বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে
সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে
ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।
আজ মদিনার গোলাপ বাগে বাতাস বহে ধীরে
ভেসে আকুল অশ্রুনীরে॥
তপ্ত বুকে আজ
সাহারার
উঠেছে রে ঘোর
হাহাকার
মরুর দেশে এলো আঁধার শোকের বাদল ঘিরে॥
চবুতরায় বিলাপ করে কবুতরগুলি খোঁজে নবীজীরে।
কাঁদিছে মেষশাবক, কাঁদে বনের বুলবুলি গোরস্থান ঘিরে॥
মা ফাতেমা
লুটিয়ে প’ড়ে
কাঁদে নবীর
বুকের পরে
আজ দুনিয়া জাহান কাঁদে কর হানি শিরে॥
- ভাবাদর্শ: এই গানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের শোককে কেন্দ্র করে মানবজাতি, তাঁর পরিবার এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের গভীর বেদনা কাব্যিকভাবে চিত্রিত হয়েছে। তিনি ছিলেন বিশ্বজগতের জন্য রহমত; তাই তাঁর বিচ্ছেদে সর্বত্র যে শোক ও শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অনুভূতিই এই গানের মূল প্রতিপাদ্য।
এই ভাবাদর্শে রচিত গানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের (ইন্তেকালের) শোককে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও আবেগময় ভাষায় চিত্রিত করেছেন। রবিউল আউয়াল মাসের স্মৃতি এখানে আনন্দের নয়; বরং নবীজীর বিদায়ের বেদনাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। সমগ্র প্রকৃতি, মানুষ এবং জীবজগৎ যেন তাঁর বিচ্ছেদে শোকাহত—এই কাব্যিক কল্পনাই গানের মূল বৈশিষ্ট্য।
গানের শুরুতে কবি বলেন, আবার রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ উদিত হয়েছে। কিন্তু এই চাঁদ আনন্দের বার্তা নিয়ে আসেনি; বরং নবীজীর স্মৃতিকে জাগিয়ে দিয়ে সবার চোখে অশ্রু এনেছে। মদিনার গোলাপবাগানের বাতাসও যেন ধীর ও বিষণ্ন হয়ে বইছে। এখানে গোলাপবাগান মহানবীর পবিত্র নগরী এবং তাঁর সুগন্ধময় স্মৃতির প্রতীক।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি সাহারা মরুভূমির হৃদয়ে গভীর হাহাকারের ছবি এঁকেছেন। মহানবী (সা.)-এর ওফাতের ফলে যেন সমগ্র মরুভূমি অন্ধকারে ঢেকে গেছে এবং শোকের মেঘ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি প্রকৃতির বাস্তব পরিবর্তনের কথা নয়; বরং মানবজাতির গভীর শোককে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত এক কাব্যিক রূপক।
এরপর কবি প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে মানবীয় অনুভূতি দিয়েছেন। মসজিদের চত্বরে কবুতরগুলো যেন বিলাপ করতে করতে নবীজীকে খুঁজছে। মেষশাবক, বনের বুলবুলি—সব প্রাণীই যেন তাঁর বিচ্ছেদে কাঁদছে। এমনকি তাঁর রওজা মোবারককে ঘিরেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এই চিত্রকল্পের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, মহানবী (সা.) ছিলেন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত; তাই তাঁর বিদায়ে সমগ্র সৃষ্টি যেন শোকাহত।
গানের শেষাংশে কবি অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে হজরত ফাতিমা (রা.)-এর শোকের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি পিতার বিচ্ছেদে ভেঙে পড়েছেন এবং গভীর বেদনায় কাঁদছেন। এই ব্যক্তিগত শোক ধীরে ধীরে সমগ্র মানবজাতির শোকে পরিণত হয়েছে। কবি বলেন, আজ যেন সমগ্র পৃথিবী মাথায় আঘাত করে বিলাপ করছে। এর দ্বারা মহানবী (সা.)-এর প্রতি মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা ও তাঁর ইন্তেকালে বিশ্বজনীন শোকের প্রকাশ ঘটেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের মে
মাসে
(বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৪),
এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি
এই গানের একটি রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। নজরুলের ইসলাম ৩৭ বৎসর ১১ মাস বয়স অন্তের
শেষে গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল।
- গ্রন্থ:
-
বনগীতিকা
- দ্বিতীয় সংস্করণ [১৩৫৯ বঙ্গাব্দের
১১ই জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে, ১৯৫২)]
- নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক
১৪১৯, নভেম্বর ২০১২।
বনগীতি দ্বিতীয় খণ্ড। ২। শিরোনাম
তিরোধান।
পৃষ্ঠা ১১৪-১১৫]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ৯৫২
সংখ্যক গান। বৈতালিক।
পৃষ্ঠা: ২৯২।
- রেকর্ড:
- এইচএমভি [মে ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৪)। এন. ৯৮১৯। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও মহম্মদ কাশেম]
- সুরকার: নজরুল ইসলাম
-
স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ:
ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল। হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর তিরোধান উপলক্ষে রচিত গান
-
সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর