মিয়ানমারের পতাকা

মিয়ানমার

ইংরেজি: Myanmar

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ। প্রাচীন নাম ব্রহ্মদেশ। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় 'Republic of the Union of Myanmar', বাংলায় মিয়ানমার প্রজাতন্ত্র। সংক্ষেপে মিয়ানমার। রাজধানীর নাম ইয়াঙ্গুন। আগে নাম ছিল রেঙ্গুন।

এর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল, পশ্চিমে বাংলাদেশ
ভারত, উত্তরে চীন, পূর্বে চীন, লাওস ও থাইল্যান্ড।  দেশটির সীমানার উত্তর-পূর্বাংশের ২,১৮৫ কিলোমিটার জুড়ে আছে তিব্বত এবং চীনের ইউনান প্রদেশ। দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে লাওস ও থাইল্যান্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সাথে মায়ানমারের ১,৯৩০ কিলোমিটার উপকূল রেখা রয়েছে।

মিয়ানমারের মোট আয়তন ৬৭৬,৫৭৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তর-দক্ষিণে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০৮৫ কিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে এর সর্বোচ্চ বিস্তার প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার। উপকূলীয় এলাকাটি নিম্ন মিয়ানমার এবং অভ্যন্তরীণ অংশটি ঊর্ধ্ব মিয়ানমার নামে পরিচিত।

 

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের জনগণনা অনুসারে, মিয়ামনমারের লোক সংখ্যা ৫,১৪,১৯,৪২০। মহাজাতির বিচারে অধিকাংশই মোঙ্গলীয় মহাজাতি'র মানুষ  
 

মিয়ানমারের সরকারী ভাষা বর্মী। উল্লেখ্য বর্মী ভাষাতে মিয়ানমারের প্রায় ৬০% লোক কথা বলেন। এছাড়াও মিয়ানমারে স্থানীয় আরও প্রায় ১০০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে কারেন ভাষা,  শান ভাষায় উল্লেখযোগ্য মানুষ কথা বলে। অপেক্ষাকৃত সংখ্যালঘু ভাষাগুলির মধ্যে আরাকান ভাষা, চীন ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, জিংপো ভাষা, লু ভাষা এবং পারাউক ভাষা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

মিয়ানমার পর্বতমালা আরাকান ইয়োমা পর্বতমালাটি মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে একটি প্রাচীরের সৃষ্টি করেছে। এর পর্বতগুলির উচ্চতা প্রধানত ৯১৫ মিটার থেকে ১,৫২৫ মিটার পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে শান মালভূমি থেকে বিলাউকতাউং পর্বতশ্রেণীটি প্রসারিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব নিম্ন মিয়ানমার এবং দক্ষিণ-পশ্চিম থাইল্যান্ডের সীমান্ত বরাবর চলে গেছে। শান মালভূমিটি
চীন থেকে প্রসারিত হয়েছে এবং এর গড় উচ্চতা প্রায় ১,২১৫ মিটার।
 

উত্তরের পর্বতগুলির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হকাকাবো রাজি-র উচ্চতা ৫,৮৮১ মিটার। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আরও দুইটি পর্বতমালা উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। মিয়ানমারের অভ্যন্তরভাগে কেন্দ্রীয় নিম্নভূমিগুলি মূলত সরু ও দীর্ঘ। এগুলি ইরাবতী-সিত্তাং নদীর ব-দ্বীপ এলাকায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই ব-দ্বীপীয় সমভূমিগুলি অত্যন্ত উর্বর এবং দেশের সবচেয়ে অর্থনৈতিক গুরুত্ববিশিষ্ট অঞ্চল। এদের মোট আয়তন প্রায় ৪৭,০০০ বর্গকিলোমিটার। মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমের আরাকান উপকূল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের তেনাসসেরিম উপকূল উভয়েই শিলাময় এবং এগুলির কাছে অনেক দ্বীপ অবস্থিত।

 

মিয়ানমারের অধিকাংশই কর্কটক্রান্তি ও বিষুবরেখার মাঝে অবস্থিত। ব-দ্বীপ অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ২,৫০০ মিলিমিটার (৯৮ ইঞ্চি), তবে মধ্য মিয়ানমারের শুষ্ক এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,০০০ মিলিমিটারের কম। উত্তরের অপেক্ষাকৃত শীতল এলাকায় গড় তাপমাত্রা ২১ °সেলসিয়াস। উপকূলীয় ও ব-দ্বীপ এলাকায় গড় তাপমাত্রা ৩২ °সেলসিয়াস।

মিয়ানমারের মূল্যবান সেগুন ও বিষুবীয় গাছপালায় ভরা বন মায়ানমারের শতকরা ৪৯ ভাগের বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে। অন্যান্য গাছের মধ্যে রাবার, বাবলা, বাঁশ, ম্যানগ্রোভ, নারিকেল উল্লেখযোগ্য। উত্তরাঞ্চলে ওক, পাইন ইত্যাদি রয়েছে বিপুল পরিমাণে। বন্য জীবজন্তুর মধ্যে রয়েছে
বাঘ, বুনো মহিষ, বন্য বরাহ, হাতি, হরিণ, উল্লুক, বানর, শেয়াল, পাওয়া যায়। আটশ'রও বেশি প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। এর ভিতরে রয়েছেসবুজ টিয়া, পাতি ময়না, ঘুঘু, মাছরাঙা, শকুন, বাবুই, বক, লক্ষ্মীপেঁচা, কোকিল প্রভৃতি। সরীসৃপের মাঝে রয়েছে কুমির, টিকটিকি, কচ্ছপ, অজগর, গোখরা প্রভৃতি। স্বাদু পানির মাছ পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণে, যা এখানকার খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

মিয়ামমারের মনুষ্য বসতি
জাতি সত্তার বিচারে মিয়ানমারের মনুষ্য গোষ্টীকে প্রধানত ২টি ভাগে ভাগ করা হয়। চীন থেকে আগত মোঙ্গলীয় জাতিসত্তা এবং ভারত থেকে আগত নেগ্রিটো, ভারতীয় আর্য ও আরব থেকে আগত সেমেটিকদের দ্বারা মিশ্র জাতি সত্তা।

প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা অনুসারে জানা যায়, প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে হোমো ইরেক্টাসরা মিয়ানমার অঞ্চলে বসতি গড়ে তুলেছিল।
আর বসতি স্থাপন করেছিল ১১ হাজার খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে মনুষ্য জাতি তথা হোমো স্যাপিয়েন্সরা মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে ইরাবতী নদীর তীরে। মিয়ানমারের এই প্রাচীন সভ্যতাটিকে 'এ্যানিয়াথিয়ান সভ্যতা' নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এদের দ্বারাই মিয়ানমারে প্রাচীন প্রস্তর সভ্যতার পত্তন ঘটিয়েছিল। এরা নির্বাচিত কিছু উদ্ভিদকে চাষ এবং পরিচর্যা করতে শিখেছিল। একই সাথে বন্য পশুদের কিছু কিছু প্রজাতিকে গৃহপালিত পশুতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল। এরা গৃহস্থালীর কাজে এবং শিকারের জন্য পাথরের অস্ত্র তৈরি করাও শিখেছিল।

খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০০ থেকে ৬০০০ হাজার অব্দের ভিতরে প্রাগৈতিহাসিক মানুষ মিয়ানমারের শান প্রদেশের শান পর্বতের পাদদেশে প্রাচীন প্রস্তর সভ্যতার মানুষ, নব্য প্রস্তর যুগের সূচনা করেছিল। এই অঞ্চলের পাদাহ লিন গুহা থেকে এদের তৈরি পাথুরে কুঠার-সহ নানাবিধ গৃহস্থালী সরঞ্জামের প্রায় ১৬০০ নমুনা পাওয়া গেছে। এই গুহায় পাওয়া গেছে বেশ কিছু 'গুহাচিত্র'। এই গুহাচিত্রে পাওয়া গেছে প্রাণীর ছবি।

খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০-১০০০ অব্দের ভিতরে এই অঞ্চলের মানুষ তামা এবং টিনের সংমিশ্রণে ব্রোঞ্জ তৈরি করা শিখেছিল। এই সূত্রে মিয়ানমারে ব্রোঞ্জ সভ্যতার সৃষ্টি হয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দের ভিতরে এই অঞ্চলের মানুষ লোহার ব্যবহার শিখেছিল। এই সময়ে এরা জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষির উপযোগী ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এসব ক্ষেতের বেশিরভাগ ফসল ছিল ধান। এছাড়া বনজ উদ্ভিদ থেকে নানা ধরনের শাক-সব্জি নির্বাচন করতেও পেরেছিল। এই সময়ে এরা মুরগি, কুকুর, শুকরকে গৃহপালিত পশুতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল। এদের এই সভ্যতা ইরাবতী নদীর মধ্যাঞ্চলীয় তীরবর্তী অঞ্চল থেকে মান্দালয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

চীনা দেশীয় মানুষের আগমন
খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দের দিকে প্রাগ্ সিনো-তিব্বতীয় ভাষা পরিবারের মানুষ চীন এবং অন্যান্য দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অঞ্চলভেদে এই আদি ভাষা থেকে নানা ধরনের ভাষার উদ্ভব ঘটে। এদের একটি দল মূল চীন ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতো। চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেই সূত্রে সৃষ্ট অরাজকতার কারণে, খ্রিষ্টপূর্ব ২১০ অব্দের এই অঞ্চল থেকে বহু মানুষ মিয়ানমার ও তিব্বতের দিকে চলে আসে। তিব্বতের দিকে চলে আসা জনস্রোত হিমালয়ের উচ্চভূমিতে বসতি স্থাপন করে। অন্যদিকে এদের অপর দল মেকং নদী, মিয়ানমারের ইরাবতী নদী তীরগুলোতে বসতি স্থাপন করে।  

এদের একটি দল খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে চীন-মায়ানমার সীমান্তের শান অঞ্চলে (বর্তমানে শান মিয়ানমারের একটি প্রদেশ) এসে বসতি স্থাপন করেছিল। শান অঞ্চলের আদিবাসীরা এই নবাগতদের খুব ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে নি। কিন্তু সংখ্যাধিক্যের কারণে এদেরকে উৎখাতও করতে পারে নি। শান অঞ্চলে এরা প্রায় ৩০০ বৎসর বসবাস করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দের দিকে তিব্বত-বর্মীয় ভাষাগোষ্ঠীর পিউ জাতি বর্তমান চীনের কিংঘাই হ্রদ তীরবর্তী অঞ্চল থেকে মিয়ানমারের প্রবেশ করে এবং এরা ইরাবতী থেকে বর্তমান য়ূন্নান পর্ন্ত বসতি গড়ে তোলে। এরা এই অঞ্চলে পাথুরে দেয়াল ঘেরা নগর সভ্যতার পত্তন ঘটায়। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার সূত্রে প্রায় ১২টি এরূপ নগরীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

প্রথম কোন জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে প্রথম বসতি স্থাপন করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩২৫ অব্দের দিকে রাকান রাজ্যের  কালাদান এবং চায়ুং নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি স্বাধীন রাজ্য। এরা ছিল মূলত নেগ্রিটো জাতি সত্তার মানুষ। এদের রাজধানীর নাম ছিল ধান্যবতী।  পরবর্তী সময়ে এটি হয়ে উঠেছিল পূর্বের পিয়ু, চীন এবং মোনস রাজ্য এবং পশ্চিমের বঙ্গদেশ, উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং পারশ্যের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্য নগরী।

খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে চীন থেকে আগততিব্বত-বর্মীয় ভাষা-উপ-পরিবারের একটি শাখা ভারতের মণিপুর এবং মায়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী কাবাও উপত্যাকায় চলে আসে এবং সেখানে বসতি স্থাপন করে। এই সময় মিয়ানমারের আদিবাসী হিসেবে বিবেচিত বার্মিজদের সাথে সম্প্রীতি গড়ে উঠে এবং উভয় জাতির ভাষা এবং সংস্কৃতি উভয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এরপর এদের একটি শাখা মিয়ানমারের স্যাগায়িং প্রদেশের খ্যাম্পাট অঞ্চলে প্রবেশ করে। খ্রিষ্টীয় ১৪শ শতকের মধ্যভাগে এরা মিয়ানমারের চীন প্রদেশের চীনা পাহাড়ের ভারত সীমান্ত বরাবর বসতি স্থাপন করে।

চীন ও ভারত থেকে আগত জনগোষ্ঠীর মানুষের বসতি স্থাপনের ভিতর দিয়ে ভিন্নতর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল আরাকান এবং অবশিষ্ট বার্মা অঞ্চলে।

আরাকান অঞ্চলে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ধান্যবতী থেকে রাজধানী উজালী নগরে স্থানান্তরিত হয়। এরপর এই রাজ্যের শাসন চলে যায় হরিকেলের চন্দ্রবংশীয় শাসকদের হাতে। খ্রিষ্টীয় দশম-একাদশ শতাব্দীতে বঙ্গের চন্দ্রবংশীয় শাসকদের লেখাসমূহ থেকে
, তাদের আদি বাসভূমি হরিকেল সীমার মধ্যে ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। সে সময়ে এই রাজ্যটি সামন্ততান্ত্রিক অবস্থা থেকে রাজ্যের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছিল। এ বিষয়ে শ্রীচন্দ্রের বেশ কিছু ফলক থেকে জানা যায়, চন্দ্রবংশের প্রথম শাসক ত্রৈলোক্যচন্দ্র কার্যত এবং আইনত উভয় প্রকারেই হরিকেলের রাজা ছিলেন। ত্রৈলোক্যচন্দ্র তাঁর পিতার কাছ থেকে হরিকেল রাজ্যের একজন সামন্তের মর্যাদা লাভ করেন এবং তিনিই শক্তি সঞ্চয় করে হরিকেল রাজার প্রধান সহায়ক শক্তিতে পরিণত হন। পরবর্তী সময়ে সে অবস্থা থেকে তিনি একজন সার্বভৌম রাজা হন। ধারণা করা হয়, আরাকান সীমান্তবর্তী চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ রাজ্য অবস্থিত ছিল।

আরাকান অঞ্চলের মানুষ
ভারতবর্ষের সাথে বাণিজ্যের সূত্রে ভারতীয় সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। বৌদ্ধ ধর্ম ও রাজনৈতিক বিন্যাস প্রকৃতি পূর্ব-ভারত থেকে বার্মার সংস্কৃতিকে মিশ্র সংস্কৃতিতে পরিণত করেছিল। এই সময় মিয়ানমারের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে মন-রাজ্য গড়ে উঠে। আর মায়নমারের পশ্চিমাঞ্চলে আরাকান সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটে।

খ্রিষ্টীয় ৯০০ অব্দের ভিতরে, পিউ (Pyu) জাতির মানুষ মধ্য বার্মার শুষ্কাঞ্চলে নগর সভ্যতার সূত্রপাত ঘটায়। ৮৫০ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টব্দের মধ্য  নানঝও রাজ্য (Kingdom of Nanzhao) পিউদের রাজ্য আক্রমণ করে। এরপর নানঝাও-এর মার্মা জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা প্যাগান অঞ্চলে একটি বসতি গড়ে তোলে। কালক্রমে এরা কয়েকটি শক্তিশালী নগর রাষ্ট্রের পত্তন ঘটায়। পরে এরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্যাগান সাম্রাজ্যের সৃষ্টি করে। ১০৫০-৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এরা ইরাবতী নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষকে এই সাম্রাজ্যের অধীনে আনতে সমর্থ হয়। এই সময় খমের নামক অপর একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠে মিয়ানমারের অপর অংশে। মূলত দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত তৎকালীন মিয়ানমার এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চল জুড়ে এই দুই রাজ্যের আধিপত্য বজায় ছিল। এই সময় বার্মিজ ভাষা এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে ইরাবাতী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। ভারতীয়দের সাথে বাণিজ্যের কারণে এদের ভিতর ভারতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্ম ব্যাপকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে প্যাগান রাজা এবং ধনী ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় ১০,০০০ বৌদ্ধ মন্দির নির্মিত হয়।

দ্বাদশ শতাব্দীর দিকে প্যাগন রাজ্যের ভাঙন শুরু হয় রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের কারণে। চীন থেকে মোঙ্গোলদের আক্রমণে এই ভাঙনকে আরও ত্বারান্বিত করেছিল। এই শান নামক একটি রাষ্ট্র ইরাবতী নদীর উত্তরপূর্ব এবং পূর্বাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়। চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত শানদের এই আধিপত্য বজায় ছিল। এই সময় শান রাজ্যগুলোর ভিতরে আভা এবং হাথাবতী রাজ্য বৃহত্তর আকার ধারণ করে। ফলে আরাকান রাজ্য এদের অধীনস্থই ছিল। ১৩৮৫-১৪২৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ভেঙেপড়া আভারাজ্য একত্রীভূত হওয়ার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়। এই সুযোগে ১৪৩৭ খ্রিষ্টাব্দে আরাকান রাজ্য শক্তিশালী হয়ে উঠে। ১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে শান সমন্বিত রাজশক্তি ঊর্ধ্ব বার্মায় আধিপত্য বিস্তার করে এবং ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এরা এই আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

১৫৪১ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তাউঙ্গ-এর তরুণ রাজা তাবিন্‌শবেহতি হান্থবেদী রাজ্য দখল করে। পরে শান রাজ্যের অনেকাংশই দখল করে নেয়। এরপর এরা একটি বিশাল রাজ্যের অধিপতিতে পরিণত হয়। ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে এই রাজ্য ভেঙে পরে যোগ্য শাসকের অভাবে। ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দের দিকে সিয়াম নাম রাজা রাজ্যের একটি অংশ দখল করে, অপর অংশে পোর্তুগিজ বণিকরা নিজেদের শাসন কায়েম করে এই রাজ্যের একাংশে। পরে এই বংশের রাজপুরুষরা বিভক্ত রাজ্যগুলোকে একত্রীত করে শক্তিশালী হয়ে উঠে, ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে পোর্তুগিজদের পরাজিত করে এবং ১৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে সিয়ামদের পরাজিত করে। এরপর এরা একটি ছোটো কিন্তু শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলে। এই সময় উত্তরাধিকার পদ্ধতির রাজা নির্বাচনের পরিবর্তে যোগ্য রাজা নির্বাচনের ব্যবস্থা হয়। ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এরা মণিপুর রাজ্যে আক্রমণ চালায়। ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে হান্থবতী রাজ্য পুনরায় গঠিত হয় নিম্ন বার্মা অঞ্চলে। ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে দুর্বল আভা রাজ্য দখল করে। এর পর কোনবাউঙ রাজবংশের আলাউংপাইয়া হান্থবেদী রাজ্য দখল করে এবং ১৭৫৯ খ্রিষ্টাব্দের এরা বার্মা এবং মণিপুরসহ বিশাল অঞ্চল দখল করে নিতে সক্ষম হয়। এই সময় বিদেশী শক্তি হিসেবে অবস্থানরত ফরাসি এবং ব্রিটিশদের বিতারিত করে। এই সময় এরা বার্মা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এরা লাওস দখল করে। ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে সিয়াম রাজ্যকে পরাজিত করে। এছাড়া ১৭৬৫ থেকে ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চীনাদের চারটি আক্রমণ প্রতিহত করে। সিয়াম রাজ্য ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে তার রাজ্য পুনরুদ্ধার করে। এরপর বার্মা এবং সিয়াম যুদ্ধ চলে ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এরপর এরা শান্তিচুক্তি করে। এরপর সিয়ামদেরকে চীনাদের মুখোমুখী হওয়া থেকে বিরত থেকে, এরা ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দে আরাকান দখল করে। এরপর ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে দখল করে মণিপুরী এবং ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে আসাম দখল করে।

এরপর ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজদের সাথে বার্মার যুদ্ধ হয়। ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলে। এই সময় এরা আরাকান, মণিপুর, আসাম ব্রিটিশদের হাতে ছেড়ে দেয়। ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ বাহিনী নিম্ন বার্মা দখল করে। ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে বার্মার সাথে ব্রিটিশদের তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ হয়। এই সময় বার্মার কারেন  গোষ্ঠীকে সহায়তা করার মাধ্যমে ব্রিটিশরা বার্মার শক্তিকে বিভাজিত করে। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি ব্রিটিশরা মান্দালয় দখলের মাধ্যমে, সম্পূর্ণ বার্মাকে তাদের অধীনে আনে।

১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সব খ্রিষ্টান কারেনরা  Karen National Associations (KNA) নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলে। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ বার্মা উপনিবেশে প্রথম কারেন নববর্ষকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মায়ানমার দখল করে নেয়। এই সময় কারেনরা ব্রিটিশদের সমর্ধন করেছিল। এই কারণে এরা জাপানিদের আক্রমণের শিকার হয়। এই সময় কারেন ও বার্মাজদের মধ্যে জাতিগত সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। ফলে জাপানিদের পাশাপাশি বার্মার স্বাধীনতাকামী দল Burma Independence Army (BIA) বহু কারেনকে হত্যা করে এবং তাদের বহু গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। এই সময় প্রাকযুদ্ধ ক্যাবিনেট মন্ত্রী স পে থা (Saw Pe Tha) এবং তাঁর পরিবার এই আক্রমণের শিকার হয়। এরপর জাপনি সমরনায়ক কর্নেল সুজুকি কেইজি এবং কারেন নেতা সাও থা ডিন-এর মধ্যে এই অত্যাচর বন্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

যুদ্ধের শেষে কারেন সংখ্যা গরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠনের জন্য, কারেন নেতারা উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে কারেন নেতা সাও থা ডিন এবং সাও বা উ গাই লণ্ডনে যান। কিন্তু ব্রিটিশরা কারেনদের দাবী অগ্রাহ্য করে। তবে বিশ্বযুদ্ধের শেষে ব্রিটিশরা কারেনদের বিষয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের শেষে যখন ব্রিটিশরা বার্মা ছেড়ে চলে যায়, তখন ব্রিটিশরা কারেনদের স্বপক্ষে কিছু করে যায় নি।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে জানুয়ারিতে বার্মার স্বাধীনতার বিষয়ে লণ্ডনে সভা হয়। পরবর্তী সময়ে প্যাংলোং-এ যখন বার্মা সরকার প্রধান হিসাবে অং সান এবং শান, কচিন ও চিন প্রদেশের নেতাদের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন কারেনদের অধিকারের দাবীকে প্রায় অগ্রাহ্য করা হয়। এই সময় কারেন নেতারা শুধু পর্যবেক্ষক হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য এই সময় মোন এবং আরাকানদের কোন প্রতিনিধিই সেখানে ছিল না।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে Karen National Union (KNU) প্রতিষ্ঠত হয়। এই সময় কারেন ব্যাপ্টিষ্ট এবং বৌদ্ধ সংগঠন, কারেন কেন্দ্রীয় সংগঠন (Karen Central Organisation (KCO)), কারেন যুব সংগঠন (Karen Youth Organisation (KYO)) থেকে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি নিয়ে কারেন কংগ্রেসের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল রেঙ্গুনের ভিন্টোন মেমোরিয়াল হলে। এই সভা আহুত হয়েছিল মূলত একটি পৃথক কারেন রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য। এর সাথে অন্যান্য বিষয় ছিল বার্মা জাতীয় সংসদে কারেনদের আসন সংখ্যা ২৫% বৃদ্ধ করা, নতুন করে ভাষাগত জাতীয়তা ভিত্তিক লোক গণনা এবং বার্মা সেনাবাহিনীতে নিয়মিত ভাবে কারেন গোষ্ঠী লোক অন্তর্ভুক্ত করা। এই সকল দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করলে, ব্রিটিশ সরকার তিন মাস কোনোই উত্তর দেয় নি। এরপর KNU -এর প্রেসিডেন্ট  সাও বা য়ু গভর্নর এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল থেকে  পদত্যাগ করেন।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বার্মা আইনসভার নির্বাচনে  Anti-Fascist People's Freedom League (AFPL) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই সময় এই দলের সামরিক নেতা অং সান মায়ানমারের অস্থায়ী সরকারের প্রধান ছিলেন। এই দলের মাধ্যমেই তিনি মায়ানমারের পূর্ণ স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৪৭ সালের ১৯শে জুলাই বার্মার স্বাধীনতা-চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ছয় মাস আগে আততায়ীর গুলিতে অং সান ও তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীসহ নিহত হন। এরপর এই দলের নেতৃত্বে আসেন য়ু নু (U Nu। এই বৎসরের জুলাই মাসেই তৈরি হয়েছিল Karen National Defence Organisation (KNDO)

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে বার্মার স্বাধীনতা বিষয়ক একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে য়ু নু-এর সাথে ব্রিটিশ প্রধনমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এ্যাটেল স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিটি
Nu-Attlee Treaty নামে পরিচিত।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি মাসে বার্মা ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করে এবং য়ু নু বার্মার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু এই বৎসরের শেষের দিকে বার্মার সেনাবাহিনীর ভিতর বিভাজন শুরু হয়। এই সময় প্রধান দুই সেনা নায়ক নে উইন (Ne Win) এবং বো যেয়া ( Bo Zeya) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন। প্রধানমন্ত্রী য়ু নু বার্মার সেনাবাহিনীর সেকেন্ড-ইন কমান্ডের দায়িত্ব অর্পণ করেন নে উইন-কে।

এরপর বার্মা সেনাবাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি তারিখে, নে উইননের নেতৃত্বে  Sitwundan (Socialist militia battalions) নামে একটি সেনাদল গঠিত হয়। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর (Tatmadaw) চিফ অফ স্টাফ -এর দায়িত্বরত কারেন সেনাপতি জেনারেল স্মিথ ডুন (General Smith Dun)-কে অপসারণ ও বন্দী করা হয়। নতুন চিফ অফ স্টাফ -এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন নে উইন। এই সময় কারেন সৈন্য ও সাধারণ মানুষদের উপর বার্মিজ সেনারা বিমাতাসূলভ আচরণ শুরু করে। ফলে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে গঠিত কারেনদের প্রতিরক্ষামূলক সংগঠন KNDO উজ্জীবিত হয়ে উঠে। কারেন রাইফেল, মিলিটারি পুলিশ ইউনিয়ন এবং KNDO সম্মিলিতভাবে বার্মার কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এই যুদ্ধে এই সম্মিলিত বাহিনী দ্রুত রেঙ্গুনের নয় মাইলের ভিতরে চলে আসে। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসের শেষ নাগাদ ১১২ দিন তাদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে রাখতে সক্ষম হয়। পরে এই বাহিনী এই অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হয়। এরপর সামরিক রসদ এবং খাদ্য সরবরাহ না থাকায়, তারা দক্ষিণ-পূর্ব বার্মায় সরে আসে।

এরপর রেঙ্গুনের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। বর্তমানে এদের এই সম্মিলিত বাহিনীটি Karen National Liberation Army (KNLA) নামে পরিচিত। ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০,০০০। কিন্তু বার্মা বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণে এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৪,০০০-এ। এই সময়ের ভিতর বার্মা সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪ লক্ষ।

১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে KNLA-এর বৌদ্ধ সৈনিকরা পৃথক হয়ে যায়। এদের এই নতুন দলটির নামকরণ করা হয় Democratic Karen Buddhist Army (DKBA)। এরপর এরা বার্মা সেনা-শাসিত সরকারের সাথে যুদ্ধ-বিরতী চুক্তি করে। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে, বার্মা সেনাবাহিনী DKBA -এর সহায়তায় KNLA-এর শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ম্যানের্প্লাউ (কারেন রাজ্যের সদর দফতর) দখল করে নেয়। এই শহরে ছিল কারেন জাতীয় সংগঠন KNU-এর কেন্দ্রীয় অফিস।  ম্যানের্প্লাউ-এর পতনের পর,  KNU-এর সদর দফতর বার্মা-থাইল্যান্ডের সীমান্তে অবস্থিত মু আয়ে পু (Mu Aye Pu) -তে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের বিবিসি-র পর্তিবেদন থেকে জানা যায়, এই সংঘতের ফলে প্রায় ২ লক্ষ কারেন গৃহচ্যুত হয়েছে। এর ভিতর থাইল্যান্ডের লা টাক প্রদেশে বার্মার কারেন উদ্বাস্তু বসবাস করে।