ইস্রায়েলের পতাকা

ইস্রায়েল
ইংরেজি Israel
হিব্রু ভাষায়
: מְדִינַת יִשְׂרָאֵל
আরবি:
دَوْلَةْ إِسْرَائِيل‎‎ দাউলাত্‌ ইস্‌রা'ঈল্‌)

এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ। এর অবস্থান রাজধানী জেরুজালেম। তবে এর মূল প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব।

ভৌগোলিক অবস্থান:  ৩১° উত্তর ৩৫° পূর্ব। এর উত্তরে লেবানন; পূর্বে উত্তর-পূর্বে সিরিয়া; পূর্বে জর্দান, ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত অঞ্চল; পশ্চিমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, ও গাজা উপত্যাকা; দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর।

আয়তন: ২০,৭৭০-২২, ০৭২ বর্গকিলোমিটার

জনসংখ্যা: ৮৮,৬৯,০২০ (২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
উল্লেখযোগ্য জাতিগোষ্ঠী: মেস্টিজো ৬৫%, স্থানীয় পানামানিয়ান ১২.৩ %, আফ্রো পানামানিয়ান ৯.২%।

ভাষা:
হিব্রু, আরবি
ধর্ম: ইহুদি ৭৪.৭%,  ১৭.৭% মুসলমান, ২.০% খ্রিষ্টান, ১.৬ দ্রুজ এবং অন্যান্য ৪%
মুদ্রা: নিউ সেকেল।

ইতিহাস

১৬-১৭ মে আরব অনিয়মিত বাহিনী আক্রমণ করে, Old City-এর Jewish Quarter-এর এক-তৃতীয়াংশ দখল করে। ইস্রায়েলি বাহিনী একাটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

১৮ মে মিশরীয় বিমানবাহিনী তেল আবিবের
Old Central Bus Station-এ বোমা হামলা করে: ৪২ জন নিহত, শতাধিক মানুষ আহত হয়। এই দিন জর্ডানের আরব লিজিয়ন জেরুজালেমে যোগ দেয়, Old City-এর লড়াই তীব্র হয়।

১৯ মে মিশরীয় সেনা নেগেভ অঞ্চল ঘিরে ফেলে, দক্ষিণ ফ্রন্টে অগ্রসর হয়। এই দিন ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের প্রধান রাস্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।

১৯ মে মিশরীয় বিমান হাইফার কাছে এয়ারবেসে হামলা করে। ভুল করে সে সময়ে সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ করেছিল।

২৮ মে আরব বাহিনী জেরুজালেমের
Old City-এর Jewish Quarter দখল করে। এই সময় এই অঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে। এই দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গঠিত হয়।

এরপর জাতিসংঘের প্রস্তাবে যুদ্ধ বিরতি হয়। প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাব কার্যকরী হতে ১১জুন পর্যন্ত গড়ায়।
এই সময় বিভিন্ন ফ্রন্টে ছোটখাটো লড়াই চলে। যেমন-


এই ১৭ দিনে আরব আক্রমণ তীব্র ছিল, বিশেষ করে জেরুজালেম ও দক্ষিণে। ইসরায়েল প্রতিরোধ করে অস্ত্র সংগ্রহ করে, কিন্তু
Old City হারায়। যুদ্ধবিরতি ১১ জুন থেকে শুরু হয়, যা ইসরায়েলকে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিয়েছিল। এই সময়ে ইস্রায়েল চেকোস্লোভাকিয়া থেকে Avia S-199 যুদ্ধবিমান, রাইফেল, মেশিনগান ইত্যাদি ক্রয় করে। এরা সেনাবহিনীকে সুসংহত করে এবং নতুন ইহুদি অভিবাসী ও স্বেচ্ছাসেবক যোগ দেয়। ফলে এদের সেনা সংখ্যা বৃদ্ধ পায়। এই সময় আরব সেনাবাহিনী তাদের সামারিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হয়।


ইরগুন
 Irgun Zvai Leumi (National Military Organization in the Land of Israel)
১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে প্রধান ইহুদী প্রতিরক্ষা বাহিনী হাগানাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত হয়েছিল। মূলত এর ছিল- অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বাহিনী। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইনে এরা সক্রিয় একটি প্যারামিলিটারি গ্রুপ হিসেবে সক্রিয় ছিল।

জেভ জাবোতিনস্কি
(Ze'ev Jabotinsky)
প্রকৃত নাম ভ্লাদিমির য়েভগেনিয়েভিচ ঝাবোতিনস্কি (Vladimir Yevgenyevich Zhabotinsky)।
বিখ্যাত ইহুদি নেতা, লেখক, কবি, সাংবাদিক, বক্তা, সৈনিক। তিনি রিভিশনিস্ট জায়োনিজম (Revisionist Zionism)-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি আধুনিক ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। 

১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ অক্টোবর রাশিয়ান সাম্রাজ্য ওডেসাতে (বর্তমান ইউক্রেন) ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
 শৈশবে রুশ ভাষা ও সাহিত্যে গভীর আগ্রহ ছিল। ১৮ বছর বয়সে ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে আইন পড়তে যান। সেখানে রুশ সংবাদপত্রের জন্য বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। তার লেখা প্রবন্ধগুলো খুব জনপ্রিয় হয়, এবং তিনি "আলতালেনা"
(Altalena) ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে কিশিনেভ পোগ্রম
(Kishinev Pogrom) তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এরপর তিনি ইহুদীবাদী হিসবে সক্রিয় হন। এবং ইহুদিদের স্ব-প্রতিরক্ষা আন্দোলন শুরু করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি জোসেফ ট্রাম্পেলডর (Joseph Trumpeldor)-এর সাথে মিলে জুইশ লিজিয়ন (Jewish Legion) নামে একটি সংগঠন গড়ে করেন। এটি ছিল মূল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ইহুদি সৈন্যদের একটি ইউনিট ছিল। এঁরা যারা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনে লড়াই করেন।

১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ মূল জায়োনিস্ট সংগঠন
(World Zionist Organization) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তিনি চাইম ওয়াইজম্যান (Chaim Weizmann)-এর নীতির বিরোধিতা করে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট লক্ষ্যের পক্ষে ছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল জর্ডান নদীর দুই পাশে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই অঞ্চলে অবিলম্বে ইহুদি অভিবাসন বাড়ানো এবং ইহুদিদের সশস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

হাতজোহার (Hatzohar): ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইউনিয়ন অফ জায়োনিস্টস-রিভিশনিস্টস গঠন করেন।
বেতার (Betar): ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে যুব আন্দোলন গঠন করেন, যা ইহুদি যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতীয়তাবাদ ও স্ব-প্রতিরক্ষা শেখাত। এটি পরে ইরগুন (Irgun) ও লিকুদ পার্টির ভিত্তি হয়।
ইরগুন (Irgun): তার আদর্শ থেকে উদ্ভূত এই সংগঠন ব্রিটিশ ও আরবদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালায়।

সাহিত্যকর্ম:
রুশ, হিব্রু ও অন্যান্য ভাষায় উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন। তার লেখায় জায়োনিজম, ইহুদি পরিচয় ও রাজনীতি মিশে থাকত। অসাধারণ বক্তা: তার বক্তৃতা হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করত। তিনি ইহুদিদের "আয়রন ওয়াল" (Iron Wall) নীতির প্রবক্তা ছিলেন। তিনি মনে করতেন আরবদের সাথে শান্তি আলোচনার আগে ইহুদিদের শক্তিশালী সামরিক অবস্থান দরকার।

১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ আগস্ট নিউ ইয়র্কের কাছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বেতার যুব শিবির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তার দেহাবশেষ ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ ইসরায়েলে নিয়ে আসা হয় এবং মাউন্ট হার্জেলে সমাহিত করা হয়।
উত্তরাধিকার: তার রিভিশনিস্ট আদর্শ লিকুদ পার্টি (Likud) ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। মেনাহেম বেগিন (প্রাক্তন ইরগুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী) তার অনুসারী ছিলেন। তাকে কেউ "স্বাধীনতা যোদ্ধা" বলে, কেউ বিতর্কিত বা "ফ্যাসিস্ট" বলে অভিহিত করেছে (বিশেষ করে তার আক্রমণাত্মক নীতির জন্য)।
জাবোতিনস্কি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা যিনি ইহুদিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সশস্ত্র প্রতিরোধ ও দ্রুত অভিবাসনের উপর জোর দিয়েছিলেন। তার চিন্তাধারা আজও ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনীতিতে জীবিত।

 
সম্মিলিতভাবে ইস্রায়েল আক্রমণ করেছিল- মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের সেনাবাহিনী আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে ইসরায়েল বিজয়ী হয় এবং ‌এবং ভূমি দখল করে। যুদ্ধে প্রায় ৬০০০ ইস্রায়েল সৈন্য এবং আরবদের ১০ থেকে ১৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়। এই যুদ্ধ শেষে যখন প্রায় ৭৫০,০০০ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে আর্মিস্টিস চুক্তি হয়। হাগানাহকে ভিত্তি করে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) গঠিত হয়।

আরব ইস্রায়েল দ্বিতীয় যুদ্ধ
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল নিয়ে সংকট দ্বিতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) অন্য নাম: সিনাই যুদ্ধ (Sinai War)। সময়: ১৯৫৬ অক্টোবর ২৯ – নভেম্বর। প্রধান পক্ষ: ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স বনাম মিশর। কারণ: মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে। ইসরায়েল সিনাই দখল করে ফেদায়িন আক্রমণ বন্ধ করতে চায়। ঘটনা: ইসরায়েল সিনাইতে আক্রমণ করে দ্রুত অগ্রসর হয়। যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স বোমা হামলা করে। ফলাফল: সামরিকভাবে ইসরায়েল-পশ্চিমা জোটের বিজয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপে (USA ও USSR) সেনা প্রত্যাহার। ইউএন শান্তিরক্ষী বাহিনী (UNEF) সিনাইতে মোতায়েন হয়। হতাহত: ইসরায়েলি ~২০০; মিশরীয় ~৩,০০০।