বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও
শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও।
দুখ্ দিয়ে কাঁদালে যদি তুমি হে নাথ সে দুখ ভোলাও॥
যে হাত দিয়ে হানলে আঘাত
তুমি অশ্রু মোছাও সেই হাতে নাথ
বুকের মানিক হ’রলে যা’র, তারে তোমার শীতল বক্ষে নাও॥
তোমার যে চরণ প্রলয় ঘটায়
সেই চরণ কমল ফোটায়
শূন্য করলে তুমি যে বুক সেথা তুমি এসে বুক জুড়াও॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি মানুষের জীবনের দুঃখ, শোক ও বিপর্যয়ের মধ্যেও করুণাময়
পরমসত্তার আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন- যিনি জীবনে শোক দেন, পরীক্ষার জন্য দুঃখ দেন, তিনিই আবার সেই শোক দূর করে শান্তি দিতে পারেন। তাই
পরমসত্তার কাছে তাঁর শান্তি ও সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য কবির এই প্রার্থনা ।
কবি মনে করেন, যে হাত আঘাত করে, সেই হাতই আবার অশ্রু মুছে দিতে পারে। অর্থাৎ জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-বিয়োগ—সবকিছুর মধ্যেই
পরমসত্তার এক রহস্যময় বিধান রয়েছে। মানুষের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু বা আপনজন হারিয়ে যখন হৃদয় শূন্য হয়ে যায়, তখন সেই অসহায় মানুষকে
তিনি তাঁর স্নেহময় আশ্রয়ে গ্রহণ করেন। গানের
শেষাংশে কবি এক গভীর সত্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে যে চরণ প্রলয় ঘটায়, সেই চরণই আবার পদ্মফুল ফোটায়। অর্থাৎ ধ্বংস ও সৃষ্টি একই মহাশক্তির দুই রূপ। জীবনে বিপর্যয় আসে, সবকিছু শূন্য হয়ে যায়; কিন্তু সেই শূন্যতার মধ্যেও আবার নতুন সৃষ্টি, নতুন আশা ও নতুন জীবনের সম্ভাবনা জন্ম নিতে পারে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের
মার্চ (পৌষ-মাঘ ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে
গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৭ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর
৮৯৬ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ২৭৬।
- রেকর্ড:
এইচএমভি [জানুয়ারি ১৯৩৭ (পৌষ-মাঘ ১৩৪৩)]।
এন ৯৮৪২। শিল্পী: মৃণালকান্তি ঘোষ।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
-
আহসান মুর্শেদ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি,
তেত্রিশতম খণ্ড, (নজরুল ইন্সটিটিউট, আষাঢ় ১৪১৭। জুন
২০১০)। ১৫ সংখ্যক গান। রেকর্ডে
মৃণালকান্তি ঘোষ-এর
গাওয়া সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। পৃষ্ঠ: ৫২-৫৩]
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ:
ভজনাঙ্গ
- তাল:
দাদরা।
- গ্রহস্বর: গা