ইরাবতী নদী
Irrawaddy

১. মিয়ানমারের প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটিকে মিয়ানমারের 'জীবনরেখা' বলা হয়, কারণ দেশটির অর্থনীতি, কৃষি এবং পরিবহন ব্যবস্থা এই নদীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ইরাবতী নামের কয়েকটি সূত্র উল্লেখ করা হয়। যেমন-
প্রতীকী গুরুত্ব মিয়ানমারের সংস্কৃতিতে ইরাবতী কেবল একটি নদী নয়, এটি একটি দৈব সত্তা। মিয়ানমারের মানুষ বিশ্বাস করে যে, এই নদী তাদের দেশের সমৃদ্ধি ও পবিত্রতার প্রতীক। ধান্যবতী বা বৈশালী (উজালী) নগরীর মতো প্রাচীন সভ্যতাগুলো এই নদীর অববাহিকার উর্বরতা থেকেই পুষ্টি লাভ করেছিল।

উত্তর মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে এন'মাই এবং মালি নামক দুটি নদীর মিলনে ইরাবতী নদীর সৃষ্টি। এই নদী দুটির উৎস হিমালয় পর্বতমালার দক্ষিণ হিমবাহে। এটি প্রায় ২,১৭০ কিলোমিটার (১,৩৫০ মাইল) দীর্ঘ। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে এটি মিয়ানমারকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এবং শেষ পর্যন্ত আন্দামান সাগরে পতিত হয়েছে।

ইরাবতী নদী মোহনার কাছে এসে অসংখ্য শাখায় বিভক্ত হয়ে একটি বিশাল বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে। এই বদ্বীপ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। একে মিয়ানমারের 'ভাতের ঝুড়ি' বলা হয়।  

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ইতিহাস: ভূতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইরাবতী নদী সবসময় আজকের মতো এক পথে চলেনি। এর গতিপথ পরিবর্তনের ইতিহাস বেশ নাটকীয়। যেমন- ইরাবতীর কারণে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবসমূহ অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য পরিবহন: < ২. প্রাচীন ভারতে 'ইরাবতী' নামে একটি নদী ছিল। বর্তমান পাঞ্জাব অঞ্চলের রাভি নদী প্রাচীনকালে বৈদিক যুগে 'ইরাবতী' বা 'পুরুষ্ণী' নামে পরিচিত ছিল।