চলন বিল
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল।
স্থানাঙ্ক: ২৪.৩৫হতে ২৪.৭০উত্তর এব‌ং ৮৯.১০হতে ৮৯.৩৫পূর্ব অক্ষাংশে অবস্থিত।

অবস্থান : পার্শ্ববর্তী চারটি জেলা- রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জুড়ে এর বিস্তৃতি। সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা এবং পাবনার চাটমহর উপজেলার অধিকাংশ আংশ চলনবিলের মধ্যে পড়েছে। এর একপাশে নাটোরের সিংড়া উপজেলা, আরেক পাশে গুমনি নদী।

চলন বিলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাবনা জেলার অস্টমনিষায় গুমনি এবং বড়াল নদী মিশেছে। পাবনার তারাশ উপজলার একটা বড় অংশও চলনবিলের মধ্যে পড়েছে। প্রস্থে চলনবিল প্রায় ১৩ কিঃ মিঃ, তারাশ থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত, আর দৈর্ঘ্যে সিংড়া থেকে কাছিকাটা পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিঃ মিঃ।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র যখন গতিপথ পরিবর্তন করে যমুনার জন্ম হয় তখন চলনবিলের উৎপত্তি। সম্ভবত করতোয়া আর আত্রাই নদীর বিস্তৃত অংশ পরিত্যক্ত হয়ে বিশাল একটা জলাশয় এর সৃস্টি হয় হয়। চলনবিলের সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় আত্রাই এবং বড়াল নদীও ঐতিহাসিকভাবে জড়িত। আত্রাই নদী এই বিলের প্রধান পানি সরবরাহকারী নদী, অন্যদিকে বড়াল নদী দ্বারা এর পানি সরাসরি যমুনাতে নিস্কাষিত হয়। ধারণ করা হয় উৎপত্তির সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১০৮৮ বর্গ কিমি।

১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় এর আসল আয়তন ১০৮৮ বর্গ কিমি শুকিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিমি-তে। বাকি অংশ হয় বসতি স্থাপনের কারণে অথবা কৃষিকাজের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। কিন্তু এই অবস্থাতেও প্রায় ৮৬ বর্গ কিমি এলাকা বছরের সবসময় জলমগ্ন থাকে। জরিপে আরও দেখা গেছে যে, পানি সরবরাহকারী নদী দ্বারা বৎসরে প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয়, আর ১.৫ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বিভিন্ন নদী বা ক্যানেল দিয়ে বের হয়ে যায়। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয় এই বিলে। এই পলি যদি ৩৬৮ বর্গ কিমি এলাকায় সমভাবে বিস্তৃত করে দেয়া হয় তাহলে প্রতি বৎসর এর উচ্চতা প্রায় ১.২৭ সেমি করে বৃদ্ধি পায়। বিলের শুষ্ক মৌসুমের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি জরিপ পরিচালিত হয় এবং সেখানেও দেখা যায় যে, বিলের আয়তন হ্রাস পাচ্ছে।

১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের পরিচালিত ৩য় জরিপে দেখা যায় যে ৩১ থেকে ৩৯ বর্গ কিমি এলাকা বছরের সবসময় পানির নিচে থাকে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের দিকে বিলের মূল এলাকায় পানির গভীরতা মাপা হয় ২.৭৫ থেকে ৫.৪৯ মিটার। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে দেখা যায় শুষ্ক মৌসুমে শুধুমাত্র কিছু পুকুর আর খাল ছাড়া বাকি অংশ প্রায় পুরাটাই শুকিয়ে যায়।


সূত্র :