বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: জ্যোতির্ময়ী মা এসেছে আঁধার আঙিনায়
জ্যোতির্ময়ী মা এসেছে আঁধার আঙিনায়।
ভুবনবাসী ছেলেমেয়ে আয় রে ছুটে আয়॥
আনন্দ আজ লুট হতেছে কে কুড়াবি আয়,
আনন্দিনী দশভুজা দশ হাতে ছড়ায়,
মা অভয় দিতে এলো ভয়ের অসুর’ দ’লে পায়॥
বুকের মাঝে টইটম্বুর ভরা নদীর জল,
ওরে দুলছে টলমল, ওরে করছে ঝলমল।
ঝিলের জলে ফুটল কত রঙের শতদল
ছুঁতে মায়ের পদতল।
দেব সেনারা বাইচ্ খেলে রে আকাশ গাঙের স্রোতে,
সেই আনন্দে যোগ দিবি কে? আয় রে বাহির পথে,
আর দেব না যেতে মাকে রাখব ধ’রে পায়
মাতৃহারা মা পেলে কি ছাড়তে কভু চায়॥
-
ভাবসন্ধান: শারদীয়া দুর্গার পূজার আগমনী গান। বৎসারন্তে মাতৃরূপিণী
দুর্গার আগমন উপলক্ষে রচিত এই গানে দেবীর আগমনে জনপদবাসীর মনের আনন্দ ও উল্লাস
ও ভক্তিভাব উপস্থাপিত হয়েছে এই গানে। দেবী দুর্গার আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ,
মানুষের মনে সাহস ও আনন্দের সঞ্চার এবং মাতৃস্নেহের আশ্রয়ে ভক্তদের গভীর আনন্দ
ও আকুলতার প্রকাশই এই গানের প্রধান বিষয়।
দুঃখ-বেদনার অন্ধকারে আচ্ছন্ন পৃথিবীতে তিনি আসন্ন শারদীয়া দুর্গার পূজা
উপলক্ষে এসেছেন জ্যোতির্ময়ী রূপে। তাই
জনপদবাসীকে এই আনন্দময় মুহূর্তে অংশগ্রহণ করার আহ্বান করা হয়েছে।
দেবীর আগমনে যেন আনন্দের ধন ভুবনে ছড়িয়ে পড়েছে। আনন্দিনী দশভুজা দেবী আসছেন
তাঁর তাঁর দশ হাতে সেই আনন্দ বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। কবি মনে করেন- তিনি এসেছেন ভয় ও অশুভ শক্তিকে দমন করে মানুষকে অভয়
দানের জন্য।
জনপদবাসীর হৃদয় সরোবর
অপার আনন্দরসে টইটম্বুর। চারদিকে প্রকৃতিও আনন্দ-জ্যোতিতে ঝলমল করছে। ঝিলের জলে নানা রঙের শতদল (পদ্মফুল) ফুটে উঠেছে, যেন তারাও
মাতৃরূপিণী দেবীর পদস্পর্শ পেতে চায়।
আকাশ হয়ে উঠেছে বিশাল আনন্দ-নদীর মতো, সেখানে দেবতারা নৌকা-বাইচের আনন্দোৎসবে মেতে উঠেছে।
তাই কবি এই মহানন্দে জনপদবাসীকে এই উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান করে বলছেন- 'এসো, বাইরে বেরিয়ে এই উৎসবে যোগ দাও।'
এই উৎসব শেষ দেবী বিদায় নেবেন। ভক্তরা তা জানেন। এই অমোঘ রীতি জেনেও জনপদবাসীর
মনে জেগে ওঠে দেবীকে চিরকালের জন্য ধরে রাখার দুরাশা। তাই দেবীর প্রতি
অন্ধপ্রেমে কামনা করেন- 'মা যখন এসেছেন, তখন তাঁকে আর যেতে দেওয়া হবে না'। মাতৃহারা সন্তান
যেমন মাকে কাছে পেলে তাকে আর ছেড়ে যেতে দিতে চায় না, তেমনি ভক্তরাও মাতৃরূপিণী দেবীকে চিরকাল কাছে রাখতে চায়।
-
রচনাকাল ও স্থান:
গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৪) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৮ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয়
সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ৮১৬।
- রেকর্ড: টুইন।
অক্টোবর ১৯৩৭ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৪)।এফটি
১২১২৮। শিল্পী: নিতাই ঘটক ও কুমারী রেবা সোম।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সালাউদ্দিন আহ্মেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, পঁচিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ভাদ্র, ১৪১২/আগস্ট
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ] ১৩ সংখ্যক গান।
[নমুনা]
-
সুরকার: গিরীন চক্রবর্তী
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। দুর্গা। আগমনী
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান
- তাল:
দ্রুত
দাদরা
- গ্রহস্বর: ধা