 |
|
ইস্রায়েলের পতাকা |
ইস্রায়েল
ইংরেজি Israel
হিব্রু ভাষায়: מְדִינַת יִשְׂרָאֵל
আরবি: دَوْلَةْ إِسْرَائِيل
দাউলাত্
ইস্রা'ঈল্)
এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ। এর অবস্থান রাজধানী জেরুজালেম। তবে এর মূল
প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব।
ভৌগোলিক অবস্থান: ৩১°
উত্তর ৩৫° পূর্ব। এর উত্তরে লেবানন; পূর্বে উত্তর-পূর্বে সিরিয়া; পূর্বে জর্দান,
ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত অঞ্চল; পশ্চিমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, ও গাজা উপত্যাকা;
দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর।
আয়তন: ২০,৭৭০-২২, ০৭২ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা: ৮৮,৬৯,০২০ (২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
উল্লেখযোগ্য জাতিগোষ্ঠী: মেস্টিজো ৬৫%, স্থানীয় পানামানিয়ান ১২.৩ %, আফ্রো
পানামানিয়ান ৯.২%।
ভাষা: হিব্রু, আরবি
ধর্ম: ইহুদি ৭৪.৭%, ১৭.৭% মুসলমান, ২.০% খ্রিষ্টান, ১.৬ দ্রুজ এবং
অন্যান্য ৪%
মুদ্রা: নিউ সেকেল।
ইতিহাস
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও বালফোর ঘোষণা:
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি "জাতীয় গৃহ"
(national home)
প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এটি বালফোর ডিক্লারেশন নামে পরিচিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ফিলিস্তিন ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে আসে (১৯২০-১৯৪৮)।
এ সময় ইউরোপ থেকে (বিশেষ করে রাশিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি) ইহুদিরা অভিবাসন শুরু
করেন। ১৯১৯ সালে ইহুদি সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার, কিন্তু ১৯৩৯
খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ প্রায় ৪.৫ লাখে পৌঁছে।
হাগানাহ গঠন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুর্কি অটোম্যান সাম্রাজ্য দুর্বল
হয়ে পড়ে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে
ইহুদি সম্প্রদায় নিজেদের রক্ষার জন্য হাগানাহ (অর্থ: প্রতিরক্ষা) নামে একটি
আধা-সামরিক সংগঠন গঠন করে। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদীরা 'হাগানাহ' নামের এক জঙ্গি বাহিনী তৈরি করে।
এটি প্রথমে আরব আক্রমণ থেকে ইহুদি বসতি রক্ষা করার জন্য গঠিত হয়। পরবর্তীতে
এটি আরও সংগঠিত হয় এবং ১৯৩৬-১৯৩৯ ক্রিষ্টাব্দে আরব বিদ্রোহ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে
ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব
হলেও পরবর্তীকালে তারা আধা-সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয় এবং স্বাধীনতার পরে এই বাহিনী
ইসরায়েলের মূল সামরিক বাহিনী গঠন করে ও বিভিন্ন জঙ্গি তৎপরতায় সাহায্য করে।
এই সূত্রে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৩৫
হাজারে। এরপর ইহুদিরা নিজেদের নতন বাস্থস্থানের স্বপ্ন নিয়ে ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে
বসবাস করতে থেকে। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮০
হাজারে পৌঁছে। আর ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই অঞ্চলে ইহুদির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায়
আড়াই লাখ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্ট: হলোকাস্টে ৬০ লাখ ইহুদি নিহত হওয়ার পর
ইহুদি অভিবাসন বেড়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় নাৎসি জার্মানি ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ইউরোপীয় ইহুদিদের বিরুদ্ধে চালানো সুনির্দিষ্ট, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত গণহত্যা। এটিকে হিব্রু ভাষায় শোয়া
(Shoah)
বলা হয়, যার অর্থ "বিপর্যয়"।
অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি পার্টি ইহুদিদেরকে "নিকৃষ্ট জাতি" মনে করে এবং তাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার পরিকল্পনা করে। এটিকে তারা "ফাইনাল সল্যুশন" নাম দিয়েছিল।
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ থেক এই নির্যাতন শুরু হয়।
১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গণহত্যা কেন্দ্র
চালু হয়। বিশেষ করে আউশভিৎজ, ট্রেব্লিঙ্কা, বেলজেক, সোবিবর, চেলমনো
অঞ্চলে গ্যাস চেম্বারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।
বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণের সময় মোবাইল হত্যাকারী দল দিয়ে গর্তে ফেলে গুলি করে হত্যা
করা হয়।
অনেককে ট্রেনে করে দূরবর্তী ক্যাম্পে পাঠানো হয়, যাতে অনেকেই পথেই মারা যান।
নিহতের সংখ্যা কেন প্রায় ৬০ লাখ (৬ মিলিয়ন)
এই সংখ্যাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে আসে। এটি ঠিক ৬,০০০,০০০ নয়, বরং প্রায় ৫.৭ থেকে ৬.২ মিলিয়ন এর মধ্যে অনুমান করা হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সংখ্যা ৬০
লাখ।
United States Holocaust Memorial Museum (USHMM)
স্পষ্টভাবে বলে যে ৬০ লাখ ইহুদি নিহত হয়েছে।
(ইসরায়েলের অফিসিয়াল হলোকাস্ট স্মৃতি কেন্দ্র) তাদের
তথ্যভাণ্ডারে প্রায় ৪.৫-৫০
লক্ষ নাম সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং তারা প্রায়
৬০ লক্ষ বলে অনুমান করে।
অন্যান্য ইতিহাসবিদদের মতে
Raul Hilberg
(৫০.১ লক্ষ),
Lucy Dawidowicz
(প্রায় ৫০.৯ লক্ষ্য),
Wolfgang Benz
(৫০.৩-৬০.২
লক্ষ)। নুরেমবার্গ বিচারে (১৯৪৫-৪৬) নাৎসি নেতাদের বিচারে এই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়।
যুদ্ধ-পূর্ব ও যুদ্ধ-পরবর্তী জনগণনা তুলনা, নাৎসি নথি (যেমন
Wannsee Conference
প্রোটোকল), বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্য, ক্যাম্পের রেকর্ড, গণকবর খনন ইত্যাদি
তথ্য উৎস হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এই গণহত্যায় ইউরোপের ইহুদি জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বিশ্বের ইহুদি জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে প্রায় ১.৫
লক্ষ্ শিশু ছিল।
অন্যান্য ভুক্তভোগী
হলোকাস্টকে সাধারণত ইহুদি গণহত্যা হিসেবে বোঝানো হয়, কিন্তু নাৎসিরা আরও অনেক গোষ্ঠীকে নির্যাতন করে:
রোমানি (জিপসি) জনগোষ্ঠী: ২-৫ লাখ
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিল প্রায় ৩ লাখ
পোল, সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, সমকামী, রাজনৈতিক বিরোধী ইত্যাদি।
মোট নাৎসি অপরাধে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি, কিন্তু হলোকাস্ট শব্দটি প্রধানত ইহুদিদের গণহত্যাকে বোঝায়।
এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সুসংগঠিত গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত।
জাতিসংঘের
বিভাজন পরিকল্পনা: ১৯৪৭
খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রেজোলিউশন ১৮১ গ্রহণ করে, যাতে ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর একটি ইহুদি রাষ্ট্র (প্রায় ৫৫% ভূমি) এবং একটি আরব রাষ্ট্র (প্রায় ৪৫%), জেরুজালেম আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে। ইহুদি নেতারা এটি মেনে নেয়, কিন্তু আরব পক্ষ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফফিলিস্তিনে ইহুদি সংখ্যা প্রায়
৬ লাখে পৌঁছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইউরোপ থেকে আরো ইহুদী ফিলিস্তিনে আসে। এদের
একটি বিরাট অংশ হাগানাহ-সহ অন্যান্য বাহিনীতে যোগদান করে। এই বছরেই জাতিসংঘের
সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিতকরণ সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব
গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে ৪৫ শতাংশ এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদিবাদীদের
দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইস্রায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ইসরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ১৪ই মে।
ড্যাভিড বেন গুরিয়ন ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ
করেন।
আরব ইস্রায়েল প্রথম যুদ্ধ (১৯৪৮)
ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণে একে বাল হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ।
পক্ষান্তরে ফিলিস্তিনি ও আরবের
দৃষ্টিকোণে একে বলা হবেছ নাকবা
বা বিপর্যয়।
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই মে,
আরব, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন এবং ইরাক একযোগে ইস্রায়েল
আক্রমণ করে। এই আক্রমণের ক্ষেত্রগুলো ছিল-
- আরব: সেনাবাহিনী (এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী) ফিলিস্তিনে (ইসরায়েলের ভূখণ্ডে) আক্রমণ করে প্রবেশ করে।
- মিশর: মিশরীয় সেনাবাহিনী দক্ষিণ থেকে (সিনাই দিয়ে) প্রবেশ করে গাজা ও নেগেভ অঞ্চলে অগ্রসর হয়। প্রথম দিনেই তেল আবিবে বিমান হামলা করে।
এই দিন একটি মিশরীয় বিমান ভূপাতিত হয়।
- সিরিয়া: উত্তর-পূর্ব দিক থেকে (গোলান অঞ্চলের কাছে) আক্রমণ করে। তারা দগানিয়া ও অন্যান্য কিবুৎজে আক্রমণ চালায়।
এই সময় তারা গোলানের নিকটবর্তী একটি গ্রাম দখল করে।
- লেবানন: লেবানিজ সেনাবাহিনী উত্তর থেকে গ্যালিলি অঞ্চলে প্রবেশ করে।
এরা মাত্র ১,০০০ সৈন্য এবং সীমিত শক্তি নিয়ে আক্রমণ করেছিল।
- ইরাক:
কিছু উৎসে বলা হয় যে তাদের এক্সপিডিশনারি ফোর্স কয়েক দিন পরে পুরোপুরি প্রবেশ করে, কিন্তু প্রধান আক্রমণ ১৫ মে শুরু। ইরাকি সেনাবাহিনী জর্ডানের মধ্য দিয়ে পূর্ব দিক থেকে প্রবেশ করে (জেনিন-নাবলুস অঞ্চলে) এবং "ট্রায়াঙ্গল" এলাকা দখল করে।
১৬-১৭ মে আরব অনিয়মিত বাহিনী আক্রমণ করে,
Old City-এর
Jewish Quarter-এর এক-তৃতীয়াংশ দখল করে।
ইস্রায়েলি বাহিনী একাটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
১৮ মে মিশরীয় বিমানবাহিনী তেল আবিবের
Old Central Bus Station-এ বোমা হামলা করে: ৪২ জন নিহত,
শতাধিক মানুষ আহত হয়। এই দিন জর্ডানের আরব লিজিয়ন জেরুজালেমে যোগ দেয়,
Old City-এর লড়াই তীব্র হয়।
১৯ মে মিশরীয় সেনা নেগেভ অঞ্চল ঘিরে ফেলে, দক্ষিণ ফ্রন্টে অগ্রসর হয়। এই দিন ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের প্রধান রাস্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
১৯ মে মিশরীয় বিমান হাইফার কাছে এয়ারবেসে হামলা করে। ভুল করে সে সময়ে সেখানে
অবস্থানরত ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ করেছিল।
২৮ মে আরব বাহিনী জেরুজালেমের Old City-এর Jewish Quarter
দখল করে। এই সময় এই অঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে।
এই দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
এরপর জাতিসংঘের প্রস্তাবে যুদ্ধ বিরতি হয়। প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাব কার্যকরী
হতে ১১জুন পর্যন্ত গড়ায়।
এই সময় বিভিন্ন ফ্রন্টে ছোটখাটো লড়াই চলে। যেমন-
- সিরিয়ান আক্রমণ
Jordan Valley-এ
-এর কাছে), মিশরীয় অগ্রগতি দক্ষিণে।
ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিরোধ করে, কিন্তু অস্ত্রের অভাবে চাপে পড়ে। এ সময় ইসরায়েল অস্ত্র আমদানি শুরু করে
- ১ জুন নাগাদ আরব সেনা কিছু অঞ্চল দখল করে, কিন্তু ইসরায়েল মূল শহরগুলো (তেল আবিব, হাইফা) রক্ষা করে।
এই ১৭ দিনে আরব আক্রমণ তীব্র ছিল, বিশেষ করে জেরুজালেম ও দক্ষিণে। ইসরায়েল প্রতিরোধ করে অস্ত্র সংগ্রহ করে, কিন্তু
Old City হারায়। যুদ্ধবিরতি ১১ জুন থেকে শুরু হয়, যা ইসরায়েলকে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ
করে দিয়েছিল। এই সময়ে ইস্রায়েল চেকোস্লোভাকিয়া থেকে
Avia S-199 যুদ্ধবিমান, রাইফেল, মেশিনগান ইত্যাদি
ক্রয় করে। এরা সেনাবহিনীকে সুসংহত করে এবং নতুন ইহুদি অভিবাসী ও স্বেচ্ছাসেবক যোগ দেয়। ফলে এদের সেনা সংখ্যা বৃদ্ধ পায়।
এই সময় আরব সেনাবাহিনী তাদের সামারিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হয়।
ইরগুন
Irgun Zvai Leumi (National
Military Organization in the Land of Israel)
১৯৩১
খ্রিষ্টাব্দে প্রধান ইহুদী প্রতিরক্ষা বাহিনী হাগানাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত
হয়েছিল। মূলত এর ছিল- অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বাহিনী। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইনে
এরা সক্রিয় একটি প্যারামিলিটারি গ্রুপ
হিসেবে সক্রিয় ছিল।
জেভ জাবোতিনস্কি
(Ze'ev Jabotinsky)।
প্রকৃত নাম ভ্লাদিমির য়েভগেনিয়েভিচ ঝাবোতিনস্কি (Vladimir Yevgenyevich Zhabotinsky)।
বিখ্যাত ইহুদি নেতা, লেখক, কবি, সাংবাদিক, বক্তা, সৈনিক। তিনি রিভিশনিস্ট জায়োনিজম (Revisionist Zionism)-এর প্রতিষ্ঠাতা
ছিলেন। তিনি আধুনিক ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ অক্টোবর রাশিয়ান সাম্রাজ্য ওডেসাতে (বর্তমান ইউক্রেন) ইহুদি পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশবে রুশ ভাষা ও সাহিত্যে গভীর আগ্রহ ছিল।
১৮ বছর বয়সে ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে আইন পড়তে যান। সেখানে রুশ সংবাদপত্রের জন্য বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। তার লেখা প্রবন্ধগুলো খুব জনপ্রিয় হয়, এবং তিনি "আলতালেনা"
(Altalena) ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে কিশিনেভ পোগ্রম (Kishinev Pogrom) তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এরপর তিনি
ইহুদীবাদী হিসবে সক্রিয় হন। এবং ইহুদিদের স্ব-প্রতিরক্ষা আন্দোলন শুরু করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি জোসেফ ট্রাম্পেলডর (Joseph Trumpeldor)-এর সাথে মিলে জুইশ লিজিয়ন (Jewish Legion)
নামে একটি সংগঠন গড়ে করেন। এটি ছিল মূল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ইহুদি সৈন্যদের একটি ইউনিট ছিল।
এঁরা যারা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনে লড়াই করেন।
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ মূল জায়োনিস্ট সংগঠন
(World Zionist Organization) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
তিনি চাইম ওয়াইজম্যান (Chaim Weizmann)-এর নীতির বিরোধিতা করে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট লক্ষ্যের পক্ষে ছিলেন।
তাঁর লক্ষ্য ছিল জর্ডান নদীর দুই পাশে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই অঞ্চলে অবিলম্বে ইহুদি অভিবাসন বাড়ানো এবং ইহুদিদের সশস্ত্র প্রতিরক্ষা
ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
হাতজোহার (Hatzohar): ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইউনিয়ন অফ জায়োনিস্টস-রিভিশনিস্টস গঠন করেন।
বেতার (Betar): ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে যুব আন্দোলন গঠন করেন, যা ইহুদি যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতীয়তাবাদ ও স্ব-প্রতিরক্ষা শেখাত। এটি পরে ইরগুন (Irgun) ও লিকুদ পার্টির ভিত্তি হয়।
ইরগুন (Irgun): তার আদর্শ থেকে উদ্ভূত এই সংগঠন ব্রিটিশ ও আরবদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালায়।
সাহিত্যকর্ম:
রুশ, হিব্রু ও অন্যান্য ভাষায় উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন। তার লেখায় জায়োনিজম, ইহুদি পরিচয় ও রাজনীতি মিশে থাকত।
অসাধারণ বক্তা: তার বক্তৃতা হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করত।
তিনি ইহুদিদের "আয়রন ওয়াল" (Iron Wall) নীতির প্রবক্তা ছিলেন। তিনি মনে করতেন আরবদের সাথে শান্তি আলোচনার আগে ইহুদিদের শক্তিশালী সামরিক অবস্থান দরকার।
১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ আগস্ট নিউ ইয়র্কের কাছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বেতার যুব শিবির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
তার দেহাবশেষ ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ ইসরায়েলে নিয়ে আসা হয় এবং মাউন্ট হার্জেলে সমাহিত করা হয়।
উত্তরাধিকার: তার রিভিশনিস্ট আদর্শ লিকুদ পার্টি (Likud) ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। মেনাহেম বেগিন (প্রাক্তন ইরগুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী) তার অনুসারী ছিলেন। তাকে কেউ "স্বাধীনতা যোদ্ধা" বলে, কেউ বিতর্কিত বা "ফ্যাসিস্ট" বলে অভিহিত করেছে (বিশেষ করে তার আক্রমণাত্মক নীতির জন্য)।
জাবোতিনস্কি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা যিনি ইহুদিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সশস্ত্র প্রতিরোধ ও দ্রুত অভিবাসনের উপর জোর দিয়েছিলেন। তার চিন্তাধারা আজও ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনীতিতে জীবিত।
সম্মিলিতভাবে ইস্রায়েল আক্রমণ করেছিল- মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের সেনাবাহিনী আক্রমণ করে।
এই যুদ্ধে ইস্রায়েল বিজয়ী হয় এবং
এবং ভূমি দখল করে। যুদ্ধে প্রায় ৬০০০ ইস্রায়েল সৈন্য এবং
আরবদের ১০ থেকে ১৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়। এই যুদ্ধ শেষে যখন প্রায় ৭৫০,০০০ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়। যুদ্ধ
শেষে ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে আর্মিস্টিস চুক্তি হয়।
হাগানাহকে ভিত্তি করে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস
(IDF) গঠিত হয়।
আরব ইস্রায়েল দ্বিতীয় যুদ্ধ
১৯৫৬
খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল নিয়ে সংকট দ্বিতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ)
অন্য নাম: সিনাই যুদ্ধ (Sinai War)।
সময়: ১৯৫৬ অক্টোবর ২৯ – নভেম্বর।
প্রধান পক্ষ: ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স বনাম মিশর।
কারণ: মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে। ইসরায়েল সিনাই দখল করে ফেদায়িন আক্রমণ বন্ধ করতে চায়।
ঘটনা: ইসরায়েল সিনাইতে আক্রমণ করে দ্রুত অগ্রসর হয়। যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স বোমা হামলা করে।
ফলাফল: সামরিকভাবে ইসরায়েল-পশ্চিমা জোটের বিজয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপে (USA ও USSR) সেনা প্রত্যাহার। ইউএন শান্তিরক্ষী বাহিনী (UNEF) সিনাইতে মোতায়েন হয়।
হতাহত: ইসরায়েলি ~২০০; মিশরীয় ~৩,০০০।