বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: দেবতা গো, দ্বার খোলো
দেবতা গো, দ্বার খোলো।
অভিসার নিশি বাহির দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রভাত হ’ল॥
পাষাণের আবরণে তুমি যদি
এমনি গোপন রবে নিরবধি,
বেণুকার সুরে হৃদি যমুনায় কেন এ লহর তোলো॥
আর সহিতে পারি না একা,
প্রাণে কেন দিয়ে আশা এত ভালোবাসা
যদি নাহি দিবে দেখা।
বহিতে পারি না আর এই ভার,
এই ফুল সাজ পূজা-সম্ভার
তুমি দেখা দেও একবার দেখা দেও
─
দেখা দিয়ে চিরতরে মোরে ভোলো॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে এক প্রেমমুগ্ধ ভক্তহৃদয়ের গভীর আকুলতা, বিরহবেদনা ও
দেবদর্শনের অদম্য পিপাসা রূপ লাভ করেছে। এখানে ভক্ত ও আরাধ্যের মধ্যকার চিরন্তন
প্রেমের সম্পর্ক এক নিবিড় প্রতীক্ষার আবহে ফুটে উঠেছে। দেবতার সান্নিধ্যলাভের
আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল ভক্ত তাঁর হৃদয়ের সমস্ত আর্তি, প্রেম ও নিবেদন নিয়ে প্রভুর
দ্বারে এসে দাঁড়িয়েছেন।
গানের সূচনায় তিনি
দেবতার কাছে দ্বার উন্মোচনের মিনতি জানিয়েছেন। মিলনের আশায় তিনি সারারাত জেগে
অভিসারিণীর মতো অপেক্ষা করেছেন; কিন্তু নিশির অবসান ঘটিয়ে প্রভাতের আলো ফুটলেও
তাঁর আরাধ্যের দর্শন মেলেনি। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা তাঁর হৃদয়কে আরও ব্যথাতুর করে
তুলেছে।
ভক্তের মনে হয়, দেবতা যেন পাষাণের আবরণে
নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। অথচ তিনিই আবার তাঁর বেণুর মধুর সুরে ভক্তের
হৃদয়-যমুনায় প্রেম, আশা ও আকাঙ্ক্ষার অগণিত তরঙ্গ জাগিয়ে তুলেছেন। তাই ভক্তের
অভিমানমিশ্রিত প্রশ্ন—যদি চিরকাল অন্তরালে থাকাই তাঁর ইচ্ছা, তবে কেন তিনি প্রেমের
এমন আগুন জ্বালিয়ে দিলেন হৃদয়ের গভীরে? কেনই বা মিলনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিরহের
অশ্রু উপহার দিলেন?
এই অসহনীয় প্রতীক্ষা ও বিরহবেদনার ভার আর
বহন করতে পারছেন না ভক্ত। দেবতারই দান করা প্রেম তাঁর সমগ্র সত্তাকে অধিকার করেছে।
তাই সমস্ত ভক্তি, পূজা, প্রেম ও হৃদয়ের অর্ঘ্য নিয়ে তিনি আরাধ্যের শ্রীচরণে
আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর একমাত্র প্রার্থনা—একবার, শুধু একবার, দেবতা যেন তাঁর
সম্মুখে আবির্ভূত হন।
গানের অন্তিমে ভক্তির আর্তি চরম আবেগে রূপ পেয়েছে। ভক্ত নিবেদন করেন—দেবতা যদি একবার
তাঁর দর্শন দান করেন, তবে পরে তাঁকে ভুলে গেলেও তাঁর কোনো অভিযোগ থাকবে না। কারণ
সেই এক মুহূর্তের ঈশ্বরদর্শনই তাঁর দীর্ঘ সাধনা, অশ্রুসিক্ত প্রতীক্ষা ও অনন্ত
প্রেমকে পূর্ণতা দেবে। সেই এক ঝলক দর্শনই হবে তাঁর জীবনের পরম প্রাপ্তি, বিরহের
অবসান এবং আত্মার চিরকাঙ্ক্ষিত তৃপ্তি।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন
১৩৪৭) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইন্সটিটিউট, মাঘ, ১৪১৭ / ফেব্রুয়ারী,২০১১)।
৮৩০ সংখ্যক গান।
- রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৪০ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৭)। এফটি ১৩৪৩০। শিল্পী: পারুল সোম। সুর: শৈলেশ দত্তগুপ্ত]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: ইদ্রিস আলী [নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, চব্বিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা]
সপ্তম গান।
[নমুনা]
- সুরকার: শৈলেশ দত্তগুপ্ত
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধরর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। সাধারণ। দেবতা।
প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: গপা