বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম : (মা)
আয় মুক্তকেশী আয়
(মা) আয় মুক্তকেশী আয়
(মা) বিনোদ-বেণী বেঁধে দোব এলোচুলে।
প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব
বেণী মূলে॥
মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা
খুলে॥
দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব
ধ’রে।
খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি
প’রে।
ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে) দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে
তুলে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানের শুরুতে কবি কালীকে মায়ের স্নিগ্ধরূপে
দেখার আকুলতায় সাজাতে চেয়েছেন। যেমন করে, মা তার
কন্যাকে সাজিয়ে আনন্দ পেতে চান, তেমনি করে কবি কালীকে মা সম্বোধন
করলেও সাজাতে চেয়েছেন অপত্য স্নেহের মায়ায় কন্যা
রূপে। আবার গানের শেষ এসে কালী-পূজার মধ্য দিয়ে শিবের পূজাকেও উপস্থাপন করেছেন
জীবন-মরণের আরাধ্য দেবতা হিসেবে। তা সত্বেও গানটি হয়ে উঠেছে- কালীবন্দনা।
ঘুরে বেড়ানো দুরন্ত কন্যার এলোচুলকে বেণীবদ্ধ করে পরিপাটি করে তোলার আহ্বান ফুটে
উঠেছে গানটির স্থায়ীতে।
অন্তরায় এসে কল্পবাস্তবতায় অনুভব করেছেন- শ্মশানের ভস্ম কালির আড়ালে তাঁর অনন্ত অপরূপ সৌন্দর্যে ঢাকা পড়ে গেছে।
তাই কবি চান
শিবের জটা খুলে স্বর্গ থেকে পতিত পবিত্র গঙ্গাজলে তা ধুয়ে দিতে।
কন্যারূপিণী মাকে কবি তাঁর স্নেহের অধিকারে শ্মাশ্মনে যেতে দিতে চান না। তিনি
চান সহস্রারূপে তিনি বিরাজ করুন। উল্লেখ্য যোগশাস্ত্রমতে শিরোমধ্যস্থ সহস্রদল পদ্মতে শিবের অধিষ্ঠান।
সেখানে কালীর অধিষ্ঠান সহস্রারূপে। সেখানে কালী রামধনু রঙে লীলাময়ী হয়ে বিহার
করবেন সহস্রা হয়ে।
মহাদেবের ললাটের চাঁদ তার রূপ হারানোর বেদনা কেঁদে কেঁদে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সেই
ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদকে কালীকে সৌন্দর্যময়ী করার জন্য তাঁর খোঁপায় বেঁধে
দেবেন। হর-পার্বর্তীর মিলন উৎসবে শিবের জন্য বেল পাতা আর পার্বতীর (দুর্গা বা
কালীর ভিন্ন রূপ) জন্য জবা ফুল নিবেদিত হয়। জীবন-মরণের আরাধ্য দেবদেবী হিসেবে
হর-পার্বতী অধিষ্ঠিত। শিব ও পার্বতী চির-প্রেমের বন্ধনে অটুট। তাই উভয়ের
তুষ্টির জন্য কবি মায়ের পায়ে উভয় নৈবেদ্য অর্ঘ্য হিসেবে নিবেদন করতে চান। কারণ,
মাতৃরূপিণী কালীর পূজার মধ্যেই রয়েছে শিবের পূজা।
- রচনাকাল
: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০
খ্রিষ্টাব্দের জুন (১৮ জ্যৈষ্ঠ-১৬ আষাঢ় ১৩৪৭) মাসে
মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ডে প্রকাশ করে। এই সময় নজরুল
ইসলামের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড: মেগাফোন।
জুন ১৯৪০ (১৮ জ্যৈষ্ঠ-১৬ আষাঢ় ১৩৪৭) জেএনজি ৫৪৮০। পরেশচন্দ্র দেব
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)।
৮১০ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ২৪৮।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: সালাউদ্দিন আহ্মেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, পঁচিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ভাদ্র, ১৪১২/আগস্ট
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ] ষষ্ঠ গান।
[নমুনা]
- সুরকার: নজরুল ইসলাম
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত।
সনাতন হিন্দুধর্ম।
শাক্ত। শ্যামাসঙ্গীত। দ্বৈতসত্তা,
মাতা-কন্যা।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয়
বৈশিষ্ট্য
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: প