বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ
ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের একটি শাখা।
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ২রা
মার্চ এই শাখার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী
ঢাকাতে। এই শাখার প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা ছিল বাংলা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, স্যার আবদুল হালিম গজনবী, বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল কাশেম, ওয়াহিদ হোসেন ও আবদুর রসুল। এদের মধ্যে নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহকে সভাপতি এবং সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ও জাহিদ সোহরাওয়ার্দীকে সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। আবুল কাসেম, ওয়াহিদ হোসেন ও আবদুর রসুল সহ অনেক সদস্য একই সাথে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।
১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে দলটির
একাংশ পৃথক হয়ে তৈরি হয় প্রজা পার্টি।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে দলটি বাংলার আইন সভায় ৪০টি আসন পায়। এই সময় দলটি কৃষক
পার্টির নেতা একে ফজলুল হককে সমর্থন করে। এই সময় এই দলের প্রধান ছিলেন খাজা
নাজিমুদ্দিন।
১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা কর্পরেশন নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২২টি আসনের
মধ্যে ১৮টি আসন লাভ করে।
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে একে ফজলুল হকের সরকারের প্রতি অনাস্থা দেখিয়ে, এরা সমর্থন
প্রত্যাহার করে।
১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে হক-শ্যামা জোটকে সরিয়ে নাজিমুদ্দিন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন। এই
বৎসরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এছাড়া প্রাদেশিক নানা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় দলটির
অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পায়।
১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে নাজিমুদ্দিন-সরকারের পতন ঘটে এবং গভর্নরের শাসন জারি হয়। এরপর
থেকে দলের নেতৃত্ব চলে আসে হোসেন শহীদ সোহওরাওয়ার্দি এব মোহম্মদ আলীর কাছে।
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বঙ্গীয় আইন সভায় ২৫০ আসনের মধ্যে ১১৪টিতে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। অন্যান্য প্রদেশ মুসলিম লীগের অবস্থান ছিল: সিন্ধু প্রদেশ: ২৮/৬০, পাঞ্জাব: ৭৫/১৭৫, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ: ১৭/১৫০, যুক্তপ্রদেশ: ৫৪/২২৮, বিহার প্রদেশ: ৩৪/১৫২, আসাম: ৩১/১০৮, বোম্বে প্রেসিডেন্সি: ৩০/১৭৫, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি: ২৯/২১৫ এবং ওড়িশা প্রদেশ:
৪/৬০।
বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে এই দলটি ৪৫% আসন লাভ করাই ছিল এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের পক্ষে সবচেয়ে বড় সাফল্য। সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভাই ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের
পূর্ব-কাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল।
সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা গঠনের একটি প্রস্তাব দিলেও মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান তা বিবেচনায় নেয় নি। নাজিমুদ্দিন সোহরাওয়ার্দীর পরিকল্পনার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে এবং নাজিমউদ্দিনের সহযোগী- জিন্নাহর কাছ থেকেও সোহরাওয়ার্দী এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা পান নি।