বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান, চল্ নামাজে চল্
মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান,
চল্ নামাজে চল্।
দুঃখে পাবি সান্ত্বনা তুই বক্ষে
পাবি বল॥
ময়লা-মাটি লাগবে যা তোর দেহ-মনের
মাঝে─
সাফ হবে সব, দাঁড়াবি তুই যেম্নি
জায়নামাজে ;
(চল্) রোজগার তুই করবি যদি আখেরের ফসল॥
হাজার কাজের অছিলাতে নামাজ করিস কাজা
খাজনা
তারি দিলি না, যে দ্বীন-দুনিয়ার রাজা
তাঁরে পাঁচ বার তুই করবি মনে, তাতেও এত ছল্॥
কার
তরে তুই মরিস খেটে; কে হবে তোর সাথী
বে-নামাজীর
আঁধার গোরে কে জ্বালাবে বাতি
(চল্) খোদার নামে শির লুটায়ে জীবন কর্ সফল॥
- ভাবসন্ধান: নামাজ মানুষের আত্মশুদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিক উন্নতি এবং পরকালীন মুক্তির অন্যতম প্রধান উপায়। সংসারের ব্যস্ততা ও পার্থিব মোহে ইবাদতকে অবহেলা না করে নিয়মিত আল্লাহর স্মরণে আত্মনিয়োগ করাই মানুষের প্রকৃত কল্যাণ ও সফলতার পথ।
এই গানে কবি মানুষকে নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়ে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, নামাজ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মানুষের আত্মশুদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি এবং পরকালীন কল্যাণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
গানের শুরুতেই কবি আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষ যখন দুঃখ, কষ্ট ও জীবনের নানা সংকটে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন নামাজ তার হৃদয়ে শান্তি, সাহস এবং নতুন শক্তি সঞ্চার করে। আল্লাহর সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের দুর্বলতা ভুলে আশাবাদী হয়ে উঠতে পারে।
এরপর কবি নামাজের আত্মিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। দৈনন্দিন জীবনে মানুষের দেহ ও মন নানা পাপ, লোভ, হিংসা, অহংকার ও কলুষতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু আন্তরিকভাবে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করলে সেই অন্তরের ময়লা ধীরে ধীরে দূর হয়। অর্থাৎ নামাজ মানুষের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে এবং নৈতিক জীবনের পথে পরিচালিত করে। পাশাপাশি কবি বলেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইবাদত করে, সে পরকালের জন্য পুণ্যের ফসল সংগ্রহ করে।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি মানুষের একটি সাধারণ দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। মানুষ সংসারের হাজারো কাজের অজুহাতে নামাজ বিলম্বিত করে বা কাজা করে, অথচ পৃথিবী ও পরকালের প্রকৃত মালিক আল্লাহর হক আদায়ে অবহেলা করে। কবি নামাজকে রূপকভাবে রাজাকে প্রদেয় খাজনা-র সঙ্গে তুলনা করেছেন। যিনি মানুষকে জীবন, রিজিক ও অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন, তাঁকে দিনে মাত্র পাঁচবার স্মরণ করতেও যদি মানুষ কুণ্ঠিত হয়, তবে তা অকৃতজ্ঞতার পরিচায়ক।
সবশেষে কবি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সে সারাজীবন পরিবার, সম্পদ ও জীবিকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে; কিন্তু মৃত্যুর পর এসবের কোনোটিই তার সঙ্গে থাকবে না। তখন তার একমাত্র সহায় হবে ঈমান, ইবাদত ও সৎকর্ম। তাই তিনি মানুষকে আল্লাহর নামে সিজদায় অবনত হয়ে জীবনকে অর্থবহ ও সফল করার আহ্বান জানান।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি এই গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ:নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইন্সটিটিউট, মাঘ, ১৪১৭ / ফেব্রুয়ারী,২০১১) নামক গ্রন্থের
৯৪৭ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ১৪০।
- রেকর্ড: এইচএমভি [জুলাই ১৯৩৬
(আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৩)। এন ৯৭৪৫। শিল্পী: সাকিনা বেগম
(আশ্চর্যময়ী)। সুর কমল দাসগুপ্ত]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি,
একচল্লিশতম খণ্ড, অগ্রহায়ণ ১৪২৪] গান সংখ্যা ১৯।
পৃষ্ঠা: ৮৭
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। ধর্মাঙ্গ। নামাজ
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর