সলিমুল্লাহ মুসলিম হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষারথীদের আবাসনের জন্য এই আবাসিক হলটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুরুর দিকে
হলটি সচিবালয় হাউজের প্রথম তলায় ছিল। এর নিচতলার বৃহত্তম কক্ষটি একটি ডাইনিং রুম, রান্নাঘর, সাধারণ ঘর, গ্রন্থাগার এবং অন্যান্য কক্ষে বিভক্ত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে মুসলিম হল মোট ১৭৮ জন আবাসিক এবং সংযুক্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জন ছাত্রকে রেখেছিল। সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ ফজলুর রহমান সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট হিসাবে নিয়োগ পান। গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ধর্মীয় নির্দেশের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯২২-২৩ অধিবেশনে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০১। শিক্ষার্থীদের জন্য আটটি অতিরিক্ত কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

১৯২৩-২৪ অধিবেশনে মুসলিম আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১২৭ হয়, এবং সচিবালয় হাউসে ৬১টি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছিল। যেহেতু নিয়মিতভাবে বাসিন্দাদের সংখ্যা বাড়ছিল, তাই হাউস টিউটর এম.এফ. রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একটি চিঠিতে লেখেন-

"মুসলিম সম্প্রদায় তাদের জন্য একটি পৃথক হল তৈরি করা উচিত বলে ইচ্ছা পোষণ করেছে; বিশ্ববিদ্যালয় তার মূলধন অনুদানের একটি অংশ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে এবং একটি সরকারী ঋণ চেয়েছে। যদি এটি করা হয় তবে সম্প্রদায়টি কৃতজ্ঞ হবে; এটি হবে একটি সন্তুষ্টিজনক যে মুসলিম যুবক যারা তাদের প্রজন্মের আসল রক্ষক তাদের জন্য একটি উপযুক্ত ভবন সরবরাহ করা হয়েছে।"

বিশ্ববিদ্যালয় একটি নতুন হল তৈরি করতে রাজি হেলে হলের পরিকল্পনা এবং নকশা করার জন্য স্থপতি গওয়াইথরকে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল সরকার এই পরিকল্পনাটি সম্পাদনের জন্য তহবিল সরবরাহ করে। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে আগস্ট বাংলার গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসন ঢাকার প্রয়াত নবাব বাহাদুর স্যার সলিমুল্লাহর নামানুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের’ ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। ১৯৩১-৩২ শিক্ষাবর্ষে এর ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়।

১৯৩০-৩১ অধিবেশন চলাকালীন ঠিকাদার মেসার্স মার্টিন অ্যান্ড কো. ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করে। ১৯৩১-৩২ অধিবেশনে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলটি সম্পূর্ণ হয়। এই হলের প্রথম প্রোভোস্ট নিযুক্ত হন ইতিহাস বিভাগের রিডার স্যার এ এফ রহমান। উল্লেখ্য