কুরাইশ বংশ
আরব উপদ্বীপে কুরাইশ (قُرَيْشٍ)) অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি বংশ। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহম্মদ (সাঃ) এই বংশের হাশেমী শাখায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  

উৎপত্তি ও নামকরণ
ফিহর ইবনে মালিককে কুরাইশ বংশের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রধান পুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। এঁকে কখনো কখনো কুরাইশ উপাধি দেওয়া হয়। তার পূর্ণ বংশধারা হলো- ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান।

এই বংশ কিনানা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং আদনানের মাধ্যমে হযরত ইসমাইল (আ) ও হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর বংশধর। "কুরাইশ" নামটি এসেছে আরবি শব্দ
تَقَرُّشٌ থেকে, যার অর্থ "একত্রিত হওয়া" বা "সমিতি গঠন"। এ নাম গ্রহণ করা হয় যখন কুসাই ইবনে কিলাব (ফিহরের ষষ্ঠ প্রজন্মের বংশধর) তার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আত্মীয়দের একত্র করে মক্কায় বসবাস শুরু করেন এবং কাবার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

কুরাইশরা মক্কায় বসবাস করে বণিক জাতি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। তারা ভারত মহাসাগর, পূর্ব আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। কাবা শরিফের তত্ত্বাবধান ও হজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা আরব সমাজে অভিজাত ও নেতৃত্বের আসনে ছিল।

কুরাইশ বংশে অনেক শাখা-প্রশাখা ছিল ইসলাম ধর্মের বিকাশের সময় ১০টি প্রধান গোত্র ছিল। এগুলো হলো-

১. বনু হাশিম: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর গোত্র। এটি সবচেয়ে সম্মানিত।
২. বনু উমাইয়া: উমাইয়া খিলাফতের বংশ।
৩. বনু মাখযুম: আবু জাহলের গোত্র।
৪. বনু আদি: হযরত উমর (রা.)-এর গোত্র।
৫. বনু তাইম: হযরত আবু বকর (রা.)-এর গোত্র।
৬. বনু জুহরা: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর মায়ের গোত্র।
৭. বনু আসাদ: খাদিজা (রা.)-এর গোত্র।
৮. বনু আবদুদ দার: কাবার চাবি ও দায়িত্বের সাথে যুক্ত।
৯. বনু সাহম: আমর ইবনে আসের গোত্র।
১০. বনু জুমাহ: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার গোত্র।