণে,
বোলে
মণি-মঞ্জরি রাতুল চরণে
চির অশান্ত, চপল কান্ত বিশ্ব সে রূপ পিয়াসি॥
বক্ষে শ্রীবৎস
কৌস্ত্তভ শোভে,
করে মুরলী ভোলে
মধুর রবে,
পীত বসনধারী সেই মাধবে যেন যুগে যুগে ভালবাসি॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ সৌন্দর্য, মাধুর্যময় লীলারূপ এবং তাঁর প্রতি একান্ত প্রেমময় আত্মসমর্পণের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। গানের বক্তা নিজেকে বৃন্দাবনের এক গোপী বা সখীর রূপে কল্পনা করেছেন, যার জীবনের একমাত্র পরিচয়-তিনি শ্রীকৃষ্ণের চিরন্তন দাসী ও প্রেমভক্ত।
গানের শুরুতেই তিনি কৃষ্ণকে ব্রজপুরের চন্দ্র, পরমসুন্দর, কিশোর লীলাবিলাসী এবং প্রেম-বৃন্দাবনের অধিবাসী বলে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ কৃষ্ণ শুধু বৃন্দাবনের অধিপতি নন; তিনি প্রেমের মূর্ত প্রতীক। তাঁর শ্যামবর্ণ রূপ অমৃতরসে স্নিগ্ধ, যা সকল ভক্তের হৃদয়কে অনন্ত প্রেমে পূর্ণ করে।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি কৃষ্ণের মনোহর রূপের সূক্ষ্ম বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর এলোমেলো কেশে শোভা পাচ্ছে ময়ূরপুচ্ছ, গলায় দুলছে বনফুলের মালা, ললাটে তিলক, কপোলে অলক এবং অধরে মৃদু হাসি। এই রূপ কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের বর্ণনা নয়; এটি কৃষ্ণের মাধুর্য, কোমলতা ও প্রেমময় স্বভাবের প্রতীক। তাঁর হাসি ভক্তের হৃদয়ে আনন্দ ও আশার সঞ্চার করে।
এরপর কবি বলেন, কৃষ্ণের কানে দুলছে মকরাকৃতি কুণ্ডল এবং তাঁর রক্তিম চরণে নূপুরের মধুর ধ্বনি বাজছে। তিনি চিরচঞ্চল, চিরকিশোর এবং চিরআনন্দময়। তাই তাঁর এই অতুলনীয় রূপের দর্শনের জন্য সমগ্র বিশ্ব ব্যাকুল। অর্থাৎ কেবল ব্রজবাসী নয়, সমগ্র সৃষ্টি তাঁর সৌন্দর্য ও প্রেমের আকর্ষণে মুগ্ধ।
গানটির শেষাংশে কবি কৃষ্ণের ঐশ্বর্যময় রূপের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বক্ষে শ্রীবৎসচিহ্ন ও কৌস্তুভমণি শোভা পাচ্ছে, যা তাঁর বিষ্ণুত্বের পরিচায়ক। আবার তাঁর হাতে ধ্বনিত হচ্ছে মধুর মুরলী, যা সকল প্রাণীকে প্রেমের আহ্বান জানায়। পীতবসনধারী সেই মাধবের প্রতি গানের বক্তা চিরন্তন প্রেম নিবেদন করে বলেন- যুগে যুগে তিনি যেন এই কৃষ্ণকেই ভালোবাসতে পারেন। অর্থাৎ তাঁর প্রেম কোনো এক জন্মের নয়; জন্মজন্মান্তরের অটুট ভক্তি ও আত্মসমর্পণের অঙ্গীকার।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার, ৩১ আষাঢ়
১৩৪৪) এইচএমভি'র সাথে নজরুলের যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে এই গানটির উল্লেখ ছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড:
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার, ৩১ আষাঢ় ১৩৪৪) এইচএমভি'র সাথে নজরুলের যে চুক্তি।
-
এইচএমভি।
[সেপ্টেম্বর ১৯৩৭ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৪)। এন ৯৯৪৮। শিল্পী:
কমলা পাট্টাদার]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
ইদ্রিস আলী [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, দ্বাবিংশ খণ্ড,
নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা ভাদ্র, ১৪০৭/
সেপ্টেম্বর, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ] ২১
সংখ্যক গান।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বন্দনা
- সুরাঙ্গ:
কীর্তনাঙ্গ
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: মপা