![]() |
|
গণঅধিকার পরিষদের পতাকা |
|
|
|
গণঅধিকার পরিষদের প্রতীক |
২০১৮
খ্রিষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত 'বাংলাদেশ
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ'-এর সূত্রে এই দলের
প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।
২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কোটা
সংস্কার আন্দোলনের নেতারা তাদের অবস্থান এবং গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে প্যানেল করে
নির্বাচনে অংশ নেয়। এ নির্বাচন নিয়ে নানান মতবাদ ও কারচুপির অভিযোগ থাকলেও ভিপি
এবং সমাজসেবা পদে জয়লাভ করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই নেতা। ধীরে ধীরে
আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সারাদেশে সু-সংগঠিত হতে থাকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার
পরিষদ। যার ফলশ্রুতিতে একটি নব্য রাজনৈতিক ধারার দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি এর নাম
পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাজনৈতিক দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদ আত্নপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠাকালে দলটির একটি ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
আহ্বায়ক ছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা ড. রেজা কিবরিয়া।
সদস্য সচিব ছিলেন
নুরুল হক নুর।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন রাশেদ খান, ফারুক হাসান, আবু হানিফ এবং ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ।
দলটি প্রতিষ্ঠার সময় চারটি মূল স্তম্ভ বা নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। নীতগুলো ছিল-
গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ। প্রতিষ্ঠার দিন ২১ দফার প্রস্তাব
রাখা হয়েছিল। এগুলো হলো-
২০২২ খ্রিষ্টাব্দে সাংগঠনিক বিস্তার ও আন্দোলন সারা দেশে সফর: এই বছর দলটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফর এবং কর্মীসভা পরিচালনা করে। নির্দলীয় সরকারের দাবি: বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে সরব হয়।১. সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান।
২. শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্র: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং একটি জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন।
৩. সংবিধান সংস্কার: সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা।
৪. নির্বাচনী ব্যবস্থা: অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা।
৫. বিচার বিভাগ ও আইন: বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ব্রিটিশ আমলের কালাকানুন বাতিল করা।
৬. বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
৭. সুশাসন ও দুর্নীতি দমন: দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রীয় সর্বস্তরে দুর্নীতি বন্ধ করা।
৮. অর্থনীতি ও শিল্প: টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার এবং দেশীয় পণ্যের বাজার নিশ্চিত করা।
৯. কৃষি ও কৃষক: কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থা: আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং জিডিপি-র উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা।
১১. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য বিমা চালু করা।
১২. কর্মসংস্থান: বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শিক্ষিত তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
১৩. প্রবাসী কল্যাণ: প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও হয়রানি মুক্ত সেবা নিশ্চিত করা।
১৪. ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু: ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং নাগরিক মর্যাদা সুসংহত করা।
১৫. পররাষ্ট্রনীতি: 'সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতির ভিত্তিতে সমমর্যাদার পররাষ্ট্রনীতি।
১৬. নারী ও শিশু: নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ।
১৭. সড়ক ও যোগাযোগ: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
১৮. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।
১৯. পরিবেশ ও জলবায়ু: পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
২০. প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা: তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইনের সংস্কার।
২১. খেলাধুলা ও সংস্কৃতি: সুস্থ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ক্রীড়া জগতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।